যেভাবে বিধ্বস্ত হল বিমানটি

  সাংগাম প্রসেইন ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিমান

পাইলট আবিদ সুলতানের পরিচালনায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা বিএস ২১১ ফ্লাইটটিকে কোটেশ্বরের ওপর দিয়ে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের রানওয়ের দক্ষিণ পাশে (রানওয়ে-০২) ল্যান্ড করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ ফ্লাইটটি রুট পরিবর্তন করে ফেলে এবং জাদিবুতির ওপর দিয়ে বাম দিকে মোড় নেয় এবং রানওয়ে ২০-এর দিকে (উত্তর সীমান্তের বউদা পাশে) অগ্রসর হতে থাকে।

ফ্লাইট ২১১-এর পাইলট এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের (এটিসি) মধ্যকার রেডিও কথোপকথন বলছে, উত্তর প্রান্তের দিকে না যেতে এবং ফ্লাইটের স্বাভাবিক অবস্থান ঠিক রাখতে প্রাথমিকভাবে পাইলটকে এটিসি থেকে সতর্ক করে দেয়া হয়।

পাইলটের জবাব ছিল, ‘ঠিক আছে, আমরা ডানদিক অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছি।’ কয়েক সেকেন্ড পর পাইলট আবার জবাব দিলেন, ঠিক আছে, রানওয়ে ০২-এর জন্য প্রস্তুত আছি। এটিসির প্রতিক্রিয়া ছিল- ‘সেটা ভালো, কিন্তু ল্যান্ড করবেন না। পথ পরিষ্কার নয়, সেখানে আরেকটি বিমান এগিয়ে আসছে।’

সে মুহূর্তে ভূমিতে থাকা নেপালি পাইলটরা এটিসির সতর্কবার্তা শুনছিলেন যে, ফ্লাইট ২১১-এর পাইলট বুঝতে পারছেন না মনে হয়। ‘পাইলট সম্ভবত বুঝতে পারছেন না এবং তাকে রাডার কর্তৃক সাহায্য করতে হবে যে কোনো ক্ষতি থেকে বাঁচানোর জন্য বিমানটিকে যেন বের করে নেয়া হয়, কারণ পাহাড়ের দৃশ্যমান পরিস্থিতি (দেখার স্পষ্টতা) খারাপ।’ নেপালি পাইলটদের মধ্যকার এমন কথোপকথন শোনা যায়।

পরবর্তী সময়ে এটিসি উত্তর দেয়, ‘বাংলা স্টার ২১১’, রানওয়ে খালি হয়েছে। আপনি কি রানওয়ে ০২ বা রানওয়ে ২০-তে ল্যান্ড করতে চান? পাইলট জবাব দেন, ‘আমরা রানওয়ে ২০-তে ল্যান্ড করতে চাই।’ তখন এটিসি বিমানটিকে ওই পয়েন্টে ল্যান্ড করার জন্য পরিষ্কারভাবে জানায়। তখন পাইলটকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন? প্রাথমিকভাবে পাইলটের জবাব ছিল ‘নেতিবাচক’। তখন তাকে ডানে মোড় নিতে বলা হয়। এবার পাইলট বলেন, ‘ইতিবাচক’- রানওয়ে দেখা যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে এটিসি ল্যান্ড করার জন্য রানওয়ে ০২ পরিষ্কার করে। ‘এ পর্যায়ে ল্যান্ড করার জন্য রানওয়ে ০২-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার আগে রানওয়েরই উত্তরাংশে দু’বার চক্কর দেয় বিমানটি।’ কান (Caan)-এর মহাপরিচালক সঞ্জিব গৌতম এমনটিই বলেছেন। এটিসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিধ্বস্ত হওয়া বিএস-২১১ ফ্লাইটটি নেপাল এয়ারলাইন্সের হ্যাঙ্গারের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে এবং এটিসির কন্ট্রোল টাওয়ার প্রায় স্পর্শ করে ফেলেছিল।’

রেডিও কথোপকথনে শোনা গেছে, কিছুক্ষণ নীরবতার পর এটিসি সতর্ক করছে, ‘আমি আবারও বলছি, মোড় নিন...!’ সতর্কতামূলক শব্দ থেকে বোঝা যায় কন্ট্রোলাররা দেখতে পাচ্ছিলেন বিমানটি টাওয়ারের একেবারে কাছাকাছি। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর এটিসি চিৎকার করে বলছিল ‘ফায়ার’, যার অর্থ হচ্ছে বিমানটি বিধ্বস্ত হল। তারপর রানওয়ে বন্ধ হয়ে যায়।

গৌতম বলেন, ‘বিমানটি এটিসি টাওয়ারের ওপর দিয়ে তীব্রভাবে একটি মোড় নিল উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে পূর্বের দিকে। মোড় নেয়ার পর এটি কন্ট্রোল টাওয়ারের একেবারে কাছাকাছি ধাক্কা খাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করল। তখন বিমানটি এটিসি টাওয়ারের বিপরীতে রানওয়ের প্রান্তে গিয়ে ধাক্কা খায় এবং বিমানবন্দরের বাউন্ডারির ভেতরের বেড়া ভেঙে পিছলে পড়ে। এটি রানওয়ে থেকে ২০০ মিটার দূরের তৃণভূমিতে ছিটকে পড়ে। এতে করে তেল চুইয়ে পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ আগুন ধরে যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগুন নেভাতে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যায়। উদ্ধারকর্মী ও অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা দুই মিনিটের মধ্যে বিধ্বস্ত হওয়ার স্থানটিতে গিয়ে পৌঁছান। বস্তুত উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত সাড়ার কারণে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।’

বিমানটি জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেয়নি। কানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিমানটির পাইলট পরিস্থিতি বুঝতে পারছিলেন না, নাকি ফ্লাইটটি বড় ধরনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটিতে আক্রান্ত হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যখন বিমানটি অগ্রসর হচ্ছিল, তখন এর পেছনে থাকা বিমানগুলো এটিসিতে সংকেত দিচ্ছিল যে, ফ্লাইট ২১১ অস্বাভাবিক আচরণ করছে অথবা এটি অস্থিতিশীল ছিল।’ তিনি আরও যোগ করেন, বিমানবন্দরের আবহাওয়া এবং বাতাসের পরিস্থিতি তখন স্বাভাবিকই ছিল।

তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে দায়ী করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ। বিবিসি জানিয়েছে, ঢাকায় নিজের অফিস থেকে তিনি বলেন, ‘টাওয়ার থেকে ভুল নির্দেশনা দেয়া হচ্ছিল। আমাদের পাইলটের কোনো ত্রুটি ছিল না।’

দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট থেকে অনুবাদ: সাইফুল ইসলাম

সাংগাম প্রসেইন: নেপালি সাংবাদিক

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter