Logo
Logo
×
   

বাংলার মুখ

সাভারের ল্যাবজোন হাসপাতাল

পেট কেটে ডেলিভারি ছাড়াই ঢাকায় প্রেরণ

প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারে ল্যাবজোন প্রাইভেট হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার শাহনা ফেরদৌসী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী রোকসানা বেগম। অপারেশনের প্রস্তুতি না নিয়েই পেট কেটে ডেলিভারির চেষ্টা ও পরে রক্ত না থাকায় পেট সেলাই করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো নিয়ে ক্ষতিপূরণ চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। তিনি সাভার থানায় একটি মামলাও করেছেন।

ভুক্তভোগী রোকসানা বেগমের স্বামী জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাক্তার শাহনা ফেরদৌসীর বিষয়ে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব বিষয় তুলে ধরেন। এ বিষয় সাভার ইউএনও, সাভার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে- ১৫ মে, ২০২৬-এ গর্ভের বাচ্চা ডেলিভারির জন্য সাভার ল্যাবজোন হাসপাতালে গেলে হাসপাতালে ভুক্তভোগীর শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুপুর ১২টায় ওটিতে পাঠায়। দুপুর ১টার দিকে ডাক্তার শাহানা ফেরদৌসী তড়িঘড়ি করে অপারেশন শুরু করেন। ভুক্তভোগীর তলপেট সম্পূর্ণ কেটে পেট থেকে বাচ্চা বের না করে ‘রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয় এবং রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হবে’ বলে ডাক্তার শাহানা ভুক্তভোগীর পেটের কাটা স্থানে কোনো রকম সেলাই দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ সময় প্রচুর ব্লিডিং নিয়ে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। দুদিন পরে কর্তব্যরত ডাক্তার বাচ্চা ডেলিভারি করে। আমি ও আমার কন্যা এখনো গুরুতর অসুস্থ। এ জন্য বিপুল পরিমাণ খরচ জোগাতে হচ্ছে-যা আমাদের মতো গরিবের পক্ষে সম্ভব না। ডাক্তার শাহানা ফেরদৌসীসহ হাসপাতাল মালিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলে তারা মামলা না করতে বলে এবং যাবতীয় ক্ষতিপূরণ দেবে বলে আশ্বাস দেয়। গত ২৬ আগস্ট ২০২৬-এ হাসপাতাল মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণ বাবদ মাত্র ১০ হাজার টাকা সাধে। তাতে রাজি না হওয়ায় মালিকপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করে। হুমকির কারণে ভয়ভীতির মধ্যে দিন পার করছেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে ল্যাবজোন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াকিলুর রহমান বলেন, রোকসানা বেগম আমাদের হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন। ডাক্তার শাহানা ফেরদৌসী তার শারীরিক সব টেস্ট দেখে অপারেশনের জন্য তাকে ওটিতে পাঠান। অপারেশন চলাকালীন তার পরিবারের সদস্যকে জানানো হয়, পাঁচ থেকে ছয় ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। তারা অপারগতা স্বীকার করলে ডাক্তার রোগীকে এই মুহূর্তে রক্ত না দিতে পারলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক হাসপাতালের খরচে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরতদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে রোগী রোকসানা বেগমের হিস্ট্রি লিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরতদেরকে পাঠান। রোগীর সুবিধার্থে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফজলে বারী বৃহস্পতিবার বলেন, বিষয়টি আমলে নিয়েছি। তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে এখানে যথাযথ আইন মেনে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ওটিতে পাঠানো হয়েছে কিনা এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম