বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, নাস্তিকতা ও সালাম প্রসঙ্গ
jugantor
বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, নাস্তিকতা ও সালাম প্রসঙ্গ

  ড. মো. কামরুজ্জামান  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

Adherents.com-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পৃথিবীতে মোট রাষ্ট্রের সংখ্যা ২০৬টি। এর মধ্যে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ১২৬টি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ৫৭টি, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ৩টি, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ১০টি। মোট ধর্মের সংখ্যা ৪,৩০০টি। প্রধান ধর্ম ১০টি।

বিশ্বজনসংখ্যা রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭৭১.৫০ কোটি।

এর মধ্যে খ্রিস্টান জনসংখ্যা প্রায় ২৪০ কোটি। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় ১৩০ কোটি। বৌদ্ধ জনসংখ্যা প্রায় ৬০ কোটি। হ্যান ধর্ম চীনের সবচেয়ে বড় ধর্ম। এদের সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। শিখ ধর্মের অনুসারী মোট ৩ কোটি। এদের প্রায় সবারই বসবাস উত্তর ভারতের পাঞ্জাবে। ইহুদি ধর্মের মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ।

যার ৫০ ভাগই ইসরাইলে বসবাস করে। বাহাই ধর্মের মোট ৭০ লাখ অনুসারী বিশ্বের ২০০টির অধিক দেশে বাস করে। জৈন ধর্মের ৪০ লক্ষাধিক লোক বাস করে ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশে। শিন্তো ধর্মের ৪০ লক্ষাধিক লোক জাপানে বাস করে। আর পৃথিবীতে নাস্তিক জনসংখ্যা প্রায় মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ (সূত্র : উইকিপিডিয়া)।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। এর মধ্যে মুসলিম প্রায় ১৪ কোটি ৮৮ লাখ। হিন্দু প্রায় এক কোটি ৪১ লাখ। খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৬ লাখের একটু বেশি। বৌদ্ধ জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। আর অন্যদের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি (সূত্র : উইকিপিডিয়া)। ধর্মের মূল বক্তব্য হল একত্ববাদ। সব ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থই স্রষ্টার একত্ববাদের কথা শেখায়।

আর আল কোরআন ইসলামের শুরু নয়। ইসলাম ধর্মের প্রথম অধ্যাদেশ শুরু হয়েছিল আদম (আ.)-কে সৃষ্টি ও তাকে পৃথিবীতে প্রেরণের মধ্য দিয়ে। আর শেষ অধ্যাদেশ শেষ হয়েছে মহানবী (সা.)-কে প্রেরণ ও আল কোরআন নাজিলের মধ্য দিয়ে।

হিন্দু গবেষকদের দাবিমতে, তাদের ঋগ্বেদ ধর্মগ্রন্থ সবচেয়ে বেশি প্রাচীন, যার বয়স সাড়ে তিন হাজার বছর। সুতরাং, তাদের ধর্মই পৃথিবীতে প্রথম ও প্রাচীন। আর সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মানবসভ্যতার বয়স ১ লাখ ৯৬ হাজার বছর। আর এ সভ্যতার প্রথম কারিগর আদম (আ.)। আর তিনি ছিলেন মুসলিম। এ মুসলিমের হাত ধরেই পৃথিবীতে সভ্যতা নির্মাণ শুরু হয়।

অতঃপর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সে সভ্যতা আজ একবিংশ শতাব্দীতে মহিরুহ আকার লাভ করেছে। সুতরাং ইসলামই হচ্ছে প্রাচীন ধর্ম। এ ধর্ম প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের মতো কতিপয় আচারসর্বস্ব ধর্ম নয়। এটির আচার, বিধান, সব হুকুম এমনকি অভিবাদন প্রক্রিয়াটিও আল্লাহর শেখানো।

ধর্ম যারা অনুশীলন করেন তারা অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী আর কালচারড হয়ে থাকেন। তাই ধার্মিকরা একে অপরের সাক্ষাতের সময় নিজ ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী বিভিন্ন বিশুদ্ধ শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করে অভিবাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন। মুসলিমরাও তার বাইরে নয়।

তারা তাদের রব ও নবী (সা.)-এর শেখানো সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ রীতি অনুযায়ী তাদের অভিবাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন। যেমন কোরআনে উল্লেখ আছে: ‘যেদিন তারা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সেদিন তাদের অভিবাদন জানানো হবে ‘সালাম’ বলে। (সুরা আহজাব : ৪৪)। “জান্নাতে পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বলা হবে ‘সালাম’।” (সুরা ইয়াসিন : ৫৮)। এ সালামের অর্থ হল, সুস্বাগতম, ওয়েলকাম, তোমাদের আগমন শুভ হোক, তোমরা সুখী থাক ইত্যাদি কামনা করা।

আমরা জানি, প্রতিটি ভাষার বিশুদ্ধ উচ্চারণের গুরুত্ব রয়েছে। বিশুদ্ধ উচ্চারণ ছাড়া অর্থ বিশুদ্ধ হবে না। ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন আবদুল মালিক বিন মারওয়ান বলেন, ‘ভাষা আর শব্দের অশুদ্ধ উচ্চারণ কাপড়ের ছিদ্র ও মুখে গুটিবসন্তের দাগের মতো।’ (আল ফাখরী, আল আদাবুস সুলতানিয়্যাহ : ১/৪৫)।

ইমাম জুহরী বলেন, ‘বিশুদ্ধ ভাষা আভিজাত্যপূর্ণ।’ সুতরাং বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা ও অভিবাদন জানানো মুসলিম ধর্মবিশ্বাসের উন্নত সংস্কৃতির অংশ। হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসীরাও তাদের নিজ ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী নমস্কার, গুড মর্নিং ইত্যাদি বিশুদ্ধ শব্দ ব্যবহার করে তাদের অভিবাদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করে থাকেন। এর মধ্যে জঙ্গিবাদ খুঁজে পাওয়া নিঃসন্দেহে এক বিরাট আজব ব্যাপার।

অনুসন্ধানে নামলে এর পেছনে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেরিয়ে আসবে। পৃথিবীর সব ধর্মই তার বিধানমতে চলতে বলে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ যুগ যুগ ধরে ধর্মের বিধানমতে না চলে ধর্মকে নিজের স্বার্থে ও মতে ব্যবহার করেছে।

ঠিক এ অবস্থায় পৃথিবীতে তিন শ্রেণির মানুষ গড়ে উড়েছে। আর তারা হল- ১. ধর্মপালনে সর্বোচ্চ চেষ্টাকারী আস্তিক। ২. ধর্মবিহীন আস্তিক ও ৩. ধর্মহীন নাস্তিক। আর গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্রসংখ্যক নাস্তিক ধর্ম মানেন না বলে ঘোষণা দিলেও তারা মানবতাবাদের কথা বলেন। অথচ এ মানবতাবাদটা মূলত ধর্মেরই কথা।

ধর্মবিহীন আস্তিক আর ধর্মহীন নাস্তিকদের প্র্যাকটিকাল জীবনদর্শন অনেকটা কাছাকাছি। এ দুই শ্রেণির মানুষের পরিবারে, সামাজিক আচার-আচরণে, সাহিত্যে, সংস্কৃতিতে, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দর্শনে প্রায় একই সুর প্রতিধ্বনিত হতে দেখা যায়। নাস্তিকতার স্লোগান যেহেতু ধর্মীয় সমাজে অচল, তাই তারা ধর্মবিহীন প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর আস্তিকদের সহায়ক ও নেয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে থাকে।

তারা হীন স্বার্থ উদ্ধারে নিজ আদর্শ মাটিচাপা দিয়ে ক্ষমতাসীনদের পদলেহন, চামচামি আর নির্লজ্জ দলবাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়েন। অবস্থা এমন হয়ে পড়ে যে, এর ফলে কখনও কখনও ক্ষমতাসীনরাই লজ্জা ও বেকায়দায় পড়ে যান।

মজার ব্যাপার হল, এদের নিজেদের কোনো কালচার বা সংস্কৃতি নেই। এরা যে আস্তিক সমাজে বাস করে, সেই সমাজের বিভিন্ন কালচার ধার করে কখনও বিশুদ্ধ, আবার কখনও অশুদ্ধ রীতিতে স্লামালিকুম, গুড মর্নিং ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে থাকে; যার কোনো বিশুদ্ধ সাহিত্যিক বা ব্যাকরণিক রূপ নেই। যেমন, অধ্যাপক জিয়া রহমান। জিয়া আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আলো’; আর রহমানও আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘দয়ালু ও করুণাময়’। তাহলে এ নামের অর্থ দাঁড়ায়, ‘আলো করুণাময়’ কিংবা ‘করুণাময় আলো’। ইংরেজি অনুবাদ করলে হয় Light merciful বা Merciful light. এখানে দুটি আরবি ও ইংরেজি শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যটির কোনো পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না। কারণ, এখানে আরবি ব্যাকরণ ও ভাষাগত ভুল হয়েছে। তিনি যদি তার নাম ‘জিয়াউর রহমান’ রাখতেন তাহলে বাক্য সঠিক হতো। তখন এ নামের অর্থ হতো-‘পরম করুণাময় আল্লাহর আলো।’

সুতরাং, আসসালামু আলাইকুম বিশুদ্ধ ভাষায় বলতে ও শিখতে ব্যাকরণগত বাধ্যবাধকতা যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বাধ্যবাধকতা। যদি এ বাধ্যবাধকতা অমান্য করা হয়, তাহলে জিয়া রহমানের মতো জগাখিচুড়ি মার্কা অর্থ প্রকাশ পাবে এবং এর দ্বারা নিরেট মূর্খতা প্রকাশ পাবে। আরবি ব্যাকরণ জানা থাকলে এ রকমভাবে নিজের নাম হয়তো জিয়া সাহেব রাখতেন না। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়েও তিনি যেমন অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন, ঠিক তেমনি সালাম এবং আল্লাহ হাফিজ নিয়ে কথা বলেও অজ্ঞতার পরিচয় দিয়ছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হল, তিনি যদি অজ্ঞতাবশত বলে থাকেন, তাহলে শুধরে নেবেন আর এ দেশের ১৭ কোটি আস্তিকের কাছে ক্ষমা চাইবেন। আর যদি তিনি নাস্তিক হয়ে থাকেন, তাহলে সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু তাই বলে ১৫ কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে তিনি আঘাত দিতে পারেন না। এ অপরাধে তাকে যথাযথ আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যদিকে তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে এক অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছেন কি না, সেটাও কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।

অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

[email protected]

বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, নাস্তিকতা ও সালাম প্রসঙ্গ

 ড. মো. কামরুজ্জামান 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

Adherents.com-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পৃথিবীতে মোট রাষ্ট্রের সংখ্যা ২০৬টি। এর মধ্যে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ১২৬টি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ৫৭টি, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ৩টি, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ১০টি। মোট ধর্মের সংখ্যা ৪,৩০০টি। প্রধান ধর্ম ১০টি।

বিশ্বজনসংখ্যা রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭৭১.৫০ কোটি।

এর মধ্যে খ্রিস্টান জনসংখ্যা প্রায় ২৪০ কোটি। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় ১৩০ কোটি। বৌদ্ধ জনসংখ্যা প্রায় ৬০ কোটি। হ্যান ধর্ম চীনের সবচেয়ে বড় ধর্ম। এদের সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। শিখ ধর্মের অনুসারী মোট ৩ কোটি। এদের প্রায় সবারই বসবাস উত্তর ভারতের পাঞ্জাবে। ইহুদি ধর্মের মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ।

যার ৫০ ভাগই ইসরাইলে বসবাস করে। বাহাই ধর্মের মোট ৭০ লাখ অনুসারী বিশ্বের ২০০টির অধিক দেশে বাস করে। জৈন ধর্মের ৪০ লক্ষাধিক লোক বাস করে ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশে। শিন্তো ধর্মের ৪০ লক্ষাধিক লোক জাপানে বাস করে। আর পৃথিবীতে নাস্তিক জনসংখ্যা প্রায় মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ (সূত্র : উইকিপিডিয়া)।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। এর মধ্যে মুসলিম প্রায় ১৪ কোটি ৮৮ লাখ। হিন্দু প্রায় এক কোটি ৪১ লাখ। খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৬ লাখের একটু বেশি। বৌদ্ধ জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। আর অন্যদের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি (সূত্র : উইকিপিডিয়া)। ধর্মের মূল বক্তব্য হল একত্ববাদ। সব ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থই স্রষ্টার একত্ববাদের কথা শেখায়।

আর আল কোরআন ইসলামের শুরু নয়। ইসলাম ধর্মের প্রথম অধ্যাদেশ শুরু হয়েছিল আদম (আ.)-কে সৃষ্টি ও তাকে পৃথিবীতে প্রেরণের মধ্য দিয়ে। আর শেষ অধ্যাদেশ শেষ হয়েছে মহানবী (সা.)-কে প্রেরণ ও আল কোরআন নাজিলের মধ্য দিয়ে।

হিন্দু গবেষকদের দাবিমতে, তাদের ঋগ্বেদ ধর্মগ্রন্থ সবচেয়ে বেশি প্রাচীন, যার বয়স সাড়ে তিন হাজার বছর। সুতরাং, তাদের ধর্মই পৃথিবীতে প্রথম ও প্রাচীন। আর সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মানবসভ্যতার বয়স ১ লাখ ৯৬ হাজার বছর। আর এ সভ্যতার প্রথম কারিগর আদম (আ.)। আর তিনি ছিলেন মুসলিম। এ মুসলিমের হাত ধরেই পৃথিবীতে সভ্যতা নির্মাণ শুরু হয়।

অতঃপর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সে সভ্যতা আজ একবিংশ শতাব্দীতে মহিরুহ আকার লাভ করেছে। সুতরাং ইসলামই হচ্ছে প্রাচীন ধর্ম। এ ধর্ম প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের মতো কতিপয় আচারসর্বস্ব ধর্ম নয়। এটির আচার, বিধান, সব হুকুম এমনকি অভিবাদন প্রক্রিয়াটিও আল্লাহর শেখানো।

ধর্ম যারা অনুশীলন করেন তারা অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী আর কালচারড হয়ে থাকেন। তাই ধার্মিকরা একে অপরের সাক্ষাতের সময় নিজ ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী বিভিন্ন বিশুদ্ধ শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করে অভিবাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন। মুসলিমরাও তার বাইরে নয়।

তারা তাদের রব ও নবী (সা.)-এর শেখানো সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ রীতি অনুযায়ী তাদের অভিবাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন। যেমন কোরআনে উল্লেখ আছে: ‘যেদিন তারা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সেদিন তাদের অভিবাদন জানানো হবে ‘সালাম’ বলে। (সুরা আহজাব : ৪৪)। “জান্নাতে পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বলা হবে ‘সালাম’।” (সুরা ইয়াসিন : ৫৮)। এ সালামের অর্থ হল, সুস্বাগতম, ওয়েলকাম, তোমাদের আগমন শুভ হোক, তোমরা সুখী থাক ইত্যাদি কামনা করা।

আমরা জানি, প্রতিটি ভাষার বিশুদ্ধ উচ্চারণের গুরুত্ব রয়েছে। বিশুদ্ধ উচ্চারণ ছাড়া অর্থ বিশুদ্ধ হবে না। ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন আবদুল মালিক বিন মারওয়ান বলেন, ‘ভাষা আর শব্দের অশুদ্ধ উচ্চারণ কাপড়ের ছিদ্র ও মুখে গুটিবসন্তের দাগের মতো।’ (আল ফাখরী, আল আদাবুস সুলতানিয়্যাহ : ১/৪৫)।

ইমাম জুহরী বলেন, ‘বিশুদ্ধ ভাষা আভিজাত্যপূর্ণ।’ সুতরাং বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা ও অভিবাদন জানানো মুসলিম ধর্মবিশ্বাসের উন্নত সংস্কৃতির অংশ। হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসীরাও তাদের নিজ ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী নমস্কার, গুড মর্নিং ইত্যাদি বিশুদ্ধ শব্দ ব্যবহার করে তাদের অভিবাদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করে থাকেন। এর মধ্যে জঙ্গিবাদ খুঁজে পাওয়া নিঃসন্দেহে এক বিরাট আজব ব্যাপার।

অনুসন্ধানে নামলে এর পেছনে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেরিয়ে আসবে। পৃথিবীর সব ধর্মই তার বিধানমতে চলতে বলে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ যুগ যুগ ধরে ধর্মের বিধানমতে না চলে ধর্মকে নিজের স্বার্থে ও মতে ব্যবহার করেছে।

ঠিক এ অবস্থায় পৃথিবীতে তিন শ্রেণির মানুষ গড়ে উড়েছে। আর তারা হল- ১. ধর্মপালনে সর্বোচ্চ চেষ্টাকারী আস্তিক। ২. ধর্মবিহীন আস্তিক ও ৩. ধর্মহীন নাস্তিক। আর গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্রসংখ্যক নাস্তিক ধর্ম মানেন না বলে ঘোষণা দিলেও তারা মানবতাবাদের কথা বলেন। অথচ এ মানবতাবাদটা মূলত ধর্মেরই কথা।

ধর্মবিহীন আস্তিক আর ধর্মহীন নাস্তিকদের প্র্যাকটিকাল জীবনদর্শন অনেকটা কাছাকাছি। এ দুই শ্রেণির মানুষের পরিবারে, সামাজিক আচার-আচরণে, সাহিত্যে, সংস্কৃতিতে, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দর্শনে প্রায় একই সুর প্রতিধ্বনিত হতে দেখা যায়। নাস্তিকতার স্লোগান যেহেতু ধর্মীয় সমাজে অচল, তাই তারা ধর্মবিহীন প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর আস্তিকদের সহায়ক ও নেয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে থাকে।

তারা হীন স্বার্থ উদ্ধারে নিজ আদর্শ মাটিচাপা দিয়ে ক্ষমতাসীনদের পদলেহন, চামচামি আর নির্লজ্জ দলবাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়েন। অবস্থা এমন হয়ে পড়ে যে, এর ফলে কখনও কখনও ক্ষমতাসীনরাই লজ্জা ও বেকায়দায় পড়ে যান।

মজার ব্যাপার হল, এদের নিজেদের কোনো কালচার বা সংস্কৃতি নেই। এরা যে আস্তিক সমাজে বাস করে, সেই সমাজের বিভিন্ন কালচার ধার করে কখনও বিশুদ্ধ, আবার কখনও অশুদ্ধ রীতিতে স্লামালিকুম, গুড মর্নিং ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে থাকে; যার কোনো বিশুদ্ধ সাহিত্যিক বা ব্যাকরণিক রূপ নেই। যেমন, অধ্যাপক জিয়া রহমান। জিয়া আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আলো’; আর রহমানও আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘দয়ালু ও করুণাময়’। তাহলে এ নামের অর্থ দাঁড়ায়, ‘আলো করুণাময়’ কিংবা ‘করুণাময় আলো’। ইংরেজি অনুবাদ করলে হয় Light merciful বা Merciful light. এখানে দুটি আরবি ও ইংরেজি শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যটির কোনো পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না। কারণ, এখানে আরবি ব্যাকরণ ও ভাষাগত ভুল হয়েছে। তিনি যদি তার নাম ‘জিয়াউর রহমান’ রাখতেন তাহলে বাক্য সঠিক হতো। তখন এ নামের অর্থ হতো-‘পরম করুণাময় আল্লাহর আলো।’

সুতরাং, আসসালামু আলাইকুম বিশুদ্ধ ভাষায় বলতে ও শিখতে ব্যাকরণগত বাধ্যবাধকতা যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বাধ্যবাধকতা। যদি এ বাধ্যবাধকতা অমান্য করা হয়, তাহলে জিয়া রহমানের মতো জগাখিচুড়ি মার্কা অর্থ প্রকাশ পাবে এবং এর দ্বারা নিরেট মূর্খতা প্রকাশ পাবে। আরবি ব্যাকরণ জানা থাকলে এ রকমভাবে নিজের নাম হয়তো জিয়া সাহেব রাখতেন না। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়েও তিনি যেমন অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন, ঠিক তেমনি সালাম এবং আল্লাহ হাফিজ নিয়ে কথা বলেও অজ্ঞতার পরিচয় দিয়ছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হল, তিনি যদি অজ্ঞতাবশত বলে থাকেন, তাহলে শুধরে নেবেন আর এ দেশের ১৭ কোটি আস্তিকের কাছে ক্ষমা চাইবেন। আর যদি তিনি নাস্তিক হয়ে থাকেন, তাহলে সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু তাই বলে ১৫ কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে তিনি আঘাত দিতে পারেন না। এ অপরাধে তাকে যথাযথ আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যদিকে তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে এক অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছেন কি না, সেটাও কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।

অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

[email protected]