একাত্তরের ঝর্নাতলায়

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের প্রাক্কালে যা ভাবছি

  মহিউদ্দিন আহমদ ০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে
লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ পরবর্তী দেশের অবস্থা বর্ননা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য আহ্বান করছেন।

স্মৃতিটি ১৯৭১-এর লন্ডনে। স্থান : দক্ষিণ লন্ডনের বালহামের ২ নম্বর টেম্পারলি রোড। বাড়ির মালিক ওয়ালি আশরাফ-রেবেকা ওয়ালি দম্পতি। এ ঠিকানা থেকে আবার বাংলাদেশ-ভারতের বাইরে দুনিয়ার প্রথম এবং একমাত্র বাংলা সাপ্তাহিক ‘জনমত’ও প্রকাশিত হয়। দোতলা বাড়ির একটি কামরায় ‘জনমত’-এর কাজ চলে। দোতলার অন্য বেডরুম দুটি এ দম্পতি এবং তাদের বাচ্চাদের জন্য নির্ধারিত। নিচতলায় বসার ঘর, রান্নাঘর ‘ফকির সমিতি’র দখলে। ‘ফকির সমিতি’ মানে বেকার, টাকা-পয়সাহীন, নির্দিষ্ট ঠিকানাবিহীন, রাষ্ট্রবিহীন এক দঙ্গল টগবগে তরুণ। এদের সবাই আবার মুক্তিযুদ্ধের সার্বক্ষণিক নিবেদিতপ্রাণ, কর্মী। ভারতের বাইরে, লন্ডন তথা যুক্তরাজ্য যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, তার পেছনে এ তরুণ গোষ্ঠীরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অবদান ছিল।

তাদেরই একজন মঞ্জু- পুরো নাম এ জেড মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু। এ মুহূর্তে এ ফকির সমিতির সদস্য আরও যে কয়েকজনের নাম মনে পড়ছে, তারা হলেন- নজরুল ইসলাম আলো, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আবদুল মজিদ চৌধুরী মঞ্জু, ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রয়াত একেএম আবদুর রউফ, রফিক আহমেদ খান ইনু। পাকিস্তান হাইকমিশনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমিও যখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার আনুগত্য ঘোষণা করি, তখন থেকে আমিও অনানুষ্ঠানিক এ ফকির সমিতির একজন সদস্য। আমরা সবাই তখন প্রায় একই বয়সী।

তবে এখন শুধু মঞ্জুর কথা।

আবছা আবছা মনে পড়ে, মাসটি নভেম্বর হবে। প্রচণ্ড শীত। লন্ডনে বরফও পড়ছিল তখন।

কী বিশেষ কারণে, আমি আগে থেকেই ওয়ালি-আশরাফ দম্পতির বাসায় আছি।

রাত ১২টা কী ১টার দিকে বরফ মাথায় মঞ্জু এবং আরও দু-একজন ঢুকল বাসায়। প্রথমে বেরেকা ভাবির কাছে চা-কফি চাইল, তারপর চাইল খাবার- গরম খাবার।

ভাবি চোখে-মুখে কপট চেহারায়, রাগ করে বললেন, আপনারা রাত ১২টা-১টায় ক্ষুধার্ত হয়ে বাসায় আসবেন, আর তাৎক্ষণিক গরম খাবারও চাইবেন, আপনারা কি আগে খবর দিয়ে এসেছেন যে গরম ভাত রান্না করে অপেক্ষায় থাকব? রেবেকা ভাবির এমন প্রতিক্রিয়া এই প্রথম নয়। যারা তাকে আগে দেখেছেন, তারা এই ভদ্রমহিলার এমন প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত।

কিন্তু আমার কাছে সেই রাতের যে স্মৃতিটা অমোচনীয় হয়ে থাকল, তা হচ্ছে ভাবিকে আর কিছু বলতে না দিয়ে হঠাৎ ভাবির পা দুটো জড়িয়ে ধরে মঞ্জু বলতে থাকল- দেবী, আপনি রাগ করবেন না; আপনি রাগ করলে আমরা এই ফকিররা যাব কোথায়? আপনি শুধু দেখিয়ে দিন, আপনার ফ্রিজে কী কী আছে; তারপর আপনি ঘুমাতে দোতলায় যান। আমরাই রান্নাবান্না করে আপনাকে খবর দেব। আপনি আমাদের সঙ্গে শুধু খাবার টেবিলে যোগ দেবেন।

প্রায় ছয় ফুট দীর্ঘদেহী মঞ্জুর এমন অপ্রত্যাশিত ক্রিয়াকাণ্ডে রেবেকা ভাবিও অপ্রস্তুত। কিন্তু কয়েক মুহূর্তে তিনিও প্রত্যাশিতভাবে গলে গেলেন। মানে, রান্নাঘরের দিকে ছুটলেন। রাত ২টার দিকে পিকনিক স্টাইলে কেউ চেয়ার-টেবিলে, কেউ কার্পেটের ওপর কাগজ বিছিয়ে খাওয়া সারল। তারপর যে যেখানে জায়গা করতে পারল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকল কয়েক ঘণ্টা।

কয়েক হাজার মাইল দূরে বাংলাদেশে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ চলছে, লন্ডনের রাস্তায় তুষারপাত, ক্ষুধার্ত কিছু তরুণ সেদিনের কর্তব্য শেষে পরদিনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। আমাকে এখনও এই স্মৃতি আপ্লুত করে।

দুই.

এ জেড মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে আরও একটি পরিচয়ে কৃতিত্ব ও সাফল্য দেখিয়েছিলেন। একাত্তরের যুক্তরাজ্যের বাঙালি ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি জনপ্রিয়ও ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-উদ্দেশ্যকে তিনি মনেপ্রাণে, গভীরভাবে ধারণ করতেন।

এখানে একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন যে ’৭১-এ যুক্তরাজ্যে যেমন সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট ছিল; তেমনি ছিল ছাত্রদের নিয়ে ছাত্র ফ্রন্ট, ডাক্তারদের ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, মহিলাদের জন্য মহিলা সংগঠন। সব সংগঠনের ওপর ছিল একটি ‘স্টিয়ারিং কমিটি’। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এই স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান ছিলেন, তবে তার পদটি ছিল উপদেষ্টা।

যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের যেসব জায়গায় দশ-বারজনও বাংলাদেশি ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য তারাও ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ বা তেমন কোনো নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। এমন প্রায় ১১৫টি ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’-এর কর্মকাণ্ড সমন্বয় করতেন বিচারপতি চৌধুরী এই স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে। স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হতো। এই কমিটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে মাত্র একজন এখন বেঁচে আছেন, তিনি কবীর চৌধুরী, এখন সিলেটে থাকেন, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছেন।

বিভিন্ন সময়ে লক্ষ করেছি, দলাদলি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা অন্য কোনো কারণে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন, তখন তিনি তিনজন মুক্তিযুদ্ধ-প্রাণ মানুষের পরামর্শ নিতেন, স্টিয়ারিং কমিটির এক প্রবীণ এবং প্রায় সার্বক্ষণিক সদস্য শেখ আবদুল মান্নান, মহিলা ফ্রন্টের এক শীর্ষ নেত্রী লুল্ বিলকিস বানু, (ঢাকার ভিকারুননিসা স্কুলের প্রথমদিকের হেডমিস্ট্রেস বা প্রিন্সিপাল) এবং এই এ জেড মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু। তাদের যোগ্যতা: তাদের কেউ সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাদের নিরপেক্ষ-নির্মোহ বিশ্লেষণে এবং সুপারিশে প্রায় সবার আস্থা-বিশ্বাস ছিল।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিক্রিয়ায় ’৭১-এর ৭ মার্চ বাংলাদেশি ছাত্ররা লন্ডনের পাকিস্তান হাইকমিশনের একটু দূরে অবস্থিত পাকিস্তান স্টুডেন্টস হোস্টেলের দেয়াল থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি নামিয়ে তা পায়ের নিচে ফেলে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে। এখানেও মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্ব ছিল।

তরুণ মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের পক্ষে প্রচার চালাতে এবং বাংলাদেশে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর গণহত্যার ব্যাপকতা জানাতে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গিয়েছেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়ে। তিনি গিয়েছেন প্যারিসে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সম্মেলনেও। প্যারিসে তার সঙ্গে নজরুল ইসলাম আলোও ছিলেন বলে মনে পড়ে। পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে এসব সফরে কোথাও হয়েছে মধুর, আর কোথাও তিক্ত অভিজ্ঞতা। বুখারেস্টে তাকে যে সাহায্য দেয়ার কথা ছিল, তা তিনি পাননি। আবার প্যারিসে যাদের অনুপ্রেরণা, সাহস, সাহায্য পেয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ পরে লন্ডনে তাদের খুঁজে নিয়েছেন। এদের একজন এক ফরাসি প্রফেসর ১৯৭১-এর মার্চে ঢাকায় ছিলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাই তার দরদও ছিল বাঙালিদের প্রতি। মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জুদের সাহায্য করেছিলেন প্যারিসে এ ভদ্রলোক। মঞ্জু এই প্রবীণ ফরাসি নাগরিককে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এখনও স্মরণ করেন।

মঞ্জুকে আমার বিশেষভাবে মনে পড়ে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৬ মাস পূর্তি উপলক্ষে লন্ডনের হাইড পার্কে ’৭১-এর ২৬ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সভার সভাপতি হিসেবে। আবদুস সামাদ আজাদসহ বাংলাদেশের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, বক্তৃতা দিয়েছিলেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে প্রতিনিধি দলটি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে লন্ডন হয়ে যাচ্ছিল, এই কয়েকজন সেই প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন।

১৯৭১-এর ২৭ আগস্ট, যেদিন লন্ডনের নটিংহিল গেটের ২৪ নম্বর পেমব্রিজ গার্ডেনে এখন এটি ‘বাংলাদেশ সেন্টার’ আমাদের বাংলাদেশ মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়, সেদিন সেই সকালে প্রায় তিনশ’ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এন্থনী ম্যাসকারেনহাস এবং খুব সম্ভব সায়মন ড্রিংও। এই সভায় মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু একজন বক্তা হিসেবে বলেছিলেন, অসাম্প্রদায়িক, সেক্যুলার বাংলাদেশে সব ধর্মকে যথাযথ গুরুত্ব ও মর্যাদা দিতে হবে, শুধু একটি মাত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে অনুষ্ঠান শুরু করা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তিন.

এ লেখার ছবিটি বঙ্গবন্ধুর সংবাদ সম্মেলন, ১৯৭২-এর ৮ জানুয়ারি দুপুরে লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলের। এই দিন ভোরে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছেন। সেই ভোরে হিথ্রো বিমানবন্দরে যে তিনজন বাংলাদেশি বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল, তার মধ্যে একজন আমি; ছবিতে বঙ্গবন্ধুর পেছনে ডার্ক স্যুটে।

বঙ্গবন্ধুর পেছনে চোখে চশমা, বুকে হাত এ জেড মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক, আমাদের দু’জনের মাঝখানে মরহুম ডা. হাকিম, ’৭১-এ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি।

এই সংবাদ সম্মেলনে কয়েকশ’ সাংবাদিক এবং ক্যামেরাম্যান উপস্থিত ছিলেন।

নয় মাস পর বঙ্গবন্ধুকে এই প্রথম সশরীরে দেখল দুনিয়ার মানুষ।

এই দিন ক্ল্যারিজেস হোটেলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছায়ার মতো ছিল মঞ্জু। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মঞ্জুর আরও একটি ঐতিহাসিক ছবি আছে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ফজলুল কাদের কাদেরীর বইতে। ইতিমধ্যে হোটেলের নিচে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার মানুষকে উদ্দেশ করে তার দোতলার ব্যালকনি থেকে বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন, আর মঞ্জু তার পেছনে একজন নিরাপত্তা প্রহরীর মতো দাঁড়ানো। নিচে জড়ো হওয়া এই কয়েক হাজার মানুষের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের জবাব দিতে বঙ্গবন্ধু ব্যালকনিতে ছুটে যান বারবার। তাকে থামাতে পারে না লন্ডন পুলিশ এবং মঞ্জু উদ্বিগ্ন থাকে যতক্ষণ বঙ্গবন্ধু তার ভিভিআইপি স্যুটের ব্যালকনিতে থাকেন।

চার.

এ জেড এম মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জুর বাবা এমএইচ (মোফাজ্জল হোসেন) খোন্দকার বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। নামজাদা আইজীবীর সন্তান মঞ্জু, তিনিও লন্ডনে গেলেন ১৯৬৩-তে ব্যারিস্টার হবেন বলে। ‘মিডল টেম্পল’-এ ভর্তিও হয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনে লেখাপড়া চালাতে না পেরে ছোটখাটো চাকরি করতে থাকেন তিনি। বাবার সংসার বড়ই ছিল- ৮ ভাই, ৩ বোন। কম ভাড়া বলে থাকতেন লালবাগে। নবকুমার ইন্সটিটিউট থেকে ম্যাট্রিক, ’৫৫-তে; তারপর সিলেটের এমসি কলেজে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত।

স্বাধীনতার পর লন্ডনে মঞ্জু কয়েকটি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট খুলেছিলেন। মনে হয় এগুলো ভালোই চলছিল। কিন্তু প্রায় ৩০ বছর আগে তিনি দেশে চলে এলেন বিলাতের সবকিছু ছেড়ে। এখন ধানমণ্ডিতে পৈতৃক প্লটের ওপর নির্মিত ফ্ল্যাটে থাকেন। একটি সেকেন্ড হ্যান্ড স্পিনিং মিল কিনেছিলেন কয়েকজন মিলে বছর পঁচিশ আগে। এতদিন এটি চালিয়েছেন। এখন সেটিও ছেড়ে দেবেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যান্য কারণের মধ্যে শারীরিক অসুস্থতা একটি। বয়স তো তার কম হল না, প্রায় ৮০।

প্রবাসে, যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে তার এত বড় ভূমিকা! কিন্তু আমরা যে ক’জন তখন তার আশপাশে ছিলাম এবং এখনও বেঁচে আছি, আমরাই তার অনন্য ভূমিকার সাক্ষী। নিজ থেকে তার কোনো কথাবার্তা নেই, একেবারেই প্রচারবিমুখ। আমিই বরং মঞ্জুকে কয়েকটি জায়গায় ঠেলে-ঠুলে পাঠিয়েছি।

একাত্তরের সহযোদ্ধা আমরা। মঞ্জুর মতো গত ৪৭ বছরের বন্ধু আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।

‘শিউলীতলা’, উত্তরা ঢাকা; বুধবার ৩ জানুয়ারি, ২০১৮

মহিউদ্দিন আহমদ : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব, কলাম লেখক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter