Logo
Logo
×
   

Advertisement

বাংলার মুখ

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পরীক্ষার নামে কমিশন বাণিজ্য

দুদকের নজরদারিতে আরএমও * পদ বাগিয়ে নেন সাবেক উপমন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়ে * নিজেই গড়ে তুলেছেন ক্লিনিক

Advertisement

Icon

শাহাদাত হোসেন, ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর)

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পরীক্ষার নামে কমিশন বাণিজ্য

Advertisement

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, দুর্নীতি, সার্টিফিকেট বাণিজ্য এবং রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাসির উদ্দিন এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

জানা যায়, ২০২১ সালের ৫ আগস্ট ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন ডা. নাসির উদ্দিন। পরে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এমএম এনামুল হক শামীমের আত্মীয় (ভাগিনা) পরিচয়ে হাসপাতালটির আরএমও পদ বাগিয়ে নেন। মন্ত্রীর ক্ষমতাকে পুঁজি করে হাসপাতালটির মধ্যে একটি নিজস্ব বলয় তৈরি করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল সংলগ্ন একাধিক ক্লিনিক ও ফার্মেসির শেয়ার মালিক বনে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে-রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ওইসব ক্লিনিকে পাঠানো হয় এবং এর বিনিময়ে তিনি কমিশন নেন। সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার রসিদ পর্যালোচনা করে অভিযোগের কিছু তথ্যের মিল পাওয়া গেছে। যেখানে দেখা যায়, ডা. নাসির উদ্দিনের ব্যবস্থাপত্র পেলে ক্লিনিকগুলো সাধারণ মানুষের চোখ এড়াতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রসিদে রেফার্ট বাই নাসির উদ্দিন না লিখে এম উদ্দিন লেখেন।

এর আগে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালায়। সে সময় হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয় নজরে আসে এবং কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডা. নাসির উদ্দিনের মালিকানা থাকায় প্রাথমিকভাবে তাকে সতর্ক করেন দুদক কর্মকর্তারা। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সুযোগ বুঝে ডা. নাসির উদ্দিনও পালটে ফেলেন নিজেকে পালটে ফেলেন। হঠাৎ করেই জামায়াতে ইসলামী ঘরানার চিকিৎসক বনে যান তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাজেরা বেগম অভিযোগ করেন, সময়মতো চিকিৎসক পাওয়া যায় না এবং হাসপাতালের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন। রামভদ্রপুরের রহিমা খাতুন বলেন, তার শাশুড়িকে ভর্তি করার পর নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশ ও খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পারভীন নামে এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, শারীরিক সমস্যা নিয়ে ডা. নাসির উদ্দিনের কাছে গেলে তাকে পাঁচটি পরীক্ষা লিখে দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিক থেকে সেগুলো করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

দুদকের মাদারীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক শ্যামল চন্দ্র সেন বলেন, ডা. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিকানার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। তবে ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, তার নামে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের মালিকানা নেই। কমিশন বাণিজ্য কিংবা কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, ডা. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম