Logo
Logo
×
   

Advertisement

বাংলার মুখ

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লুটপাট দুর্নীতিসহ ১৪ অভিযোগ

যোগদানের এক বছর না হতেই অনিয়মের পাহাড়

Advertisement

Icon

শাহ মো. রেজাউল করিম, পীরগঞ্জ (রংপুর)

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অনুগত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানোসহ ১৪টি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়া তার বড় ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামান, প্রভাষক মাহমুদ হাসান এবং জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পলাশ সরকারকে সঙ্গে নিয়ে মিলেমিশে কলেজে একচ্ছত্র দুর্নীতি ও অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কলেজটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ শেষে উন্নতমানের কম্পিউটার, রাউটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদানের পরই তিনি ৪০টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরিয়ে ফেলেন। শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহার সুবিধার্থে ৪০টি ওয়াটারপ্রুফ রাউটার নষ্ট দেখিয়ে বিক্রি করে নিুমানের রাউটার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ওই অধ্যক্ষ পানির পাম্প মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি তার তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উইভিং, স্পিনিং শেড ও টেস্টিং ল্যাবের কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে আছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ্যাপারেল বিভাগের প্রায় দুই লাখ টাকার একটি অত্যাধুনিক ‘রেজার’ ল্যাপটপের হদিস মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এটি তার ভাইয়ের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলেছেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কৌশলে বদলি করে নিজের অনুগত শিক্ষক-কর্মচারী দিয়ে কলেজ পরিচালনা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী বলেন, অধ্যক্ষ ও তার সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের মুখে। এর তদন্ত ও সঠিক বিচার প্রয়োজন। অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের স্বার্থের ব্যাঘাত হয়েছে, তারাই অভিযোগ করেছে। কম্পিউটারগুলো না চলার কারণে আমি কিছু যন্ত্রাংশ লাগিয়েছি। রাউটারগুলো শিক্ষার্থীরা সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করেছে। যে কম্পিউটারের হদিস নেই, সেটি ডিপার্টমেন্টকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি তার ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামানের ব্যাপারে বলেন, আমি কাজের স্বচ্ছতা, বিশ্বাস ও জবাবদিহিতার কারণে তাকে দিয়ে কাজ করেছি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম