সরকারি সেবা দেবে জেলখাটা কর্মচারী!
Advertisement
মো. ফিরোজ মিয়া
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অবাক হচ্ছেন! অবাক হওয়ার কিছু নেই। সরকারি চাকরি আইনের বদৌলতে এখন সরকারি সেবা পাওয়ার জন্য দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জেলখাটা এবং দণ্ডিত সরকারি কর্মচারীদের দ্বারস্থ হতে হবে অসহায় নাগরিকদের। জাতীয় সংসদ যখন এমন আইন পাস করে, যার কারণে দুর্নীতিসহ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ও জেলখাটা সরকারি কর্মচারী চাকরিতে বহাল থেকে সরকারি সেবার দায়িত্ব পায়, তখন সাধারণ নাগরিকরা সত্যি অসহায়।
দুর্নীতির অপরাধে দণ্ডিত নয় বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত নয়, এরূপ ফৌজদারি অপরাধে যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখা দোষের কিছু নয়। কিন্তু নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী, যেমন দুর্নীতি, চুরি, প্রতারণা, জালিয়াতি, ছিনতাই, যৌন হয়রানি, নারীর শ্লীলনতাহানি, জুয়া, মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধ, তহবিল তছরুপ, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, ইত্যাদির মতো নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত অপরাধীকে সুরক্ষার নামে যদি চাকরিতে বহাল থাকার অনৈতিক সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছুই বলার থাকে না।
সরকারি চাকরি আইনের প্রথম পর্যায়ের খসড়ায় দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখার সুযোগ ছিল না। কিন্তু জাতীয় সংসদ কর্তৃক পাসকৃত সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারায় দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ধরনের বিধান কি নিছক ভুল না ইচ্ছাকৃত ভুল? নিছক ভুল হলে এত সমালোচনার পর এত দীর্ঘ সময়ে তা সংশোধন হতো এবং সংশোধন না করে আইনটিকে কার্যকর করা হতো বলে মনে হয় না। দুর্নীতিবাজ এবং জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত মুষ্টিমেয় কতিপয় প্রভাবশালী সরকারি কর্মচারীর কারণেই হয়তো এমন বিধান আইনে সন্নিবেশিত হয়ে থাকতে পারে এবং তারা তাদের অপকর্ম অব্যাহত রাখার স্বার্থেই হয়তো সংশোধনের জন্য বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গোচরে আনার প্রয়োজন মনে করছেন না। কিন্তু সরকারি চাকরিতে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মচারীর সংখ্যাই বেশি। আইনের এরূপ বিধান ওইসব সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মচারীর সামাজিক মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সরকারি চাকরি আইন বাংলাদেশ গেজেটের নভেম্বর, ২০১৮ তারিখের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং ১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ থেকে কার্যকর করা হয়। আইনটির ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা এক বছর মেয়াদের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত হবেন। কিন্তু আদালত কর্তৃক অনূর্ধ্ব এক বছর মেয়াদের কোনো কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হলে তার ওপর তিরস্কার অথবা একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা অথবা নিু পদ বা নিু বেতন স্কেলে নামিয়ে দেয়া অথবা ক্ষতিপূরণ আদায় করার দণ্ড আরোপ করা যাবে। অর্থাৎ চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দণ্ড আরোপ করা যাবে না। এরূপ বিধানের ফলে দুর্নীতিসহ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তির চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ রহিতকৃত পাবলিক সার্ভেন্ট ডিসমিসাল অন কনভিকশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ তে এরূপ সুযোগ ছিল না। রহিতকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো কর্মচারী কোনো ফৌজদারি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা এক বছরের বেশি কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকার অধিক জরিমানা দণ্ডের বিধানসংবলিত অপরাধে যে কোনো মেয়াদে দণ্ডিত হলে বা যে কোনো পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হলে তাৎক্ষণিভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হতেন। অর্থাৎ চাকরিতে বহাল থাকার কোনোরূপ সুযোগই ছিল না। যেমন- চুরির শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড। কোনো কর্মচারী চুরির অপরাধে এক দিনের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও চাকরি থেকে বরখাস্ত হতেন। এ ক্ষেত্রে অপরাধটির প্রকৃতি ও নৈতিকতার দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে, প্রকৃত দণ্ডের মেয়াদ বিবেচনা করা হয়নি। কারণ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে চাকরিতে বহাল রাখা আদৌ সমীচীন মনে না হওয়ার কারণেই এ ধরনের বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছিল। অথচ সরকারি চাকরি আইনে সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষার নামে এ বিধানটিকে অযৌক্তিকভাবে নমনীয় করার কারণে ছিনতাই, চুরি, নারীর শ্লীলনতাহানি, যৌন হয়রানি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ, দুর্নীতি, ইত্যাদি প্রকৃতির নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে অনূর্ধ্ব এক বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা যে কোনো পরিমাণ জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত হলেও চাকরিতে বহাল থাকবে। এরূপ বিধান সরকারের দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য সহায়ক নয় এবং সরকারি কর্মচারীদের ভাবমূর্তির জন্যও সহায়ক নয়।
আইনের এরূপ বিধানের ফলে যেসব অসুবিধা হবে এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি। সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, উচ্চতর আদালত দুদকের এক মামলায় এক কর্মচারীর কারাদণ্ডের আদেশ বাতিল করে ৫০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। জানামতে, দুর্নীতির অন্য একটি মামলায় এক কর্মচারীর সম্ভবত চার মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারার বিধান অনুযায়ী উল্লেখিত দু’জন দণ্ডিত কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসর দেয়ার কোনো সুযোগই নেই। বাধ্য হয়েই ৪২ ধারায় বর্ণিত লঘুদণ্ড আরোপ করে চাকরিতে বহাল রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডিত কর্মচারীর বিরুদ্ধে একই অপরাধে বিদ্যমান সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড আরোপ করা হলে, তা হবে সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারার বিধানের পরিপন্থী। ফলে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার বিধান অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্ত বা চাকরি থেকে অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসর দণ্ড আরোপের আদেশ অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং ওই দণ্ডিত কর্মচারী সরকারি চাকরিতে বহাল হবেন। অথচ রহিতকৃত পাবলিক সার্ভেন্ট ডিসমিসাল অন কনভিকশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ অনুযায়ী উভয় ক্ষেত্রে কর্মচারীদ্বয় তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হতেন।
বর্তমানে দুদক ফাঁদ পেতে অনেক কর্মচারীকে ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার করছে এবং দুর্নীতির অপরাধের জন্য অনেক মামলাও করছে। এসব অধিকাংশ মামলায়ই জরিমানার দণ্ড অধিক হলেও এক বছরের অধিক কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা কম। যদি তাই হয়, তাহলে এদের অধিকাংশই চাকরিতে বহাল হয়ে সরকারি সেবাদানে আবারও নিয়োজিত হবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি এসব জেলখাটা বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত কর্মচারীদের কাছ থেকে সেবা নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন! এছাড়া একটা প্রবাদ আছে, কয়লার ময়লা যায় না ধুলে। কিছুটা হলেও সত্যতা না থাকলে তা প্রবাদ হতো না। দুর্নীতিবাজ এসব কর্মচারীর লজ্জা ভেঙে যাওয়ায় সমাজ তাকে কী চোখে দেখে তা মোটেও ভাববে বলে মনে হয় না। মান-মর্যাদার বিষয়কেও কোনো গুরুত্ব দেবে বলে মনে হয় না। এছাড়া তারা মামলায় ব্যয়িত খরচ বা আদালতের আরোপিত দণ্ডের অর্থ আদায়ের জন্য বা অধিকতর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের লোভে আরও যে বেপরোয়া হয়ে উঠবে না, এর নিশ্চয়তা কে দিতে পারবে!
এবার আসা যাক নৈতিক স্খলনজনিত অন্যান্য অপরাধে দণ্ডিত অপরাধীদের বিষয়ে। নৈতিক স্খলনজনিত সব ফৌজদারি অপরাধের সাজার মেয়াদের বিধান আইনে এক বছরের অধিক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সে সঙ্গে জরিমানা দণ্ডেরও বিধান আছে। যার কারণে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে বা কেবল জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত কর্মচারীর রহিতকৃত পাবলিক সার্ভেন্ট ডিসমিসাল অন কনভিকশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ অনুযায়ী চাকরি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হতেন। কিন্তু সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারার বিধান অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা শত কোটি টাকা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত হলেও চাকরিতে বহাল থাকবেন। সাধারণত চুরি, প্রতারণা, ছিনতাই, রাহাজানি, নারীর শ্লীলনতাহানি, যৌন হয়রানি ইত্যাদি ধরনের অপরাধে জরিমানা-দণ্ড যাই হোক, কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছরের বেশি খুব কমই হয়। এসব অপরাধে আদালত কর্তৃক অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড ভোগকারী কর্মচারী চাকরিতে বহাল হলে জনমনে কী প্রভাব পড়বে এবং সরকারি কর্মচারীদের ভাবমূর্তি সমাজে কীরূপ হবে তা ভেবে দেখা হয়েছে বলে মনে হয় না। কোনো স্বীকৃত চোর, প্রতারক, জালিয়াত, ছিনতাইকারী, যৌতুক দাবিকারী, নারীর শ্লীলতাহানিকারী, যৌন হয়রানিকারী যদি সরকারি দায়িত্ব পালন করে, সরকারি সেবা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়, তবে তা কি সরকারের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে! শ্লীলতাহানিকারী বা যৌন হয়রানিকারী দণ্ডিত সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে কাজ করতে কোনো নারী সহকর্মী কি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে! সরকারি মালামাল চুরি, তছরুপ, আত্মসাৎ, ইত্যাদি ধরনের অপরাধে দণ্ডিত সরকারি কর্মচারীর জিম্মায় বা তত্ত্বাবধানে কি সরকারি মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে!
কোনো পেশাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়, কেবল উদাহরণ হিসেবে এখানে উল্লেখ করা হল। ধরা যাক সরকারি স্কুল বা সরকারি কলেজের কোনো ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অপরাধে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষককে আদালত অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। ওই দণ্ডিত শিক্ষক যদি সাজাভোগ শেষে পুনরায় শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দেন, তাহলে কোনো অভিভাবকই কি ওই শিক্ষকের কাছে বা ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার কন্যাসন্তানকে পাঠাতে স্বচ্ছন্দবোধ করবে? এছাড়া কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা দুদকের কোনো কর্মচারী যদি দুর্নীতি বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দণ্ড ভোগ শেষে পুনরায় কাজে যোগ দেন এবং কোনো মামলার তদন্ত কাজের দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে প্রতিপক্ষ কি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বা দুদক কর্মচারীর নৈতিকতার বা নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ পাবে না! অনুরূপভাবে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ শেষে বিচারকার্যে নিয়োজিত হলে জনমনে ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক কার্যক্রম কি গ্রহণযোগ্য হবে!
দুদক বেশকিছু সাবরেজিস্ট্রার, ভূমি অফিসের কর্মচারীকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। এসব কর্মচারীর মধ্যে যারা অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, তারা যখন কারাভোগ শেষে স্বপদে বহাল হবে, তখন জনগণ কি তাদের কাছে সেবার জন্য যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে! এছাড়া অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত কর্মচারী যেহেতু দণ্ডভোগ শেষে পুনরায় চাকরিতে বহাল হবেন, সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই ওই পদটি শূন্য হবে না এবং পদটিতে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ বা পদোন্নতি প্রদান করা যাবে না। ফলে পদটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং জনগণও ওই পদটির সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৫(২) অনুচ্ছেদের বিধান মতে, যেখানে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত কর্মচারীকে গুরুদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কোনোরূপ কারণ দর্শানোর প্রয়োজন হয় না, সে ক্ষেত্রে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা সংবিধানের উক্ত অনুচ্ছেদের স্পিরিটের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিবেচনা করে দেখা উচিত। বাংলাদেশের সংবিধানের উক্ত বিধান এবং ভারতের সংবিধানের ৩১১(২) অনুচ্ছেদের বিধান একইরূপ। ভারতে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত কোনো কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখার কোনোরূপ আইন করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। উপরন্তু, ভারতের আদালতেও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখার পক্ষে কোনোরূপ সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলেও আমার জানা নেই।
নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত কোনো অপরাধীকে যদি রাষ্ট্রের কোনো চাকরিতে নিয়োগ করা না যায়, তবে চাকরিরত অবস্থায় নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত অপরাধীকে লঘুদণ্ড আরোপ করে চাকরিতে বহাল রাখার পক্ষে কি কোনো যুক্তি থাকতে পারে! এছাড়া কর্মচারীদের সুরক্ষার নামে এরূপ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রেখে সরকারের বা রাষ্ট্রের, সর্বোপরি জনগণের কী লাভ, তা ভেবে দেখা কি উচিত নয়!
দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের জোরালো প্রচারণা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সরকারি চাকরি আইনের এরূপ বিতর্কিত দুর্নীতি প্রতিরোধের অন্তরায় বিধানগুলো পর্যালোচনাপূর্বক এ ব্যাপারে সুপারিশ করার আইনে অর্পিত দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশন পালন করবে বলেই জনগণের বিশ্বাস।
মো. ফিরোজ মিয়া : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, চাকরি ও আইনসংক্রান্ত গ্রন্থের লেখক
