গোয়ালন্দে আখ খেতে বিদ্যুৎ সংযোগ
তারে জড়িয়ে নারীর মৃত্যু লাশ পুঁতে ফেলার চেষ্টা
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোয়ালন্দে আখ খেতের চারপাশে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নবীরন বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য খেতের পাশেই গর্ত করে লাশ আংশিক পুঁতে ফেলে আখের পাতা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনা জানাজানির পর হতভাগ্য নারীর পরিবারকে চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে স্থানীয় কয়েক বিএনপি নেতা মধ্যস্থতা করেন বলে জানা গেছে। থানার ওসির ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বুধবার রাতে তিনি হাসপাতাল থেকে লাশটি হেফাজতে নিয়েও সুপারিশের ভিত্তিতে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। সেইসঙ্গে এটি স্ট্রোকজনিত মৃত্যু বলে বক্তব্য দেন তিনি। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার পুকুরপাড় সংলগ্ন আখ খেতের পাশ থেকে নবীরন বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত নবীরন বেগম স্থানীয় দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী। বুধবার বিকালের দিকে ওই নারী আখ খেতের পাশে নিজেদের ধানের জমিতে পরিচর্যা করতে গিয়েছিলেন। এদিকে এ মৃত্যু নিয়ে ওই নারীর ভাই আবজাল শেখের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বক্তব্য ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, এলাকার কয়েক বিএনপি নেতা চার লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন এবং তারা লাশের ময়নাতদন্ত চান না। এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় মণ্ডল হ্যাচারিজ সংলগ্ন জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রকিফুল মৃধার পুকুরপাড় ও আখ খেত সক্রিয় বিদ্যুতের তার দিয়ে ঘেরা। খেতের পাশে লাশ উদ্ধারের স্থানে একটি গর্ত খোঁড়া রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ওই গর্তে লাশটি পুঁতে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। মৃত নারীর দেবর আলতাফ শেখ জানান, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে রফিকুল মৃধার আখ খেতের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার ভাবি নবীরন বেগমকে উদ্ধার করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে থানা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ থানায় নিয়ে যায়। এরপর আমরা নেতাদের মাধ্যমে সুপারিশ করিয়ে রাতেই লাশ বাড়িতে নিয়ে যাই।’ টাকা লেনদেনের বিষয়ে অভিযুক্তরা হলেন-স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তালেব বেপারী, ইসমাইল বেপারী, ইউসুফ, আবু হানিফ, আবজাল শেখ, কৃষকদল নেতা তারা মিয়া প্রমুখ। এর মধ্যে আবু তালেব ও আফজাল অভিযোগ স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত রফিকুল মৃধার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘর তালাবদ্ধ। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমে পরিবার থেকে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল এবং এ নিয়ে তাদের কোনো ধরনের অভিযোগ নেই মর্মে লাশটি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। যে কারণে লাশটি স্বজনদের দিয়ে দেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
