Logo
Logo
×
   

Advertisement

বাংলার মুখ

ভেদরগঞ্জের সত্যপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়

মেডিকেল ছুটি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে প্রবাসে শিক্ষিকা

নেওয়া হয়নি অধিদপ্তরের অনুমোদন

Advertisement

Icon

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মেডিকেল ছুটি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে প্রবাসে শিক্ষিকা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ভুয়া মেডিকেল ছুটির অজুহাতে নাসিমা আক্তার নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা বেশ কয়েক মাস ধরে ইতালিতে আয়েশি জীবনযাপন করছেন। তিনি ভেদরগঞ্জের রামভদ্রপুর ইউনিয়নের সত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরিরত। এতে করে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। আর এ ভুয়া মেডিকেল ছুটি প্রাপ্তির কাজে সহযোগিতা করছেন তার বোন উপজেলার পূর্ব গৈড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি) পারভীন আক্তার।

বিষয়টি নিয়ে স্কুলের অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এ তথ্য জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

জানা গেছে, সত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার ২০১০ সালে ২ মার্চ এ স্কুলে যোগদান করেন। এরপর তিনি কয়েক বছর আগেও স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছ থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে ছুটির আবেদন দিয়ে তিনি ছুটি কাটিয়েছেন। কিন্তু গত ২৯ মার্চ একই উপায়ে তিনি অসুস্থ থাকার কথা বলে মেডিকেল ছুটি নেন। এরপর ২৭ এপ্রিল তার বোন পারভীন আক্তার এসে আরও একটি ছুটির আবেদন জমা দিয়ে আরও এক মাসের ছুটি নেন।

তৃতীয়বার একই ব্যক্তি ফের ২৮ মে থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত নাসিমা আক্তারের জন্য ছুটির সময় আরও এক মাস বৃদ্ধি করেন। এ পর্যন্ত এসব আবেদনের মাধ্যমে তিনি মোট ৭০ কার্যদিবস ইতালিতে অবস্থান করেন।

সরেজমিন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নাসিমা আক্তার তিন মাস ধরে মেডিকেল ছুটি কাটাচ্ছেন। তবে তার প্রকৃত অবস্থা জানতে তাকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু তিনি কোনো হাসপাতাল বা বাড়িতে আছেন কিনা তা জানতে তার বোন সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তারকে ফোন করলে তিনিও নাসিমা আক্তারের সঠিক অবস্থান বলতে পারেননি। এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিতে হলে প্রথমে সরকারি চাকরিজীবী হিসাবে পাসপোর্ট করার জন্য বা পাসপোর্ট সচল করার জন্য নিজ বিভাগ থেকে অনাপত্তি সনদ (NOC) সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বহিঃবাংলাদেশ অর্জিত ছুটি (Ex-Bangladesh Earned Leave) নিতে হবে।

সেখানে যদি ইতালি থাকা অবস্থায় পূর্ব অনুমোদিত ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত ছুটির প্রয়োজন হয়, তবে ইতালির বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন করে ছুটি বাড়ানোর অনুমতি নিতে হবে। এগুলোর কিছুই করেননি ওই সহকারী শিক্ষিকা। কিন্তু সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন না নিয়েই পাসপোর্ট তৈরি করে অধিদপ্তরের বিনানুমতিতে মাসের পর মাস ইতালিতে স্বামী-সন্তানের কাছে অবস্থান করছেন। এসব ছুটি চলাকালীন তিনি বেতন-ভাতাসহ সরকারের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হচ্ছেন।

পূর্ব গৈড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি) পারভীন আক্তার মুঠোফোনে বোনের পক্ষে ছুটির আবেদন করার কথা স্বীকার করলেও সাক্ষাৎকারে অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ. ছোবাহান মুন্সি বলেন, সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা আক্তারের ইতালি গমনের বিষয়টি জানতেন না। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে ডিজি মহোদয়ের অনুমোদন নিতে হয় বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক এবং এটিও সুপারিশ করেছেন তাই বেডরেস্টের জন্য তার ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। এখন যদি তিনি দেশের বাইরে যান তাহলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আজই লিখব। ঘটনা সত্যি হলে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম