অনুসন্ধান কমিটিকে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে
jugantor
স্বদেশ ভাবনা
অনুসন্ধান কমিটিকে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে

  আবদুল লতিফ মণ্ডল  

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে প্রণীত হলো নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ আইন। গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর আইনে পরিণত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন কমিশনার নিয়োগে আইন প্রণয়নে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তিনটি রাজনৈতিক দল-আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ইতঃপূর্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগদানে আইন প্রণয়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক দল, আইন বিশেষজ্ঞ, সুশীলসমাজ ও মিডিয়ার জোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আইনটি প্রণয়নে উদ্যোগ নিলেও এবং সেটি তাদের সন্তুষ্টিলাভে সক্ষম না হলেও আইনটি একটি সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ করেছে। এখন যা প্রয়োজন তা হলো, সিইসি এবং অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে আইনটিতে বিধৃত নীতির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসরণ।

সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে ব্যক্তির অনুসন্ধান এবং উপযুক্তদের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ প্রদানের জন্য সদ্য প্রণীত আইনে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি বাস্তবায়নের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপও হচ্ছে একটি অনুসন্ধান কমিটি বা সার্চ কমিটি গঠন। উল্লেখ্য, ইসিতে সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে অনুসন্ধান কমিটি গঠন শুরু হয় দশ বছর আগে। ২০১২ সালে প্রথম চার সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারক সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে। ২০১৭ সালে ছয় সদস্যবিশিষ্ট দ্বিতীয় অনুসন্ধান কমিটিও গঠিত হয় সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বেই। দুটি কমিশনই নিয়োগদাতা আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক হিসাবে পরিচিতি পায়। ২০১২ সালে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি সুপারিশকৃত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সিইসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃবর্তনের ইস্যুতে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও সহযোগী দলগুলো ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলে ওই নির্বাচন অনেকটা একদলীয় রূপ নেয়। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে রকিব কমিশন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ আসনের ১৫৪টিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের গুটিকয়েক সহযোগী দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এতে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। দশম সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় এবং এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন না ঘটায় এ নির্বাচন দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি সিইসির একটি পদের বিপরীতে দুজনের এবং নির্বাচন কমিশনারের চারটি পদের বিপরীতে আটজনের নাম সুপারিশ করে। সিইসি পদে সুপারিশকৃত দুজনের মধ্য থেকে কেএম নূরুল হুদাকে সিইসি নিয়োগ দেওয়া হয়। আর নির্বাচন কমিশনারদের পদে সুপারিশকৃত আট ব্যক্তির মধ্য থেকে চারজনকে (একজন মহিলাসহ) নিয়োগ দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনার হিসাবে। এ ইসির আমলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইসি এসব অনিয়ম দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এতে ভোট প্রয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন দেশের জনগণ। দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় এ নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউজ প্রকাশিত ‘ডেমোক্র্যাসি ইন রিট্রিট : ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে নেমে আসে।

উপর্যুক্ত দুটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন দেশের সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না বলে সে সময় বিরোধী দল, আইন বিশেষজ্ঞ ও সুশীলসমাজের পক্ষ থেকে মত প্রকাশ করা হয়। সেজন্যই ওই দুটি অনুসন্ধান কমিটি এবং তাদের কার‌্যাবলিকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য সদ্য প্রণীত আইনটিতে বিশেষ বিধান করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতঃপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার‌্যাবলি এবং ওই অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে এবং এ বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

আইনের নির্দেশনা অনুসরণে প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ছয় সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি। অনুসন্ধান কমিটিতে অন্যান্য সদস্য হিসাবে থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক (তাদের মধ্যে মহিলা)। আইনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে। আইনে বেঁধে দেওয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য দুইজন করে ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। অর্থাৎ সিইসি পদে দুজন এবং চারজন কমিশনারের পদে আটজন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। আইনে এ-ও বলা হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার পদে যোগ্যদের অনুসন্ধানের জন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবে। কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হবে। সুপারিশ প্রাপ্তির পর রাষ্ট্রপতির নির্দেশে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় তা আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তার নির্দেশমতো আইনমন্ত্রী অনুসন্ধান কমিটি কর্তৃক সিইসি পদে নিয়োগে সুপারিশকৃত দুজন ব্যক্তির একজনকে সিইসি হিসাবে এবং কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত আটজন ব্যক্তির মধ্য থেকে চারজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগদানের প্রস্তাব সারসংক্ষেপ আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবেন। প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপের প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিলে সেটি অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করা হবে। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করবেন। উল্লেখ্য, সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তার অন্যসব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কোনো স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা নেই।

আইনে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিধান নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের বলেছেন, সার্চ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। সার্চ কমিটির মাধ্যমে মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয়সংবলিত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থায় প্রকাশ করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার আগে সার্চ কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত নামগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন এবং জনগণের মতামত প্রদানের ব্যবস্থা রাখা উচিত। জনগণের মতামত বিবেচনায় এনে তালিকা সংশোধনের সুযোগ রাখার ব্যবস্থা রাখলে বাছাইয়ের সার্বিক বিষয়টি স্বচ্ছতা পেত। সার্চ কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তালিকাটি প্রকাশ করার বিধান না থাকার ফলে শেষ পর্যন্ত সেই তালিকার সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সংশয় থাকে (যুগান্তর, ৩০ জানুয়ারি)। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আইন ‘বাকশালের মতোই’। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকারের পছন্দসই ব্যক্তিরাই সার্চ কমিটিতে জায়গা পাবেন এবং তারা সরকারের ভাবধারা ও আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদেরই সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার পদে নিয়োগদানে সুপারিশ করবেন।

মিডিয়ার খবরে জানা যায়, ইসি গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ২৪। দলগুলো হচ্ছে-জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বিকল্পধারা, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণফ্রন্ট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় পার্টি (জেপি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাপ, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), জাকের পার্টি, এনপিপি ও আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ না নেওয়া দলগুলো হলো-বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), এলডিপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে যোগ্যদের অনুসন্ধানের জন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করবে। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণ না করা দলগুলো অনুসন্ধান কমিটির অনুরোধে সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য নাম দেবে কি না তা অনিশ্চিত। অবশ্য নাম সংগ্রহই যথেষ্ট নয়। যা হোক, রাজনৈতিক দলগুলো এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলো নাম জমা দিলে প্রাপ্ত নামগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হবে। গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে তাদের জীবনবৃত্তান্ত। পেশাগত জীবনে তারা অস্বচ্ছতা বা অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল কি না-এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। এছাড়া তাদের নিরপেক্ষতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা আছে কি না, তাও দেখতে হবে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও এর বিকাশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই, সে নির্বাচন জাতীয় বা স্থানীয় যে পর্যায়েই অনুষ্ঠিত হোক। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে অনুষ্ঠিত ১১টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হাতেগোনা কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ছিল না। নির্বাচনে দলীয় সরকারগুলোর হস্তক্ষেপ রোধে ইসির ব্যর্থতা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় তাদের দৃঢ়তার অভাব ছিল এর মূল কারণ। এবারের অনুসন্ধান কমিটি এমন ব্যক্তিদের সিইসি এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের সুপারিশ করুক, যাদের দ্বারা গঠিত ইসি অতীতের গ্লানি মুছে ফেলে জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে গণতন্ত্রের উন্নয়নে মূল্যবান ভূমিকা রাখবে।

লেখক: সাবেক সচিব, কলাম লেখক

latifm43@gmail.com

স্বদেশ ভাবনা

অনুসন্ধান কমিটিকে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে

 আবদুল লতিফ মণ্ডল 
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে প্রণীত হলো নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ আইন। গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর আইনে পরিণত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন কমিশনার নিয়োগে আইন প্রণয়নে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তিনটি রাজনৈতিক দল-আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ইতঃপূর্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগদানে আইন প্রণয়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক দল, আইন বিশেষজ্ঞ, সুশীলসমাজ ও মিডিয়ার জোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আইনটি প্রণয়নে উদ্যোগ নিলেও এবং সেটি তাদের সন্তুষ্টিলাভে সক্ষম না হলেও আইনটি একটি সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ করেছে। এখন যা প্রয়োজন তা হলো, সিইসি এবং অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে আইনটিতে বিধৃত নীতির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসরণ।

সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে ব্যক্তির অনুসন্ধান এবং উপযুক্তদের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ প্রদানের জন্য সদ্য প্রণীত আইনে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি বাস্তবায়নের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপও হচ্ছে একটি অনুসন্ধান কমিটি বা সার্চ কমিটি গঠন। উল্লেখ্য, ইসিতে সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে অনুসন্ধান কমিটি গঠন শুরু হয় দশ বছর আগে। ২০১২ সালে প্রথম চার সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারক সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে। ২০১৭ সালে ছয় সদস্যবিশিষ্ট দ্বিতীয় অনুসন্ধান কমিটিও গঠিত হয় সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বেই। দুটি কমিশনই নিয়োগদাতা আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক হিসাবে পরিচিতি পায়। ২০১২ সালে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি সুপারিশকৃত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সিইসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃবর্তনের ইস্যুতে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও সহযোগী দলগুলো ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলে ওই নির্বাচন অনেকটা একদলীয় রূপ নেয়। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে রকিব কমিশন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ আসনের ১৫৪টিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের গুটিকয়েক সহযোগী দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এতে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। দশম সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় এবং এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন না ঘটায় এ নির্বাচন দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি সিইসির একটি পদের বিপরীতে দুজনের এবং নির্বাচন কমিশনারের চারটি পদের বিপরীতে আটজনের নাম সুপারিশ করে। সিইসি পদে সুপারিশকৃত দুজনের মধ্য থেকে কেএম নূরুল হুদাকে সিইসি নিয়োগ দেওয়া হয়। আর নির্বাচন কমিশনারদের পদে সুপারিশকৃত আট ব্যক্তির মধ্য থেকে চারজনকে (একজন মহিলাসহ) নিয়োগ দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনার হিসাবে। এ ইসির আমলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইসি এসব অনিয়ম দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এতে ভোট প্রয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন দেশের জনগণ। দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় এ নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউজ প্রকাশিত ‘ডেমোক্র্যাসি ইন রিট্রিট : ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে নেমে আসে।

উপর্যুক্ত দুটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন দেশের সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না বলে সে সময় বিরোধী দল, আইন বিশেষজ্ঞ ও সুশীলসমাজের পক্ষ থেকে মত প্রকাশ করা হয়। সেজন্যই ওই দুটি অনুসন্ধান কমিটি এবং তাদের কার‌্যাবলিকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য সদ্য প্রণীত আইনটিতে বিশেষ বিধান করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতঃপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার‌্যাবলি এবং ওই অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে এবং এ বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

আইনের নির্দেশনা অনুসরণে প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ছয় সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি। অনুসন্ধান কমিটিতে অন্যান্য সদস্য হিসাবে থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক (তাদের মধ্যে মহিলা)। আইনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে। আইনে বেঁধে দেওয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য দুইজন করে ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। অর্থাৎ সিইসি পদে দুজন এবং চারজন কমিশনারের পদে আটজন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। আইনে এ-ও বলা হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার পদে যোগ্যদের অনুসন্ধানের জন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবে। কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হবে। সুপারিশ প্রাপ্তির পর রাষ্ট্রপতির নির্দেশে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় তা আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তার নির্দেশমতো আইনমন্ত্রী অনুসন্ধান কমিটি কর্তৃক সিইসি পদে নিয়োগে সুপারিশকৃত দুজন ব্যক্তির একজনকে সিইসি হিসাবে এবং কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত আটজন ব্যক্তির মধ্য থেকে চারজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগদানের প্রস্তাব সারসংক্ষেপ আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবেন। প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপের প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিলে সেটি অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করা হবে। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করবেন। উল্লেখ্য, সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তার অন্যসব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কোনো স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা নেই।

আইনে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিধান নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের বলেছেন, সার্চ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। সার্চ কমিটির মাধ্যমে মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয়সংবলিত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থায় প্রকাশ করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার আগে সার্চ কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত নামগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন এবং জনগণের মতামত প্রদানের ব্যবস্থা রাখা উচিত। জনগণের মতামত বিবেচনায় এনে তালিকা সংশোধনের সুযোগ রাখার ব্যবস্থা রাখলে বাছাইয়ের সার্বিক বিষয়টি স্বচ্ছতা পেত। সার্চ কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তালিকাটি প্রকাশ করার বিধান না থাকার ফলে শেষ পর্যন্ত সেই তালিকার সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সংশয় থাকে (যুগান্তর, ৩০ জানুয়ারি)। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আইন ‘বাকশালের মতোই’। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকারের পছন্দসই ব্যক্তিরাই সার্চ কমিটিতে জায়গা পাবেন এবং তারা সরকারের ভাবধারা ও আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদেরই সিইসি ও অন্যান্য কমিশনার পদে নিয়োগদানে সুপারিশ করবেন।

মিডিয়ার খবরে জানা যায়, ইসি গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ২৪। দলগুলো হচ্ছে-জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বিকল্পধারা, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণফ্রন্ট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় পার্টি (জেপি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাপ, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), জাকের পার্টি, এনপিপি ও আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ না নেওয়া দলগুলো হলো-বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), এলডিপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে যোগ্যদের অনুসন্ধানের জন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করবে। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণ না করা দলগুলো অনুসন্ধান কমিটির অনুরোধে সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য নাম দেবে কি না তা অনিশ্চিত। অবশ্য নাম সংগ্রহই যথেষ্ট নয়। যা হোক, রাজনৈতিক দলগুলো এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলো নাম জমা দিলে প্রাপ্ত নামগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হবে। গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে তাদের জীবনবৃত্তান্ত। পেশাগত জীবনে তারা অস্বচ্ছতা বা অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল কি না-এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। এছাড়া তাদের নিরপেক্ষতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা আছে কি না, তাও দেখতে হবে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও এর বিকাশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই, সে নির্বাচন জাতীয় বা স্থানীয় যে পর্যায়েই অনুষ্ঠিত হোক। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে অনুষ্ঠিত ১১টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হাতেগোনা কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ছিল না। নির্বাচনে দলীয় সরকারগুলোর হস্তক্ষেপ রোধে ইসির ব্যর্থতা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় তাদের দৃঢ়তার অভাব ছিল এর মূল কারণ। এবারের অনুসন্ধান কমিটি এমন ব্যক্তিদের সিইসি এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের সুপারিশ করুক, যাদের দ্বারা গঠিত ইসি অতীতের গ্লানি মুছে ফেলে জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে গণতন্ত্রের উন্নয়নে মূল্যবান ভূমিকা রাখবে।

লেখক: সাবেক সচিব, কলাম লেখক

latifm43@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন