নজরুলবর্ষে বিশেষ আয়োজন
মঞ্চে উপেক্ষিত নজরুলের অধিকাংশ নাটক
Advertisement
মুহম্মদ আকবর
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেতু-বন্ধ নাটকের একটি দৃশ্য। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মঞ্চনাটক, পূর্ণাঙ্গ নাটক, অগীতিনাট্য, অপেরা, বেতার নাটক ও নৃত্যনাট্যসহ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আশির অধিক নাট্যকর্মের সন্ধান পেয়েছেন নজরুল গবেষকরা। এর মধ্যে ২০টির মতো নাটক মঞ্চে প্রদর্শিত হতে দেখা যায়। অন্যসব থেকে যাচ্ছে আলোর আড়ালে। শুধু তাই নয়, নজরুলের সাহিত্যকর্ম থেকেও খুব বেশি নাটক মঞ্চে আসেনি। বাংলাদেশে প্রায় ৪ শতাধিক নাটকের দল রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে নাট্যকলা বিভাগ। তবু কাজী নজরুল ইসলামের লেখা আশানুরূপ নাটক মঞ্চে আসেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এখানকার মানুষের মধ্যে ঔপনিবেশিক মানসিকতা এখনো রয়ে গেছে। ফলে ঔপনিবেশিকতা বিরোধী নজরুলের সৃষ্টি মঞ্চে আসছে না। একইসঙ্গে নজরুলের নাটকের সঙ্গে ধ্রুপতি সংগীতের একটা সম্পর্ক রয়েছে, আছে যোগ উপযোগী করে মঞ্চে আনার চ্যালেঞ্চ, যে চ্যালেঞ্জ অনেকেই নিতে চান না। তবে এ অবস্থার উত্তরণ ঘটিয়ে নজরুলের অন্যান্য সাহিত্যকর্মের মতো নাটকও মঞ্চে আনা জরুরি বলে পরামর্শ বিশিষ্টজনদের। এ বিষয়ে অন্তত নজরুল বর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে বা থিয়েটার অঙ্গনে যেন নজরুলের নাটক চর্চা হয় সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো যেতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
নজরুলের নাটক মঞ্চে না আসার কারণ হিসাবে নাট্যজন মামুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, ‘গানের পাখি নজরুল গান রচনায় এবং জনপ্রিয়তায় অনন্য। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি গান লিখেছেন। লিখেছেন নাটকের জন্যও। তিনি নাটকে সংগীত পরিচালনাও করেছেন।’ তবে মামুনুর রশীদ মনে করেন, নজরুলের বেশিরভাগ নাটক তার সমকালীন বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে রচিত। তিনি বলেন, ‘নাটককে সমকালীন হতে হয়। নজরুলের ওইসব নাটককেও সমকালীন করে মঞ্চে আনা যায়। কিন্তু এ দায়িত্ব কেউ নিতে চান না।’ তিনি জানান, নজরুলের কালোত্তীর্ণ নাটক বা সাহিত্য মঞ্চে এসেছে এবং আসছে।
* নজরুলের নাটক নিয়ে নাট্যাঙ্গনে পড়াশোনা কম
নাট্যকার ড. রতন সিদ্দিকী নজরুলের লেটু থেকে ‘লেটু কাহন’ এবং ‘বিদ্যাভুতুম’ নাটক লিখেছেন। ঢাকার দুটি নাট্যদল মঞ্চে এনেছে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের দলগুলোর নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশকদের মধ্যে নজরুলের নাটক নিয়ে পড়াশোনা কম। অর্থাৎ নজরুলের রচনাগুলো পাঠ করলে মঞ্চায়নের উপযোগী অনেক উপাদান পাওয়া যাবে।’ ‘তার নাটক মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও নাচের দক্ষতাও প্রয়োজন, যা পারফর্মারদের মধ্যে সবসময় পাওয়া যায় না’- যোগ করেন তিনি।
* নজরুলের নাটকের আবেদন সবসময় প্রাসঙ্গিক
নজরুলের ‘আলেয়া’, ‘সেতু-বন্ধ’ ও ‘মৃত্যুক্ষুধা’ মঞ্চে এনেছেন নাট্যনির্দেশক গোলাম সারোয়ার। তার মতে, নজরুলের নাটকের বিষয়বস্তু মানুষের জীবন, অভ্যাস ও কল্যাণকে ঘিরে। ফলে এসব নাটকের আবেদন যে কোনো সময়েই প্রাসঙ্গিক। তিনি জানান, নজরুলের লেটো নাটক নিয়ে গবেষণা ও মঞ্চায়নের চিন্তা অব্যাহত আছে। গোলাম সারোয়ারের ভাষায়, ‘লেটো নাটকের কিছু কিছু রচনা হয়তো হাস্যকৌতুকের জন্য লেখা। কিন্তু হাস্যকৌতুক ও বিনোদনের প্রয়োজনও তো চিরন্তন।’
* বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলের নাটক মঞ্চায়নে আগ্রহ কম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নাট্যকার মলয় কুমার ভৌমিক যুগান্তরকে বলেন, ‘নজরুলের নাটকের সংখ্যা অনেক হলেও দেশে তার নাটক মঞ্চায়নের চর্চা খুবই কম। এর অন্যতম কারণ হতে পারে তার লেখা নাটকের বড় একটি অংশ রেডিও বা শ্রুতিনাট্যধর্মী। তিনি মনে করেন, মঞ্চে করার মতো নাটকও আছে, বিশেষ করে শিশুদের উপযোগী নাটক।
বাস্তবতা হচ্ছে সার্বিকভাবে দেশে নজরুলের নাটক নিয়ে চর্চা এদেশে খুবই সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭৪-৭৫ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অমি ভর্তি হই। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকতাও করেছি। তবে আমাদের বিভাগের নজরুলের নাটক মঞ্চায়ন হয়েছে এমনটা মনে পড়ে না। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির অংশ হিসাব করলে করেও থাকতে পারেন।’ তিনি জানান, রাজশাহী পুরোনো নাট্যসংগঠন ‘রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘ’ নজরুলের নাটকের ভিত্তিতে ইমপ্রোভাইজেশন বা নতুনভাবে নাট্যরূপ দেওয়ার কাজ করেছে। তবে সেগুলো সরাসরি নজরুলের লেখা নাটক নয়; তার জীবন ও কর্মের ওপর।
* নজরুলের গান-কবিতা চর্চা হলেও নাটক উপেক্ষিত
নজরুলের গান-কবিতার চর্চা হলেও নাটক উপেক্ষিত বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও নাট্য-ব্যক্তিত্ব অসীম দাস। তার নিজের বিভাগেও নজরুলকে নিয়ে গীতিআলেখ্যসহ বিভিন্ন আয়োজন হলেও সরাসরি নজরুলের নাটক তেমন মঞ্চস্থ হয়নি। তবে কেন নিয়মিত চর্চা হচ্ছে না, তা তার কাছেও স্পষ্ট নয়। নজরুলের এ অধ্যায়টির অংশটি আরও ব্যাপকভাবে চর্চা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। নজরুল বর্ষে অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুলের নাটক মঞ্চায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা বা আহ্বান করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। অসীম দাস জানান, চট্টগ্রামের একটি দল থেকে ‘মধুমালা’, ‘কাবেরী নদীর জলে’ মঞ্চায়ন হয়েছিল।
* নজরুলের গান বিচিত্র বিষয় নিয়ে রচিত নাটকে তা দেখা যায় না
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক, নাট্যজন কামালউদ্দিন কবির জানান, গত ১৩ বছরে তার বিভাগে কোনো প্রযোজনায় নজরুলের নাটক হয়েছে কিনা তা তার মনে নেই। তবে তার স্মরণ অনুযায়ী, নজরুলের ‘শিল্পী’ নাটকটি শিক্ষার্থীরা কোর্সের অংশ হিসাবে একবার মঞ্চায়ন করে থাকতে পারে। তিনি জানান, ‘রবীন্দ্র-নজরুল অধ্যয়ন’ নামে ১০০ নম্বরের একটি কোর্স রয়েছে। নজরুলের নাট্যচর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নজরুলের গান ব্যাপকভাবে চর্চিত হয়েছে, তবে তার নাটক বা গল্প সে তুলনায় চর্চিত হয়নি। নজরুলের গান অসংখ্য ও বিচিত্র বিষয় নিয়ে রচিত। কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে সেই ব্যাপকতা দেখা যায় না।’
* নাটক মঞ্চায়নের একটি কারণ ঔপনিবেশিক নাট্যভাবনা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক, নাট্যকার ও নাট্য নির্দেশক ইউসুফ হাসান অর্ক মনে করেন, বাংলাদেশে নাটক বোঝা ও মঞ্চে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যনির্ভর প্রচলিত কাঠামোর প্রভাব এখনো রয়েছে। তথাকথিত ‘ওয়েল-মেড প্লে’, নাটকীয় দ্বন্দ্ব, ক্লাইমেক্স বা ক্যাটাস্ট্রফের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে যেসব নাটক সহজে মেলে না, সেগুলো অনেক নির্দেশক হয়তো মঞ্চায়নের জন্য বিবেচনা করেন না। তিনি মনে করেন, নজরুলকে নিয়ে কাজ করতে হলে তার সংগীতের বিষয়টিও গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। নজরুলের নাট্যভাবনা ও সৃষ্টির সঙ্গে সংগীতের একটি বড় সম্পর্ক রয়েছে। অনেক নির্দেশকের এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দক্ষতা বা প্রস্তুতি না থাকাও নজরুলের নাটক কম মঞ্চায়নের একটি কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, “নজরুলের লেখা নাটক মঞ্চায়ন ছাড়াও নজরুলের কবিতা, গল্প বা উপন্যাস অবলম্বনেও নাট্যপ্রযোজনা হতে পারে। তার নিজেরও নজরুলের ‘কুহেলিকা’ উপন্যাস নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান এ নির্দেশক।” জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলের পাঁচ-সাতটি নাট্যপ্রযোজনা হয়েছে বলে তার মনে পড়ে। নজরুলের ‘সাপুড়ে’ গল্প অবলম্বনে ‘রতিহারতির গীত’ নামে একটি প্রযোজনা আনন জামান করেছিলেন। একই গল্প অবলম্বনে ‘নীলাখান’ নামে একটি প্রযোজনা এনেছেন ইউসুফ হাসান অর্ক। এছাড়া ‘মধুমালা’, ‘পদ্মগোখরা’ মঞ্চায়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। নাটকের এ শিক্ষক জানান, তার বিভাগে মাস্টার্স পর্যায়ে ‘নজরুল অধ্যয়ন’ ও ‘রবীন্দ্র অধ্যয়ন’ কোর্স রয়েছে। সেখানে নজরুলের সাহিত্য ও নাটক পড়ানো হয়। তবে পাঠের তুলনায় নাটক মঞ্চায়নের সংখ্যা কম।
* কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলচর্চা
নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনকে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি নাট্যচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত নিরীক্ষাধর্মী নাট্যপ্রযোজনা করে আসছে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েচার অ্যান্ড পারফরমেন্স বিভাগ। প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পাঠের পাশাপাশি প্রতি বছর পূর্ণাঙ্গ নাট্যপ্রযোজনায় যুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন ওই বিভাগের শিক্ষক, নাট্য নির্দেশক আল জাবির। তিনি জানান, ২০১২ সালে নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ অবলম্বনে পূর্ণাঙ্গ নাট্যপ্রযোজনা করা হয়। ২০১৩-১৪ সালের দিকে নজরুলের ‘সেতু-বন্ধ’ নাটক নিয়েও প্রযোজনা করা হয়। পরে সেটির একটি রেডিও নাট্যরূপও তৈরি করা হয়। নজরুলকে নিয়ে বিভাগে গম্ভীরা, পথনাটক ও শ্রুতিনাটকও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি ‘সর্পমায়া’ নামে একটি নতুন প্রযোজনা নির্মাণের কথা জানিয়ে আল জাবির বলেন, “সর্বপ্রাণবাদী সত্তাকে সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে এ প্রযোজনায়। নজরুলের ‘পদ্মগোখরা’ ও ‘সাপুড়ে’ গল্পের প্রেক্ষাপট মিলিয়ে নাটকটি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাপকে কেন্দ্র করে নজরুলের গান ও অন্যান্য রচনাও এতে যুক্ত করা হয়েছে। নাটকটির মঞ্চায়ন ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হয়েছে।” তবে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব থাকলেও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলচর্চা থেমে নেই বলেও জানান তিনি।
* নজরুলের উল্লেখযোগ্য নাটক
আবদুল আজিজ আল আমান, আরিফুল হক, আসাদুল হক, আবদুল কাদির, মুবাশ্বের আলী, মুহাম্মদ আইয়ুব হোসেন এবং আবদুল মান্নান সৈয়দসহ অনেকে নজরুলের নাটককে-গণনাট্য, একাঙ্ক, পূর্ণাঙ্গ নাটক, ছোটদের নাটক, গীতিনাট্য, বেতার নাট্য, কাব্যনাট্য, সংলাপে গান, নৃত্যনাট্য এবং লেটোর দলের পালাসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। সব মিলে তারা ৮০টি বা তার কাছাকাছি নাটকের সন্ধান পেয়েছেন বলে জানা যায়। নাটকগুলো হলো- ‘কামাল পাশা’, ‘আনোয়ার’, ‘ঝিলিমিলি’, ‘সেতু-বন্ধ’, ‘শিল্পী’, ‘ভূতের ভয়’, ‘আলেয়া’, ‘মধুমালা’, ‘বিদ্যাপতি’, ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’, ‘পুতুলের বিয়ে’, ‘জুজু বুড়ির ভয়’, ‘কে কী হবি বল’, ‘ছিনিমিনি খেলা’, ‘কানামাছি’, ‘নবার নামতা পাঠ’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘জাগো সুন্দর চিরকিশোর’, ‘ঈদ’, ‘খুকী ও কাঠবেড়ালী’, ‘গুল-বাগিচা’, ‘অতনুর দেশ’, ‘মদিনা’, ‘শ্রীমন্ত’, ‘পন্ডিত মশায়ের ব্যাঘ্র শিকার’, ‘ঈদুল ফেতর’, ‘বিলাতী ঘোড়ার বাচ্চা’, ‘বাঙালি ঘরে হিন্দি গান’, ‘পানচেট’, ‘বনের বেদে’, ‘লাইলি-মজনু’, ‘আলার রহম’, ‘দেবীস্তুতি’, ‘বিজয়া’, ‘হরপ্রিয়া’, ‘আকাশবাণী’, ‘কাবেরী-তীরে’, ‘শারদ-শ্রী’, ‘সারঙ্গ-রঙ্গ’, ‘ঘট ভৈরব’, ‘নীলাম্বরী ছন্দসী’, ‘অন্নপূর্ণা’, ‘কাফেলা’, ‘দশ মহাবিদ্যা’, ‘বাসন্তিকা’ কাব্যনাট্য, ‘কলির কেষ্ট’, ‘কালোয়াতি কসরৎ’, ‘কবির লড়াই’, ‘পুরনো বলদ নতুন বউ’ ও ‘বেয়াই-বেয়ান’, ‘শাল পিয়ালের বনে’, ‘চাষার সঙ’, ‘ঠকপুরের সঙ’, ‘রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ’, ‘আকবর বাদশার সঙ’, ‘মেঘনাদবধ’, ‘শকুনি-বধ’, ‘দাতা-কর্ণ’, ‘বিদ্যাভূতুম’, ‘রাজপুত্রের সঙ’, ‘কবি কালিদাস’, ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’, ‘জন্মাষ্টমী’, ‘পুরনো বলদ নতুন বউ’, ‘বনের বেদে’, ‘বিলাতী ঘোড়ার বাচ্চা’, ‘গৌতম ব্যাধি’, ‘প্লাব রাজা’, ‘কাজীর বিচার’, ‘রাজকন্যার মৃত্যুর আগমন’, ‘রাধা বিনোদন’ ও ‘রাজপুত্রের নীতি’ প্রভৃতি।
* মঞ্চে নিয়মিত-অনিয়মিত নজরুলের নাটক
লোকনাট্য দল (সিদ্বেশ্বরী) এনেছে ‘শিল্পী’ ও ‘মধুমালা’। নাট্যদল নাট্যচক্র ‘মৃত্যুক্ষুধা’ নাগরিক নাট্যাঙ্গন ‘লেটু কাহন’, সিরাজউদ্দৌলা থিয়েটার ‘রূপান্তর’ ও ‘অগ্নিগিরি’, নাট্যদল তীর্যক ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ ও ‘মধুমালা’, হবিগঞ্জের নাট্যমেলা ‘ভূতের ভয়’, প্রতিবিম্ব থিয়েটার ‘ভিক্ষে দাও’, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহিত্য একাডেমি ‘রাক্ষুসী’, লোকনাট্যদল (টিএসসি) ‘ঝিলমিলি’, চাঁদপুরের দল অনন্য নাট্যগোষ্ঠী ‘মানুষ’ ও ‘রাক্ষুসী’, বগুড়া থিয়েটার ‘দ্রোহ’, নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোর ‘দ্রোহ প্রেম নারী’, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় ‘নীলাখ্যান’, বাঁশরী রেপার্টরী থিয়েটার ‘বনের মেয়ে পাখি’, ‘আলেয়া’ ও ‘সেতু-বন্ধ’, জেনেসিস লিটল থিয়েটার ‘সকাল বেলার পাখি’ ও ‘দামাল ছেলে নজরুল’, বরিশাল থিয়েটার ‘পুতুলের বিয়ে’, সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মাতৃভূমি কালচারাল একাডেমি ও কুষ্টিয়ার ভোর হল দল ‘পুতুলের বিয়ে’, রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ ‘বউয়ের বিয়ে’, বহর নাট্য নৃত্যদল ‘স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া’, মেঠোপথ থিয়েটার ‘হারাধনের বিয়ে’ প্রভৃতি।
ঢাকার বাইরে ঈশ্বগঞ্জের প্রভাতী সাংস্কৃতিক সংসদ, ঈশ্বরগঞ্জ থিয়েটার ও ঢাকায় সিলভারডেল প্রিপারেটরি স্কুল নজরুলের ‘মানুষ’ কবিতা থেকে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ নাটক মঞ্চায়ন করে। এটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. আমিনুর রহমান সুলতান। এছাড়া নজরুলের ‘জিনের বাদশা’ গল্প থেকে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মুক্তস্বর’ জিনের বাদশা মঞ্চে আনে। এটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন রইস মনরম।
এ ছাড়াও বিভিন্ন নাটকের দল ও সংগঠন নজরুলের নাটক মঞ্চে এনেছে। তবে সংখ্যায় কম। বেশিরভাগ দল বিশেষ কয়েকটি নাটক মঞ্চে এনেছে।
