Logo
Logo
×
   

আনন্দ নগর

দুই কিংবদন্তির বৈপরীত্যের গল্প

সেলিম কামাল

সেলিম কামাল

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুই কিংবদন্তির বৈপরীত্যের গল্প

আমেরিকান ‘দ্য ভয়েস’ নামে খ্যাতি পাওয়া কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, অভিনেত্রী ও প্রযোজক ছিলেন হুইটনি এলিজাবেথ হিউস্টন। আর কানাডিয়ান জীবন্ত কিংবদন্তি পপশিল্পী সেলিন ডিওন। প্রথমজন বেঁচে না থাকলেও সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে উঠে এলো প্রায় একই যুগে সাড়া জাগানো দুই শিল্পীর জীবনঘনিষ্ঠ বৈপরীত্য নিয়ে অজানা গল্প। কেবিএস টু টিভির বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান‘সেলিব্রিটি সোলজার’স সিক্রেট’-এ উন্মোচিত হলো হুইটনি হিউস্টনের মৃত্যুর রহস্য এবং সেলিন ডিওনের স্বাস্থ্য সংগ্রাম। উঠে এলো দুই শিল্পীর চোখ ধাঁধানো মঞ্চের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিষ্ঠুর ও নাটকীয় ব্যক্তিগত জীবন।

প্রথমে, অনুষ্ঠানটি হুইটনি হিউস্টনের মৃত্যুর রহস্য অনুসন্ধান করে, যিনি ২০১২ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ঠিক একদিন আগে আত্মহত্যা করেছিলেন। একটি হোটেলের বাথটাবে তার হিমশীতল নিথর দেহ পাওয়া যায়। সেসময় সন্দেহ হয়েছিল, দেহটি পাওয়ার ছয় ঘণ্টা পরও বাথটাবের পানি যথেষ্ট গরম ছিল, যা বিশ্বকে হতবাক করে দেয়। যে বিকৃত প্রেম হুইটনি হিউস্টনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল এবং নির্মম পারিবারিক কাহিনি, তার দুঃখকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তার স্বামী ববি ব্রাউন-যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল ‘দ্য বডিগার্ড’ সিনেমার মাধ্যমে, বিশ্বজুড়ে খ্যাতির শীর্ষে থাকাকালীন, বিয়ের পরপরই বিশ্বাসঘাতকতা এবং সহিংসতার মতো সীমাহীন অসদাচরণে লিপ্ত হন। তা সত্ত্বেও, হুইটনি তার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য ১৪ বছর ধরে এক নরকীয় দাম্পত্য জীবন সহ্য করেছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন তার জন্মদাতা বাবাও মেয়ের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের এক বিশাল অঙ্কের মামলা করে মুখ ফিরিয়ে নেন এবং এই তারকা কোনো উপায় না পেয়ে এক ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হন। একসময় তিনি মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পারিবারিক এ প্রতিকূলতাকে সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন।

এর বিপরীতে, মানসিকভাবে অবিচল থেকে আন্তরিক ভালোবাসার মাধ্যমে প্রায় একইরকম প্রতিকূলতাকে জয় করেছিলেন সেলিন ডিওন। নিজের বাড়ি বন্ধক রেখে রেনে অ্যাঞ্জেলিল ডিওনের প্রথম অ্যালবাম বের করেছিলেন। এরপর ভালোবাসা থেকে পরিণয়। ১৯৯৪ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল। সুখিও হয়েছিল এই দম্পতি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ২০১৬ সালে রেনে মারা গেলে তিন সন্তান নিয়ে অথই সমুদ্রে পড়ে যান সেলিন ডিওন। এরইমধ্যে তার জীবনে এলো আরও কঠিন পরীক্ষা। ধরা পড়ল তার স্টিফ পার্সন নামের এক অদ্ভুত অসুখ। পড়ে যান সব হারানোর সম্ভাব্য সংকটে। ডিওন বারবার যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে মনোবল অটুট রেখেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘যদি আমি দৌড়াতে না পারি, আমি হাঁটব; যদি আমি হাঁটতে না পারি, আমি হামাগুড়ি দিয়ে মঞ্চে উঠব।’ অবশেষে, তিনি প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ আইফেল টাওয়ারে আরোহণ করেন এবং দর্শকদের কাছে পৌঁছানো এক মহান মানবিক বিজয়ের গল্পের মাধ্যমে বিশ্বকে এক অলৌকিক ও মর্মস্পর্শী বিজয় উপহার দেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .