নদী ও পরিবেশ

  ড. খুরশিদ আলম ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নদী

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় (১৯৯০-১৯৯৫) প্রথম নদী নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাই। নদীর পানির গুণগত মান, তার বিবিধ ব্যবহার, নদীর গতি পরিবর্তন, মানুষের ঘর-বাড়ি, জমিজমা এবং শহর-বন্দর ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়। লক্ষণীয় বিষয় হল, এক সময় নদী সম্পর্কে ভাবার মানুষ খুব কমই দেখা গেছে।

গাছ থাকতে যেমন গাছের প্রতি অনেকেই মনোযোগ দেয় না, তেমনি নদী সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে বিষয়টি আর আগের মতো নেই। নদীর কয়েকটি সমস্যা, বিশেষ করে নদী ভরাট, নদী দখল, নদীর পানির গুণগত পরিবর্তন এবং প্রতি বছর নদী ভাঙন- এসব বিষয় আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

গত বছর জাতীয় পরিবেশ নীতি-২০১৮ অনুমোদন করা হয় যা পরিবেশের উন্নয়নে কিছুটা হলেও ইতিবাচক অবদান রাখছে। শহর এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে আগের চেয়ে তৎপরতা বেড়েছে কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। রিসাইকেলিং কিছুটা বেড়েছে, তবে তাও খুব সীমিত পরিসরে। বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনে সরকারি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে তাও খুব সীমিত পরিসরে। বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত আছে। প্লাস্টিকের রিসাইকেলিং অব্যাহত আছে, যা বিভিন্ন সময় দেখা যায়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের তরল, বায়বীয় দূষণমাত্রা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সীমিত আকারে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। জিরো ডিসচার্জ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যা মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ কার্যকর করতে পেরেছে।

উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় কাঁকড়া ও চিংড়ি চাষ বাড়ছে, তবে তা এখনও পকেট এলাকায় সীমিত রয়েছে। জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের শহরের দিকে আসার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

কারণ নদীনির্ভর জীবিকা তেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে না; বরং হ্রাস পাচ্ছে। প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানির গুণগত মান পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। তাতে গত বর্ষায় পানির মান গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে ছিল বলে সরকার থেকে দাবি করা হয়।

সরকার ১৩টি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে সেন্টমার্টিনকে রক্ষার জন্য পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে এবং সেখানে কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। হালদা নদীর সংরক্ষণে কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য প্রধান নদ-নদীর কেবল নাব্য রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখনও গ্রহণ করা হয়নি।

ড. খুরশিদ আলম : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল রিসার্চ ট্রাস্ট; আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×