Logo
Logo
×
   

বাতায়ন

ওমিক্রন প্রতিরোধে গণসচেতনতা অপরিহার্য

Icon

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ওমিক্রন প্রতিরোধে গণসচেতনতা অপরিহার্য

গত ১৬ জানুয়ারির গণমাধ্যম সূত্রমতে, দেশব্যাপী করোনার দৈনিক সংক্রমণের হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধির ফলে করোনা পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনার ধরন ওমিক্রন অন্যান্য ধরনের চেয়ে বেশি সংক্রমণপ্রবণ। দেড় মাসের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও এ দৃশ্যপটে কোনো ব্যতিক্রম নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাপ্তাহিক রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত ২৬ দিনে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ১০ জানুয়ারি ৫৩তম সপ্তাহে এর আগের সপ্তাহের তুলনায় শনাক্তের হার বেড়েছে ১২৫ দশমিক ১ শতাংশ।

পাশাপাশি মৃত্যু বেড়েছে ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং সুস্থতা কমেছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে শনাক্তের হার ন্যূনতম ১৪ দিন ধরে ৫ শতাংশের বেশি থাকলে তা মহামারির ঢেউ হিসাবে গণ্য হবে। ১৮ জানুয়ারি ২০২২ প্রকাশিত গণমাধ্যমের তথ্যসূত্র অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল প্রায় ২১ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে আর মারা গেছেন ২৮ হাজার ১৫৪ জন (১৮ জানুয়ারি ২০২২, সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)।

দেশের বিজ্ঞ স্বাস্থ্যবিদদের পর্যালোচনা মতে, ওমিক্রন সংক্রমণের হার বৃদ্ধিতে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতালেরও আইসিইউ শয্যা ও অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার আরোপিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য জনসাধারণকে সচেতন করার পাশাপাশি আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্যসেবা-স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অধিকতর মনোযোগী হতে হবে।

অন্যথায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেশকে কোন পর্যায়ে পৌঁছে দেবে, তার অনুমেয় ধারণা এবং সম্ভাব্য প্রস্তুতি গ্রহণে ন্যূনতম অবহেলা প্রদর্শন সমীচীন হবে না। প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওমিক্রন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বলেন, ‘ভারতে ৫ থেকে ১০ শতাংশের মতো রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ছে।

দৈনিক ২০ হাজার মানুষ সংক্রমিত হলে ১০ শতাংশ হারে দুই হাজার মানুষের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়বে। এভাবে এক মাস ধরে সংক্রমণ চলমান থাকলে রোগী ভর্তির শয্যা সংকট দেখা দেবে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোয় প্রয়োজনীয় শয্যা প্রস্তুত রাখতে হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন মতে, ২০২২ সালের ১ম সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ শতাংশ বেশি। ফ্রান্স, ইউক্রেন, ডেনমার্ক, ইটালি, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিসসহ ইউরোপের অনেক দেশ ওমিক্রনে জর্জরিত। জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায়ও রেকর্ড সংখ্যক সংক্রমণ বেড়েছে।

পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় গত বছরের শেষ সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রধান সমগ্র বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘ডেল্টার চেয়ে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে ওমিক্রন। বিভিন্ন দেশে ওমিক্রনের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। ডেল্টা প্রজাতির ভাইরাস এখনো চলে যায়নি। তারই মধ্যে ওমিক্রন চলে আসায় পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দুটি ভাইরাস একত্রে ছড়িয়ে পড়ছে।’ তিনি ‘করোনার সুনামি’ আসছে বলেও মন্তব্য করেছেন।

৩১ ডিসেম্বর ২০২১ গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ফ্রান্সে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার। ফ্রান্সের প্রতি দুজনের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তারা এর আগে কখনো দেখেননি। বহু মানুষ এখন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি।

জার্মান বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সে দেশের অবস্থাও ফ্রান্সের মতো হবে। নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে আসল তথ্য এখনো সামনে আসছে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও করোনার নতুন ঢেউয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে নতুন ঢেউ সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছবে।

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্যানুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি ২০২২ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনা ইতিহাসের সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ৯১৫ জন। অপরপক্ষে ১৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছিল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৮ জন। ওই দুদিনে সারা বিশ্বে মারা গেছেন যথাক্রমে ৭ হাজার ৮৭৪ ও ৭ হাজার ২৯৯ জন।

১৮ জানুয়ারি ২০২২ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ কোটি ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৩৩০ এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৫ জনে। সুস্থ হয়েছে ২৬ কোটি ৯০ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৮ জন। বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। বর্ণিত সময়ে দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ কোটি ৭৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯১ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১ জনের।

এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে সংক্রমিত হয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ১৮ হাজার ২৭১, তৃতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে মোট সংক্রমিত হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৭ জন। ভারত ও ব্রাজিলে মোট মারা গেছে যথাক্রমে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ ও ৬ লাখ ২১ হাজার ২৬১ জন।

আমাদের সবার জানা যে, সমাজ-সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় প্রায় বারো হাজার বছরের অস্তিত্ব-অভিজ্ঞতায় কেবল জলবসন্ত রোগে তিন থেকে পাঁচ কোটি প্রাণ বিনাশের ঘটনা ঘটেছে। ১৬৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রাচীন মিসর, গ্রিস ও ইতালিসহ অন্যান্য অঞ্চলে ‘এন্টোনাইন প্লেগে’ মৃতের সংখ্যা ছিল পঞ্চাশ লাখ। ৫৪১-৫৪২ খ্রিষ্টাব্দে ‘জাস্টিনিয়ান প্লেগে’ আক্রান্ত প্রায় আড়াই কোটি ইউরোপবাসী, ১৩৪৬-১৩৫৩ সালে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় প্লেগ রোগের কারণে ‘কালো মৃত্যু’র শিকারে প্রায় সাড়ে সাত কোটি থেকে ২০ কোটি, ১৮৫২-১৮৬০ সালে তৃতীয় কলেরা মহামারির ফলে ভারতবর্ষ, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং আফ্রিকার প্রায় দশ লাখ (ইংল্যান্ডে ছিল তেইশ হাজার), ষষ্ঠ কলেরা মহামারিতে (১৯১০-১৯১১) মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ এবং রাশিয়ায় আট লাখ, ১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লুতে প্রায় পুরো বিশ্বব্যাপী দুই থেকে পাঁচ কোটি, ১৯৫৬-১৯৫৮ সালে চীনে উদ্ভূত এশিয়ান ফ্লুতে সিঙ্গাপুর, হংকং ও আমেরিকাতে বিশ লাখ (শুধু আমেরিকাতে উনসত্তর হাজার আট শত), ১৯৬৮ সালে হংকং ফ্লুতে দশ লাখ, ২০০৫-২০১২ সালে এইচআইভি/এইডসের কারণে বিশেষ করে সাব-সাহারা আফ্রিকায় প্রায় তিন কোটি ষাট লাখ মানবসন্তানের প্রাণসংহারের ঘটনা পুরো বিশ্বকে করেছিল আতঙ্কিত।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ পর্যায়ে চীনের উহান থেকে উত্থিত করোনাভাইরাস নতুন করে বিশ্বকে অনাকাক্সিক্ষত আকস্মিক সংকটে প্রকম্পিত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ কোভিড-১৯কে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসাবে ঘোষণা করে। ইউরোপের দেশগুলোয় করোনাভাইরাসের দ্রুত প্রসার ও মৃত্যুহার বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জনাব তেদ্রোস আদানোম গেব্রিয়াসুস এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইউরোপকে এ মহামারির কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে যাচিত করেছেন।

ইতালি ও স্পেনে এর বিস্তার পুরো ইউরোপকে বিশ্বের সবচেয়ে আক্রম্য অঞ্চলে পরিণত করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৪.৮৯ শতাংশ মানুষের বসবাস দক্ষিণ এশিয়া এবং প্রতি কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩০৩ জন। জনবহুল ঘনবসতিপূর্ণ আবাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ায় করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি এবং ফলস্বরূপ নানাবিধ সংকটের মর্মভেদী সংকেত আরোপ করেছে।

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় প্রত্যুপক্রম উচ্চারণে বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে প্যানিক সৃষ্টি করবেন না, শক্ত থাকুন। সচেতন হোন। রেডিও টেলিভিশনসহ অন্য মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ান। মানুষকে বুঝিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এ ধরনের পরিচিন্তন নির্দেশনা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সচেতন-প্রবলতা বার্ণিক উপাদানে পরিণত হবে।

গত ৭ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তার প্রদত্ত ভাষণেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন করে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রকোপ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি টিকা নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ইতোমধ্যে ওমিক্রন প্রতিরোধে অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব আক্রান্ত দেশের নাম ঘোষণা করেছে বা করবে, সেসব দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা-স্ক্রিনিং জোরদার ও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, সব ধরনের সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয়-অন্যান্য জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা, প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করা, সব ধরনের জনসমাগম-পর্যটনস্থান-বিনোদনকেন্দ্র-রিসোর্ট-কমিউনিটি সেন্টার-সিনেমা/থিয়েটার হল-সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-কোচিং সেন্টার ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কমসংখ্যক লোকের অংশগ্রহণ, মসজিদসহ সব উপাসনালয় ও গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ইত্যাদি।

এছাড়া সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সেবাগ্রহীতা-প্রদানকারী-স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বদা মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে টিকা কার্যক্রম পরিচালনাসহ অন্যান্য সেবা প্রদান, করোনার উপসর্গ বা লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন এবং করোনা পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, করোনা নিয়ন্ত্রণ ও কমানোর জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য মাইকিং ও প্রচার চালানো।

স্রষ্টার অপার কৃপায় আমরা যেন বিপদে মোহ্যমান না হয়ে স্বীয় শক্তিতে অপরাজিত থাকি-স্বল্প পরিসরে এ প্রত্যাশাটুকু ব্যক্ত করছি। পরিশেষে ১৯০৭ সালে বিশ্বকবি রবিঠাকুর রচিত কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তির বন্দনা করে নিবন্ধের ইতি টানছি-‘বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা,/ বিপদে আমি না যেন করি ভয়।/ দুঃখতাপে ব্যথিত চিত্তে নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,/ দুঃখে যেন করিতে পারি জয় ॥/ সহায় মোর না যদি জুটে নিজের বল না যেন টুটে,/ সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা/ নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।’

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী : শিক্ষাবিদ; সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ওমিক্রন প্রতিরোধ গণসচেতনতা অপরিহার্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম