Logo
Logo
×
   

Advertisement

বাংলার মুখ

উৎপাদন আছে, বাজার নেই

Advertisement

Icon

একরাম তালুকদার, দিনাজপুর

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উৎপাদন আছে, বাজার নেই

পাথর খনি দিনাজপুর। ফাইল ছবি

Advertisement

দেশে প্রতিবছর পাথরের চাহিদা দুই কোটি টনেরও বেশি। আর দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় প্রতিবছর উৎপাদন হয় মাত্র ৫ লাখ টন পাথর। তারপরও প্রতিবছর খনিতে উৎপাদিত পাথরের বেশির ভাগ অংশই বিক্রি হয় না। বর্তমানে খনিতে প্রায় ১৫ লাখ টন পাথর অবিক্রীত রয়েছে। উৎপাদনের তুলনায় বিক্রি কম হওয়ায় লাভজনক এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি গত দুবছরে লোকসান গুনেছে ৪৪ কোটি টাকা।

দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড। জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের তত্ত্বাবধানে এখানে প্রায় ১ হাজার দেশি-বিদেশি শ্রমিক তিন শিফটে কাজ করে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন করছে এ খনি থেকে। কিন্তু দুবছর ধরে উৎপাদনের তুলনায় বিক্রি কম থাকায় খনিতে জমেছে প্রায় ১৫ লাখ টন পাথর। সংরক্ষণ সংকটে ইতোমধ্যেই দুদফা পাথর উত্তোলন বন্ধও রাখতে হয়েছে।

তথ্যমতে, দেশে পাথরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ২ হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার রেলপথে প্রতিবছর ১ কোটি ঘনফুট পাথরের চাহিদা রয়েছে। এছাড়া নদী শাসনসহ অন্যান্য সরকারি উন্নয়ন কাজেও লাগে। এসব পাথরের সিংহভাগ ভারত, ভুটান, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। এ কারণে মধ্যপাড়ায় উত্তোলিত পাথরের বিশাল স্তূপ জমে গেছে।

খনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, পাথর বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে লাভজনক এই খনিটি লোকসানের মুখে পড়েছে। ২০১৮-১৯ সালে মধ্যপাড়া পাথর খনি ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা লাভ করে। ২০১৯-২০ সালে ২২ কোটি ৪০ লাখ, ২০২০-২১ সালে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ, ২০২১-২২ সালে ১৮ কোটি ২৫ লাখ, ২০২২-২৩ সালে ১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা লাভ করে এ খনি। কিন্তু পরবর্তী অর্থবছরেই শুরু হয় লোকসানের পালা। পাঁচ ধরনের পাথরের মধ্যে ছোট আকারের পাথরের চাহিদা থাকলেও ব্যালাস্ট ও বোল্ডার পাথরের বিক্রি খুবই কম। অথচ এসব পাথর রেলপথ, নদীশাসন, বাঁধ ও বড় অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা সম্ভব। ইতোমধ্যে রেলওয়ে, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে কোম্পানি। অন্যদিকে সড়ক পথে পাথর পরিবহণের খরচ বেশি হওয়ায় সরকার মধ্যপাড়া খনির সঙ্গে রেললাইন পুনর্নির্মাণ কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ নির্মাণকাজ শেষ হলে পাথর বিক্রি বাড়বে বলে জানান খনির কর্মকর্তারা।

কর্তৃপক্ষ বলছে, খনির উৎপাদিত পাথরের অর্ধেকেই পাউবো এবং রেলওয়ের উপযোগী। প্রতিষ্ঠান দুটি পুরোদমে পাথর নেওয়া শুরু করলে সংকট কমবে।

এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, যে সাইজের পাথরের চাহিদা বেশি সেটি কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়-এজন্য আমরা খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসিকে চিঠি দিয়েছি যে, তাদের যে বিদ্যমান ক্রাসিং প্ল্যান্ট আছে, সেটাকে মোডিফাই করার। যদি সেটা না হয় তাহলে নতুন কোনো ক্রাসিং প্ল্যান্ট বসিয়েও যদি আমরা চাহিদামতো পাথরের সাইজ করতে পারি। সেজন্য আমরা কমিটি গঠন করে দিয়েছি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম