Logo
Logo
×
   

Advertisement

বাংলার মুখ

পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ পাবিপ্রবি শিক্ষকের

ভাগিনা ও তার সহযোগীদের নিয়ে বিশাল চক্র

Advertisement

Icon

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইয়াহিয়া ব্যাপারী আকাশের বিরুদ্ধে শিক্ষকতার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৪ সাল থেকে শিক্ষকতা করা এই শিক্ষককে ঘিরে অভিযোগ রয়েছে নিজের ভাগিনা ও তার সহযোগীদের নিয়ে তিনি একটি চক্র গড়ে তুলেছেন, যা বিদেশে স্কলারশিপ, শ্রমিক পাঠানো, ব্যবসা বিনিয়োগ ও ফ্ল্যাট কেনার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই প্রতিবেদকের কাছে অন্তত ৯টি ঘটনার তথ্য এসেছে, যেখানে মোট প্রতারণার পরিমাণ ৫ কোটির টাকারও বেশি। নেত্রকোনা, গাজীপুর ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা হলেও অভিযুক্তরা এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রটি সারা দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। চক্রটির মূল সদস্য হিসাবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন-ইয়াহিয়া ব্যাপারী আকাশ, তার ভাগিনা আবদুল মমিন খান এবং মমিনের সহযোগী রাশেদুল ইসলাম ও জুয়েল রানা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াহিয়া আকাশই এই চক্রের মূলহোতা। তিনি আড়ালে থেকে ভাগিনা ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। নেত্রকোনার বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে আবদুল মমিন খান তার বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠেন। পরে মমিন তার বন্ধু রাশেদুল ইসলাম ও আত্মীয় ইয়াহিয়া আকাশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে তারা কুদ্দুসের ছেলে মাহিনুর রহমান কৌশিককে কানাডায় স্টুডেন্ট ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখান এবং ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। বিভিন্ন সময়ে কুদ্দুস মোট ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু কিছুদিন পর মমিন হঠাৎ বাসা ছেড়ে চলে যান এবং পরে অভিযুক্তরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কোনো উপায় না পেয়ে তিনি নেত্রকোনা আদালতে মামলা করেন। গাজীপুরের ইলিয়াস হোসেন অভিযোগ করেন, spearkcoin.uk নামের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কথা বলে ২০২৫ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তার ও তার সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনায় তিনি গাজীপুরের বাসন থানায় মামলা করেন। এই দুই ঘটনা ছাড়াও spearkcoin.uk তে টাকা বিনিয়োগের নামে নেত্রকোনার হালিমের কাছে থেকে ১ কোটির বেশি, মমিনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা, মামুনের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা, জাকিয়ার কাছ থেকে বিয়ের প্রলোভন এবং ইয়াহিয়া ব্যাপারী আকাশের ব্যবসার শেয়ার কেনার নামে ১৬ লাখ টাকা, ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার সুমিকে মিরপুর-১ ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার নামে ২৬ লাখ টাকা, গাজীপুরে কানাডায় নেওয়ার নাম করে ৪ ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৬ লাখ টাকা, মিরপুরে ৩ ব্যক্তিকে কানাডায় নেওয়ার নাম করে ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে। এই চক্রের ইয়াহিয়া ব্যাপারী আকাশ ছাড়া বাকি ৩ জন পলাতক আছেন বলে জানা যায়। অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযাগ করা হলেও এদের ফোনে পাওয়া যায়নি।

তবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ইয়াহিয়া ব্যাপারী আকাশ এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগান্তরের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ফাঁসানোর হয়েছে। ওই মামলাসহ যতগুলো অভিযোগ করা হয়েছে সবগুলো মিথ্যা। মমিন আমার ভাগিনা হয়। মমিন, রাশেদুল, জুয়েলসহ কয়েকজন মিলে প্রতারণা করতে পারে, আমি এদের সঙ্গে যুক্ত নয়। এ বিষয়ে গাজীপুর বাসন থানার এসআই ইদ্রিস আলী বলেন, প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত ধুরন্ধর। আমরা ওদের ধরার জন্য কয়েকবার চেষ্টা চালিয়েছি। আমরা এই বিষয়ে সজাগ আছি। ওদের গ্রেফতারের জন্য ইতোমধ্যে র‌্যাবের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম