Logo
Logo
×
   

বাংলার মুখ

টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিং গ্রাহকের ঘাড়ে ‘ভূতুড়ে বিল’

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিং গ্রাহকের ঘাড়ে ‘ভূতুড়ে বিল’

ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। মাসে মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও কারও বিল দ্বিগুণ, আবার কারও তিন-চার গুণ পর্যন্ত বাড়ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডাররা অনেক সময় মিটার না দেখেই মনগড়া বিল তৈরি করছেন। এমনকি ঘুস না দেওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গ্রাহকদের ভাষায়, স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি ইউনিট দেখিয়ে তৈরি করা এসব বিলই ‘ভূতুড়ে বিল’। এ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ফৈলারঘোনা গ্রামের মো. আবু হানিফের বাড়িতে তিনটি লাইট, তিনটি ফ্যান ও একটি ফ্রিজ রয়েছে। তার দাবি, বেশিরভাগ সময় লোডশেডিং থাকলেও বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কাগজের কোনো মিল নেই। প্রায় ৫শ ইউনিট অতিরিক্ত দেখিয়ে বিল করা হয়েছে। আবু হানিফ বলেন, আগে সাড়ে ৩শ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ টাকা বিল আসত। এখন প্রায় দুই হাজার টাকা করে বিল আসছে। মিটার রিডাররা মিটার না দেখেই বিল করেন। বিদ্যুৎ অফিসে বারবার জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা একেএম নজরুল ইসলামেরও একই অভিযোগ। তার মিটারে ২ হাজার ৮৫৮ ইউনিট দেখালেও এরই মধ্যে তিনি ৪ হাজার ১৫০ ইউনিটের বিল পরিশোধ করেছেন। ১ হাজার ২৯২ ইউনিটের বিল পরিশোধের পরও গত মাসে ২ হাজার ২০২ টাকার আরেকটি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মিটার রিডাররা কৌশলে ঘুস দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরের মাস থেকেই অতিরিক্ত বিল আসতে শুরু করে।

অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিটার রিডার বলেন, তারা সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত নন, মাস্টাররোলে কাজ করেন। বিভিন্ন কোম্পানির মতো তাদের ওপরও বিলের টার্গেট দেওয়া হয়। ফলে অনেক সময় বাড়তি বিল করতে বাধ্য হন তারা। এ থেকে ঊর্ধ্বতন থেকে নিুপদস্থ কর্মচারীরাও ভাগ পান বলে দাবি করেন তিনি।

ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, তার বাসায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউনিট অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। মিটার রিডার থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি।

জাহিদ নামে আরেক গ্রাহক বলেন, টাঙ্গাইলের প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক ভূতুড়ে বিলের শিকার। কিন্তু কার কাছে অভিযোগ করলে দ্রুত সমাধান হবে, সেটিও অনেকে জানেন না। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা দ্রুত সমাধান করা হয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .