Logo
Logo
×

Advertisement

আনন্দ নগর

ফিরে দেখা ২০২৫

ব্যর্থতা ও হতাশায় ডুবেছে ঢালিউড

মাত্র তিন দিন পরই বিদায় নেবে ২০২৫ সাল। এ বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ৪৭টি সিনেমা। গেল কয়েক বছর কয়েকটি বলিউড সিনেমা আমদানি হলেও চলতি বছর সেটি দেখা যায়নি। এ তালিকায় রয়েছে ‘মিসিং’ নামে নেপালি একটি সিনেমা। তবে এটিও দেশের প্রেক্ষাগৃহে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। দর্শক আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। এদিকে দেশে প্রতিবছরের মতো এবারও আলোচনায় রয়েছে ঈদের সিনেমা। এর বাইরে মুক্তি পাওয়া প্রতিটি সিনেমাই হয়েছে ব্যর্থ। লিখেছেন-

Advertisement

Icon

রিয়েল তন্ময়

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

জানুয়ারি : চলতি বছর জানুয়ারি মাসে মুক্তি পায় চার সিনেমা। মুক্তির খাতায় প্রথম নাম ওঠায় ‘মধ্যবিত্ত’। বলা যায়, ওপেনিংয়ে ব্যর্থতা দিয়েই বছর শুরু। এ সিনেমায় ছিলেন না কোনো বড় তারকা। এরপর মুক্তি পায় ‘মেকাপ’। জিয়াউল রোশান ও নিপা আহমেদ রিয়েলি অভিনীত সেন্সরে আটকে যাওয়া এ সিনেমাটি ছাড়পত্র নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। একদল কিশোর শিল্পী নিয়ে নির্মিত ‘কিশোর গ্যাং’ সিনেমাটিও মুখ থুবড়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, এটি বেশ সমালোচিতও হয়। মাসের শেষে মুক্তি পায় নভেরা রহমান অভিনীত ‘রিকশা গার্ল’ সিনেমাটি। খুব একটা ব্যবসাসফল না হলেও, আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত এ সিনেমা দেশেও ছিল আলোচনার টেবিলে।

ফেব্রুয়ারি : এ মাসেও চারটি সিনেমা মুক্তি পায়। এটিও ছিল খরাময়। ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পায় রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা ও এফএস নাইম অভিনীত ‘জলে জ্বলে তারা’। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের পাশাপাশি দর্শক-কারও মনেই আশা জ্বালাতে পারেনি এটি। মুক্তি পায় কায়েস আরজু, আমান রেজা ও রাজ রিপা অভিনীত ‘ময়না’ সিনেমা। এটিও ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ। ‘দায়মুক্তি’ নামে একটি সিনেমাও রয়েছে তালিকায়। যা ব্যর্থতার দায় থেকে মুক্তি পায়নি। এদিকে ‘বলী’ সিনেমাটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও, দেশে পায়নি দর্শক। খোলেনি তার ভাগ্য।

মার্চ : এ মাসে ছিল ঈদুল ফিতর। ঢাকাই সিনেমা এখন ঈদকেন্দ্রিক। ঈদেই কিছুটা জমে ওঠে। এসময় মুক্তিও পায় তারকানির্ভর বড় বাজেটের সব সিনেমা। তাই এ সময়টায় সংশ্লিষ্ট সবার মুখেই ফোটে আনন্দের হাসি। চলতি বছরও রোজার ঈদে মুক্তি পেয়েছে ছয় সিনেমা। এ ঈদেও ছিল শাকিব খানের সিনেমা। তবে একটি নয়, দুটি। তবুও ঈদের বাজার নিজের দখলে নিতে পারেননি। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিয়াম আহমেদ, আফরান নিশো ও মোশাররফ করিম। বলা যায়, এবার ঈদের নায়ক শাকিব খান আর ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারেননি। এ নায়কের দুই সিনেমার মধ্যে ‘বরবাদ’ কিছুটা আলোচনায় থাকলেও, ‘অন্তরাত্মা’ যেন নামের মতোই দর্শকের অন্তর ও আত্মা দুটোই নষ্ট করে দিয়েছে। পুরোপুরি ব্যর্থতা ও হতাশায় ডুবিয়েছে এ সিনেমা। এদিকে আলোচনায় উঠে এসেছে সিয়াম-বুবলীর ‘জংলি’, আফরান নিশো ও তমা মির্জার ‘দাগি’। সিনেমা দুটি দেশের পাশাপাশি বিদেশেও মুক্তি পায়। সেখানেও প্রশংসা কুড়ায়। এদিকে ঈদের সিনেমা হয়েও ব্যর্থতার খাতায় নাম লেখায় ‘জ্বীন-৩’ নামে আরও এক সিনেমা। এতে জুটি বেঁধেছিলেন আব্দুন নূর সজল ও সমালোচিত নায়িকা নুসরতা ফারিয়া। তবে এর ‘কন্যা’ শিরোনামের গানটি বেশ ভাইরাল হয়। এদিকে অভিনয়, গল্প ও নির্মাণে আলোচনায় ছিল নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম অভিনীত ‘চক্কর ৩০২’ সিনেমাটি।

চলতি বছর এপ্রিল মাসে মুক্তি পায়নি কোনো সিনেমা।

মে : জয়া আহসান অভিনীত ‘জয়া আর শারমিন’ সিনেমাটি মুক্তি পায় এ মাসে। তবে জয়া অভিনয় গুণে পার পেয়ে গেলেও, সিনেমাটিকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেননি। এটি খুব একটা আশানুরূপ ফল পায়নি। এ মাসে ‘আন্তঃনগর’ নামে আরও একটি সিনেমা রয়েছে মুক্তির তালিকায়। নতুন শিল্পীদের নিয়ে নির্মিত এ সিনেমা নীরবে মুক্তি পেয়ে নীরবেই নেমে গেছে। আলোচনা-সমালোচনা ও ব্যবসা কিছুই নেই এটির ভাগ্যে।

জুন : জুন মাসে ছিল ঈদুল আজহা। স্বাভাবিকভাবেই ঈদের মাস হিসাবে মুক্তি পেয়েছে ছয় সিনেমা। শাকিব খান-সাবিলা নূর ও জয়া আহসান অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমাটি ছিল আলোচনায়। ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়েছে বলে প্রযোজনা সংস্থার দাবি। এটি দিয়েই নাটকের অভিনেত্রী সাবিলা নূরের অভিষেক হয় সিনেমায়। তবে অভিষেক সিনেমা হলেও নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাননি এ অভিনেত্রী। পর্দার চমক দেখিয়েছেন জয়া আহসান। তবে এ ঈদে চমক দেখিয়েছে ‘উৎসব’ সিনেমা। একঝাঁক তারকানির্ভর এ সিনেমাটি এখনো প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এতে জয়া আহসান, জাহিদ হাসানসহ সঙ্গে ছিলেন ছোটপর্দার আরও অনেক শিল্পী। শরিফুল রাজের বাণিজ্যিক সিনেমায় ফেরা এবং তাসনিয়া ফারিণ নাম লেখানোয় ‘ইনসাফ’ ছিল মুখে মুখে। তাদের অভিনয় প্রশংসিত হলেও লগ্নি তুলতে ব্যর্থ হয় এটি। আরিফিন শুভ ও মন্দিরা চক্রবর্তীর ‘নীলচক্র’ যেন ব্যর্থ এক চক্রের মধ্যেই আটকে ছিল। আজমেরী হক বাঁধনের ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’ সিনেমা ছিল দর্শকের আগ্রহ। গল্প নির্মাণ অভিনয়ে সেরা এ সিনেমাটি মানের দিক থেকে ভালো হলেও, আয়ের দিক থেকে শেষ পর্যন্ত ধরতে পারেনি লাভের আঙুল। এদিকে ভরাডুবি ঘটে পূজা চেরীর ভাগ্যে। আদর আজাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘টগর’ নিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত আর ঈদের বাজারে টিকতে পারেননি। ডিজাস্টার তকমা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহ ছাড়তে হয় তাদের।

জুলাই : কুরবানির ঈদের পর ঢালিউড হতাশায় ভোগে। কোন ওষুধে আর কাজ করেনি। এরপর মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সিনেমাও জাগাতে পারেনি আশার আলো। জুলাইয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অন্যদিন’, ‘আলী’ সিনেমা দুটি উঠে দাঁড়াতে পারেনি নিজের পায়ে।

আগস্ট : এ মাসে ‘উড়াল’ মুক্তি পেলেও উড়তে পারেনি নিজেই। এরপর মুক্তি পায় ‘জলরঙ’, তবে রং ছড়াতে পারেনি।

সেপ্টেম্বর : এ মাসে সর্বাধিক সিনেমা (আটটি) মুক্তি পায়। তবে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। আট সিনেমা মিলেও ঢালিউডে আশা সঞ্চার করতে পারেনি। মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ‘সাবা’ মুক্তি পেলেও, দেশের দর্শকের মন জয় করতে পারেনি। মুক্তি পায় জয়া আহসান অভিনীত যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘ফেরেশতে’। ইরানের জাতীয় পুরস্কার জিতলেও, দেশের কোনো পুরস্কার এর ভাগে জুটবে কিনা সেটি নিয়ে বেশ সন্দিহান। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক মন ভরাতে পারেনি এটি। বাংলাদেশ থেকে অস্কারের জন্য মনোনীত হলেও ‘বাড়ির নাম শাহানা’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে পারেনি। আলো ছড়ায়নি ‘উদীয়মান সূর্য’ সিনেমাটিও। আদর আজাদ ও সালওয়া অভিনীত ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যাকেও দর্শক ভালোবাসেনি। ‘ডট’ ও ‘নন্দিনী’ সিনেমার কপালও অন্যগুলোর মতোই খারাপ ছিল। বলা যায়, পুরো মাসে একটিও সিনেমা কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি।

অক্টোবর : এ মাসে মুক্তি পায় সাত সিনেমা। তবে এগুলোকে সিনেমা বলতেই নারাজ প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা। যেখানে নামেই শুধু সিনেমা, সেখানে এগুলো নিয়ে আসলে আলোচনার খুব একটা প্রয়োজন পরে না। তবুও লেখার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে কিছু লিখতে হয়। মৌ খান অভিনীত ‘বান্ধব’ সিনেমাটি দর্শকের সঙ্গে কোনো বন্ধন তৈরি করতে পারেনি। ‘সাত ভাই চম্পা’র অগণিত শ্রোতা থাকলেও সিনেমার ‘সাত ভাই চম্পা’র দর্শক খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্ধকারে আলো, নামের মতো প্রেক্ষাগৃহে কোনো আলো জ্বালাতে পারেনি। দীর্ঘ বছর পর পপি ও আমিন খান জুটির ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ নামে একটি সিনেমাও এ মাসে মুক্তি পায়। তবে এ সিনেমা বুঝিয়ে দিয়েছে এখন আর দর্শক তাদের দেখতে চায় না। ‘কন্যা’ ও ‘বেহুলা দরদী’ নামের সিনেমাগুলো নিয়ে আর কিছু বলার নাই। দর্শক খরায় কেটেছে এদের দিন।

নভেম্বর : নভেম্বরে আলোচনায় উঠে আসে ‘দেলুপি’ নামে একটি সিনেমা। রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষার এ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে। গল্প ও নির্মাণে বেশ প্রশংসিত হয় এটি। তবে ব্যবসায়িক দিক বিবেচনায় এখনো লাভের মুখ দেখতে পারেনি এটি। এদিকে সাইমন সাদিক ও নীলাঞ্জনা নীলার ‘সাইলেন্স : আ মিউজিক্যাল জার্নি’ খুব বেশি দূর যায়নি। এক দশক আগের ঝুলে থাকা তমা মির্জা-আরিফিন শুভ অভিনীত ‘মন যে বোঝে না’, আসলেই কেউ বোঝেনি। দর্শকও তাই দেখেনি। মুক্তির তালিকায় রয়েছে বেনামি শিল্পীদের অভিনীত ‘গোয়ার’ নামে একটি সিনেমা। বস্তাপচা জেড গ্রেডের তকমা পেয়েছে এ সিনেমাটি। যা সমালোচনার তুঙ্গে রয়েছে।

ডিসেম্বর : ডিসেম্বরে ‘খিলাড়ি’ নামের একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এটি নিয়ে বেশি কিছু লেখার নেই। শুধু এটাই বলা যায়, বছরের শেষ সিনেমাটিও হতাশায় ডুবিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিকে। যদি রাঘববোয়ালরাই ডুবে গেছেন বছরজুড়ে, সেখান ‘খিলাড়ি’তো নগণ্য।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রাসেল ব্র্যান্ডের বিচার শুরু

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রাসেল ব্র্যান্ডের বিচার শুরু

নীহাকে নিয়ে দেশে অপূর্বর শেষ নাটক

নীহাকে নিয়ে দেশে অপূর্বর শেষ নাটক

কানাডায় তপন চৌধুরীকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন

কানাডায় তপন চৌধুরীকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন

টুকরো খবর পূজা উপলক্ষ্যে প্রকাশ হলো লগ্নার গান

পূজা উপলক্ষ্যে প্রকাশ হলো লগ্নার গান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম