শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ হবে
jugantor
শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ হবে

  আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবী বদলে যাচ্ছে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথাযথভাবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের দেশের সব স্তরের শিক্ষার্থীকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সঠিকভাবে পরিচিত করাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত করাতে হবে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ে সমগ্র বিশ্বের বিচিত্র বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কাজেই তাদের সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে তারা আগামী দিনে সফলভাবে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক প্রবণতাই হলো সে নতুন কিছু জানতে চায়, যা কিছু অপরিচিত তার সঙ্গে পরিচিত হতে চায়।

কাজেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা যখন শিখতে শুরু করবে, তখন তাদের শেখাতে হবে আনন্দময় পরিবেশে। নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনাকে আমি স্বাগত জানাই। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে প্রাথমিকের প্রথম কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে। এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আনন্দময় করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতি দূর করার জন্য যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তাও ইতিবাচক। শিক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণা সৃষ্টির আগেই তার ভেতর পরীক্ষাভীতি সৃষ্টি হলে একজন শিক্ষার্থী হয়ে যায় পরীক্ষার্থী। একজন পরীক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণা হয়ে থাকে সীমিত; পক্ষান্তরে একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণার কোনো সীমা থাকে না। বস্তুত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যই হলো শিক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণা সৃষ্টিতে সহায়তা করা। জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা যাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পায়, এটা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য মুখস্থনির্ভর জ্ঞানচর্চার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিকমনস্ক হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর মানবিক মূল্যবোধ যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে এর চেয়ে আর দুঃখজনক কিছু হতে পারে না। নবম-দশম শ্রেণিতে এখনকার মতো বিজ্ঞান, মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজ নামে আলাদা কোনো বিভাগ না থাকার বিষয়টিও ইতিবাচক।

শিক্ষাবিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতার ব্যবস্থাও করতে হবে। সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, এটাও নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। বিশেষ করে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা অধিষ্ঠিত হবেন, তাদের নির্মোহ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা যাতে নেতৃত্ব প্রদান করতে পারি, সেই লক্ষ্য অর্জনের মনমানসিকতা নিয়ে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে গুণগত শিক্ষার বিস্তারে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা কোনোভাবেই পিছিয়ে থাকতে পারি না। আমি প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে যথার্থ বলেই মনে করি। আমরা যাতে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারি, সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

আধুনিক শিক্ষায় গুরুত্ব প্রদান করা হলে তা দেশের উন্নয়নে কী ভূমিকার রাখে, এটা বিশ্ববাসী বারবার প্রত্যক্ষ করেছে। আমরা যদি দেশে অর্থনৈতিক খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে আধুনিক তাত্ত্বিক শিক্ষা ও গবষণায় যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। আমাদের শিক্ষা খাত তথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমাজেরই অংশ।

আমরা যদি শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যতিক্রম কিছু আশা করি, তাহলে সমাজ কাঠামোকে কাঙ্ক্ষিত পথে পরিচালনার জন্য এর ব্যাপক পুনর্বিন্যাস ও সংস্কার প্রয়োজন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান

শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ হবে

 আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবী বদলে যাচ্ছে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথাযথভাবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের দেশের সব স্তরের শিক্ষার্থীকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সঠিকভাবে পরিচিত করাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত করাতে হবে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ে সমগ্র বিশ্বের বিচিত্র বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কাজেই তাদের সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে তারা আগামী দিনে সফলভাবে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক প্রবণতাই হলো সে নতুন কিছু জানতে চায়, যা কিছু অপরিচিত তার সঙ্গে পরিচিত হতে চায়।

কাজেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা যখন শিখতে শুরু করবে, তখন তাদের শেখাতে হবে আনন্দময় পরিবেশে। নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনাকে আমি স্বাগত জানাই। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে প্রাথমিকের প্রথম কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে। এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আনন্দময় করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতি দূর করার জন্য যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তাও ইতিবাচক। শিক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণা সৃষ্টির আগেই তার ভেতর পরীক্ষাভীতি সৃষ্টি হলে একজন শিক্ষার্থী হয়ে যায় পরীক্ষার্থী। একজন পরীক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণা হয়ে থাকে সীমিত; পক্ষান্তরে একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণার কোনো সীমা থাকে না। বস্তুত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যই হলো শিক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণা সৃষ্টিতে সহায়তা করা। জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা যাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পায়, এটা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য মুখস্থনির্ভর জ্ঞানচর্চার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিকমনস্ক হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর মানবিক মূল্যবোধ যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে এর চেয়ে আর দুঃখজনক কিছু হতে পারে না। নবম-দশম শ্রেণিতে এখনকার মতো বিজ্ঞান, মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজ নামে আলাদা কোনো বিভাগ না থাকার বিষয়টিও ইতিবাচক।

শিক্ষাবিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতার ব্যবস্থাও করতে হবে। সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, এটাও নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। বিশেষ করে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা অধিষ্ঠিত হবেন, তাদের নির্মোহ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা যাতে নেতৃত্ব প্রদান করতে পারি, সেই লক্ষ্য অর্জনের মনমানসিকতা নিয়ে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে গুণগত শিক্ষার বিস্তারে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা কোনোভাবেই পিছিয়ে থাকতে পারি না। আমি প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে যথার্থ বলেই মনে করি। আমরা যাতে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারি, সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

আধুনিক শিক্ষায় গুরুত্ব প্রদান করা হলে তা দেশের উন্নয়নে কী ভূমিকার রাখে, এটা বিশ্ববাসী বারবার প্রত্যক্ষ করেছে। আমরা যদি দেশে অর্থনৈতিক খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে আধুনিক তাত্ত্বিক শিক্ষা ও গবষণায় যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। আমাদের শিক্ষা খাত তথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমাজেরই অংশ।

আমরা যদি শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যতিক্রম কিছু আশা করি, তাহলে সমাজ কাঠামোকে কাঙ্ক্ষিত পথে পরিচালনার জন্য এর ব্যাপক পুনর্বিন্যাস ও সংস্কার প্রয়োজন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন