Logo
Logo
×
   

বাংলার মুখ

অপরাধের তথ্য নিয়ে লুকোচুরি

Icon

আবেদ আমিরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পটিয়ায় অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার তথ্য লুকাচ্ছে পটিয়া থানা। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির তথ্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লুকাতে চুরি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও ডাকাতির অধিকাংশ ঘটনায় মামলা না নিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি করে মামলা করা থেকে বিমুখ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাধ্য হয়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে কোনো মামলা নিতে হলে সেসব ঘটনার তথ্য পালটে ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে হারানো জিডি এবং ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা বা চুরির মামলা নেওয়া হয়। যুগান্তরের অনুসন্ধানে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। কেস স্ট্যাডি-১ : পটিয়ায় ফিল্মি স্টাইলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ২৫ জুলাই জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদণ্ডী গ্রামের প্রবাসী আলী আব্বাসের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদল ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩০-৩৫ হাজার টাকা লুটে নেয়। ঘটনার সময় পাশের বাড়ি থেকে মসজিদের মুয়াজ্জিন ফজরের আজান দিতে বের হয়ে ডাকাতদলের সামনে পড়েন। এ সময় ডাকাতরা তাকেও আটকে রেখে মারধর করে। ডাকাতি শেষে ডাকাতদল একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ডাকাতদলকে ধাওয়া দিলে তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এ ঘটনায় প্রবাসী আলী আব্বাসের ছেলে আসিফুল ইসলাম বাদী হয়ে পরদিনই ডাকাতির ঘটনায় ৮-৯ জন অংশ নেয় বলে উল্লেখ করে অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ মামলাটি শুরু থেকে রেকর্ড করতে গড়িমসি করে। বাদী মামলা করতে মরিয়া হলে পুলিশ দুদিন পর থানায় তথ্য পরিবর্তন করে নতুন করে একটি এজাহার লিখে তাতে মাত্র চার অপরাধী ঘটনায় অংশ নেয় উল্লেখ করে ডাকাতির ঘটনাকে সাধারণ দস্যুতার মামলা হিসাবে রেকর্ড করে। কেস স্ট্যাডি-২ : উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্য্যরে বাড়িতে গত ২৭ আগস্ট ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই পরিবারের এক সদস্য অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পেটানোর পর ডাকাতদল ঘরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা নিয়ে যায়। আহত বাবুল পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)। প্রবীর ভট্টাচার্য্য জানান, ‘সকালে পটিয়া থানার এসআই কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় আমি ডাকাতির মামলা করার কথা জানালে এসআই কামাল বলেন, ডাকাতির মামলা করা যাবে না। ডাকাতির মামলা করলে তালা কীভাবে ভেঙেছে তার ক্লু দিতে হবে এবং মামলার পরে প্রথমেই পার্শ্ববর্তী আপনার ভাতিজাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাব। এসআই কামাল মামলা না করতে চাপ দেন।’ ইউপি সদস্যের ছেলে রুপু জানান, রাতে থানায় গেলে থানার কম্পিউটারে মামলার এজাহার লিখে তাতে চারজন অপরাধী অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে ডাকাতির বদলে দস্যুতার মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দস্যুতার ঘটনা সাধারণত বাড়ির বাইরে বিশেষ করে রাস্তাঘাটে ঘটে। কিন্তু পটিয়ায় ওসির মনগড়া আইনের প্রয়োগে চলছে থানার কার্যক্রম। ভিকটিম অভিযোগ নিয়ে যান এক রকম, মামলা হয় অন্য রকম আইনে। সেবাপ্রত্যাশীদের অধিকাংশ অভিযোগকে মামলার বদলে জিডিতে রূপান্তর করায় মামলার বিপরীতে বেড়েছে জিডির পরিমাণ। পটিয়ায় প্রায় প্রতিদিন ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, খুন ও চুরির ঘটনা ঘটছে। থানায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লুকাতে এ পন্থা অবলম্বন করেন। থানার ওসি জিয়াউল হক তথ্য লুকানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যে ঘটনা ঘটছে প্রকৃত ঘটনাতেই মামলা দেওয়া হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম