বিলুপ্তপ্রায় প্রাণ বাঁচাতে ডিক্যাপ্রিও ও বেজোস দম্পতির ২০ কোটি ডলারের মহাযজ্ঞ
আনন্দনগর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার হাত মিলিয়েছেন হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোস। বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে থাকা প্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণের লক্ষে তারা গঠন করেছেন ২০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি তহবিল, যা এ ধরনের উদ্যোগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক দাতব্য অর্থায়ন হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিক্যাপ্রিওর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা রি এবং বেজস আর্থ ফান্ড যৌথভাবে চালু করেছে ‘ফিনিক্স স্পেসিস প্রজেক্ট’। এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বের ৩০টি দেশের ১০০টি সংকটাপন্ন প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তালিকায় রয়েছে স্তন্যপায়ী প্রাণী, উভচর, সরীসৃপ, পাখি, মাছ, অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং বিভিন্ন উদ্ভিদ। সমুদ্র থেকে আগ্নেয় সমভূমি, বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থলে পরিচালিত হবে সংরক্ষণ কার্যক্রম।
এ উদ্যোগে ১০ কোটি ডলার দেবে বিজোস আর্থ ফান্ড। বাকি ১০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থায়ন করবে রি, যার পেছনে রয়েছেন হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, এইজ অফ ইউনিয়ন এবং টড গ্রেভস ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের সমর্থন।
প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শুধু স্বল্পমেয়াদি অনুদান নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি প্রজাতির জন্য টেকসই পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। বিশ্বের ১০০টিরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থা সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও প্রজাতির প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় সম্প্রদায়, বিজ্ঞানী ও সংরক্ষণবিদদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী সংরক্ষণবিজ্ঞান নেটওয়ার্ক আইইউসিএন স্পাইসিস সারভাইভাল কমিশন এ প্রকল্পের বৈশ্বিক জ্ঞান অংশীদার হিসাবে কাজ করবে। এ ছাড়া বিজার্ভ দ্য রেড অ্যাকশন পার্টনারশিপ বিভিন্ন দেশকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রজাতি শনাক্ত এবং কার্যকর পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা দেবে।
জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, দূষণ ও অবাধ শিকারের কারণে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ দ্রুত বিলুপ্তির মুখে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় ডিক্যাপ্রিও ও বেজোস দম্পতির এই যৌথ উদ্যোগ শুধু অর্থায়নের দিক থেকেই নয়, বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আন্দোলনেও নতুন আশার আলো হিসাবে দেখা হচ্ছে।
