Logo
Logo
×
   

বাংলার মুখ

সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ছোট হচ্ছে কুতুবদিয়া

বিলীন হচ্ছে বসতভিটা

Icon

কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ছোট হচ্ছে কুতুবদিয়া

ছবি: যুগান্তর

বেড়িবাঁধ নির্ভর উপজেলা কুতুবদিয়া। এখানে বর্তমানে দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। সরকার যায়-আসে কিন্তু দ্বীপের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাদের বাঁচতে হয় সাগরের সঙ্গে সংগ্রাম করে। কারণ নেই টেকসই বেড়িবাঁধ, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে সবকিছু সাগরে নিমজ্জিত হচ্ছে। সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ছোট হচ্ছে কুতুবদিয়ার আয়তন, মানুষ হারাচ্ছে বসতভিটা।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারদলীয় নেতাকর্মী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে সিংহভাগ অর্থ লোপাট হয়ে যায়। এতে করে বছর শেষ না হতেই সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় বেড়িবাঁধ ভেঙে সাগরের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। সাম্প্র্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে সাগরের পানি বেড়ে কুতুবদিয়ার মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে অন্যের ঘরে থাকছেন। কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের রুমাইপাড়া, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের সাইটপাড়া, পূর্ব তাবালেরচর বায়ু বিদ্যুৎ, আনিছের ডেইল, উত্তর কৈয়ারবিল এলাকার প্রায় আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কিছু অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি বরাদ্দের কাজ চলমান আছে। সাইটপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতভিটে সাগরে তলিয়ে গেছে। বসতভিটে সাগরে তলিয়ে যাওয়ার কারণে তাদের ঘরের আসবাবপত্র খোলা আকাশের নিচে রেখে অন্যের ঘরে বসবাস করছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, সাগরের পানি বাড়লেই আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ে। প্রতিবছর বর্ষা আসলে আমাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর জিও ব্যাগ দিয়ে মেরামত করা হয় কিন্তু এসব জিও ব্যাগ সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় পানিতে মিশে যায়, বরাদ্দ ভেস্তে যায়। তাই সরকারের কাছে তাদের দাবি প্রতিবছর বরাদ্দ না দিয়ে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামত করা হলে দ্বীপের মানুষের জীবন অনেকটা সহজ হবে।

কুতুবদিয়ার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও মো. আতিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জরুরি বরাদ্দে কুতুবদিয়া ভাঙা বেড়িবাঁধ অংশে জিও ব্যাগ দিয়ে মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। তবে সুপার ডাইক প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

কুতবদিয়ার ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাদের বসতভিটা সাগরের পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .