সিংড়ায় স্কুলের জমি লিজ
টাকা ভাগ করে নিলেন দুই বিএনপি নেতা
Advertisement
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিংড়ার বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি লিজের পৌনে চার লাখ টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। আর এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত জুন মাসে ওই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে মাইকিং করে প্রায় সাত লাখ টাকায় ১২ একর জমি ইজারা বন্দোবস্ত দেয় স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গ্রামের উন্নয়নের নামে সেখান থেকে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেনের বিরুদ্ধে।
এদিকে ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৪ ও ২৮ জুন উপজেলার বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ একর জমি প্রকাশ্যে মাইকিং করে লিজ দেওয়ার ব্যবস্থা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ বিঘা জমি ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাড়ে ২১ বিঘা জমি তিন লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ টাকায় আগামী এক বছরের জন্য লিজ নেন গ্রামের কৃষকরা। কিন্তু উপস্থিত জনতার সামনেই গ্রামের উন্নয়নের নামে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুই লাখ ও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ও আজমল হোসেন। বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। আর বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, প্রতিষ্ঠানের আবাদযোগ্য জমিজমা প্রকাশ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি রসিদ মূলে যে টাকা পেয়েছেন, সে টাকার হিসাব রেখেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ টাকা গ্রামের লোকজনের মধ্যেই আছে। পারলে আপনি নিউজ করেন। আর অপর বিএনপি নেতা আজমল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের কিছু টাকা গ্রামের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে কাজে লাগানো দোষের কিছু দেখছি না। তবে তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই।
