আখাউড়ায় সার কেলেঙ্কারি
Advertisement
মো. ফজলে রাব্বি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মৃত, পলাতক ও প্রবাসীদের নামে সরকারি সার বরাদ্দ ও উত্তোলনের গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সার ডিলারদের একটি চক্রের যোগসাজশে এই অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া পৌরসভাসহ উপজেলায় মোট ৮টি বিএডিসি এবং ১০টি বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছেন। সরেজমিন তদন্তে উঠে এসেছে, এসব ডিলারের মধ্যে একাধিকজন বাস্তবে ব্যবসা পরিচালনা করেন না। তাদের নামে বরাদ্দকৃত সার অন্য ব্যক্তিরা উত্তোলন ও বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার বড়বাজারের বিএডিসি ডিলার মেসার্স শিহাব ট্রেডার্সের মালিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী গত প্রায় ২০ মাস ধরে পলাতক। অথচ তার নামে নিয়মিত সার উত্তোলন করছেন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মানিকুল ইসলাম। মোহাম্মদ আলীর নামে বিসিআইসির আরেকটি সারের ডিলারশিপ রয়েছে। ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার মিয়ার নামে বড়বাজারে বিএডিসির ডিলারশিপ রয়েছে। তার নামে বরাদ্দের সার উত্তোলন করছেন শেখ মো. জাবেদ। এই জাবেদ একই বাজারের আরেক ডিলার হুমায়ুন কবিরের নামে বরাদ্দের সারও উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। বড়বাজারের ডিলার মেসার্স মধু ঘোষের মালিক মধু ঘোষ প্রায় ১৫ বছর আগে মারা যান। পরে ভাতিজা সুদীপ্ত ঘোষ তার ডিলারশিপ পরিচালনা করতেন। সুদীপ্ত ঘোষও ৪ বছর আগে ভারতে চলে যান। অথচ তার নামে নিয়মিত সার উত্তোলন করা হচ্ছে। এই সার বিক্রি করছেন ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মানিকুল ইসলাম। একইভাবে গাজীর বাজারের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সের মালিক নাজমুন নাহার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তার নামে বরাদ্দের সার উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। নাজমুন নাহারের স্বামী মোজাম্মেল হকও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার নামেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় সারের ডিলারশিপ রয়েছে। মোগড়া বাজারের মেসার্স কে এস এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল কাশেম নিজে ব্যবসা করেন না। তার সার বিক্রি করেন খোরশেদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি। মোগড়া বাজারের আরেক ডিলার কামাল উদ্দিন নিজে সার ব্যবসা না করলেও ইউনুস মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার সার বিক্রি করেন। মোগড়া বাজারের বিসিআইসির ডিলার হারুনুর রশিদের নামে নিয়মিত সার উত্তোলন করা হলেও তিনি সার ব্যবসা করেন না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী। তন্তর বাজারের মেসার্স সেতু কর্পোরেশনের মালিক রীনা খানম নিজে ব্যবসা না করলেও মানিক মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার সার বিক্রি করেন। রীনার নামে বিসিআইসি ও বিএডিসি উভয় ডিলারশিপ রয়েছে। তন্তর বাজারের আরেক ডিলার মো. হুমায়ুন কবির, তিনিও নিজে সার ব্যবসা করেন না। তার নামে উত্তোলনকৃত সার বিক্রি করেন মামুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তি। হুমায়ুন কবিরের নামে বিসিআইসি ও বিএডিসির উভয় ডিলারশিপ রয়েছে। ধরখার বাজারের বিসিআইসির ডিলার মো. শাহজালাল ভূঁইয়া নিজে ব্যবসা করেন না। তার নামে বরাদ্দের সার বিক্রি করেন সাগর মিয়া নামে এক ব্যক্তি। আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ডিলারদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়গুলো লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও তাপসী রাবেয়া জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ সত্য হলে কৃষি অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
