ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসন
সম্পদে এগিয়ে ইকবাল মামলায় হিরণ
Advertisement
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুরে স্থাবর আর অস্থাবর সম্পদে এগিয়ে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন। শিক্ষাগত যোগ্যতায়ও তিনি অন্যদের ছাড়িয়েছেন। তবে মামলায় এগিয়ে আছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত (উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা পরিষদে সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ।
নির্বাচন কমিশনে দেওয়া সূত্রে জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইনের ৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭৫১ টাকা। আয়ের উৎসে রয়েছে নিজস্ব সঞ্চয় থেকে আয় ২৯ লাখ টাকা। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ রয়েছে ২৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৯ টাকা। স্থায়ী সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৩৯টি ভূমির বিবরণী। তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (মেকানিক্যাল)। পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসা।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে রয়েছে ৫টি রাজনৈতিক মামলা। এরমধ্যে ২০১৩ সালে গৌরীপুরে আন্তঃনগর ট্রেনে হামলার অভিযোগে মামলা হয় ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায়। একই বছরে বিস্ফোরক উপাদানাবলি আইনে এ মামলাটি হয় গৌরীপুর থানায়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও ৩টি মামলা হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের তাতরাকান্দা গ্রামের ইসমাইল হোসেন তালুকদার ও শারমীন হোসেনের ছেলে। তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ ছিলেন।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা পরিষদে সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ৪৮টি। এরমধ্যে খালাস বা নিষ্পত্তিকৃত হয়েছে ৪১টি। বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে ৭টি। তিনি দেশজুড়ে আলোচিত জুলাই অভ্যুত্থানে উপজেলার কলতাপাড়ায় পুলিশের গুলিতে ৩ শহীদের ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলা ছিলেন ১নং আসামি। তার বিচারাধীন মামলার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র আইনে গৌরীপুর থানা ও তারাকান্দা থানার ২টি মামলা, বিস্ফোরক উপাদানাবলি আইনে ২টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২টি।
আহাম্মদ তায়েবুর রহমান বিপুল ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার কৃষি মৎস্য খাতে আয় ১০ লাখ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৮৪১ টাকা। তার স্বর্ণ, অন্যান্য ধাতু ও পাথরে তৈরি গহনার বিবরণীতে রয়েছে ৩০ ভরি স্বর্ণের অলংকার। ইলেকট্রনিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে লাখ টাকা মূল্যের একটি টেলিভিশন, কম্পিউটার, আসবাবপত্রের মধ্যে রয়েছে খাট, আলমারি ও ড্রেসিং টেবিল। তিনি মইলাকান্দা ইউনিয়নের কাউরাটের মৃত আবু সাঈদ মাহমুদ ও আয়েশা মাহমুদের ছেলে।
এছাড়া নির্বাচনের মাঠে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী মাওলানা বদরুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ ফজলুর রহমান ও বাসদের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী একেএম আরিফুল হাসান।
এ আসনটিতে ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালে জয়ী হয় বিএনপি, ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ দ্বাদশ নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।
