Logo
Logo
×

বাংলার মুখ

মেহেরপুর-১ আসন

সম্পদ অভিজ্ঞতায় এগিয়ে অরুন

Icon

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পদ অভিজ্ঞতায় এগিয়ে অরুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনের প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা শুধু ব্যক্তিগত আয়-সম্পদের হিসাবই নয়, বরং এলাকার রাজনীতির ভেতরের শক্তির বিন্যাসও স্পষ্ট করে তুলেছে। হলফনামা অনুযায়ী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ-সদস্য মাসুদ অরুন সম্পদের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন চার লাখ ৫০ হাজার টাকা। দেড় একর কৃষিজমি, মেহেরপুর পৌর শহরে ১২ কাঠা বাড়ির জমি (নির্মাণাধীন ভবনসহ), এবং হাতে ২৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা। তার স্ত্রী আমেনা খাতুন একজন শিক্ষক; তার বাৎসরিক আয় তিন লাখ টাকার বেশি এবং মোট সম্পদ প্রায় ১৯ লাখ টাকা। মাসুদ অরুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আটটি মামলা থাকলেও পাঁচটিতে অব্যাহতি এবং তিনটিতে খালাস পাওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তিনি এগিয়ে-২০০১ সালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়া ছাড়াও জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. তাজউদ্দিন খানের মোট সম্পদ এক কোটি টাকা। তার বাৎসরিক আয় চার লাখ ৩৭ হাজার ৯২৩ টাকা। এক একর ১৭ শতাংশ কৃষিজমি, সাত শতক বাড়ির জমি ও আসবাবপত্রসহ তার হাতে নগদ রয়েছে ২২ লাখ টাকার বেশি। তিনি আয়কর দিয়েছেন তিন হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা থাকলেও প্রায় সবকটিতেই তিনি খালাস পেয়েছেন। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তার সংসদীয় অভিজ্ঞতা নেই। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদের সম্পদ সবচেয়ে কম-৬৫ লাখ টাকা। বাৎসরিক আয় চার লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, যা তাকে পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী হিসাবে আলাদা করেছে। সব মিলিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের নির্বাচন এখন শুধু দলীয় প্রতীকের লড়াই নয়; এটি অভিজ্ঞতা বনাম পরিচ্ছন্নতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বনাম আস্থার রাজনীতি এবং সংগঠন বনাম ব্যক্তিগত ইমেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম