মেঘনা নদীতে জাল ফেলা নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা
কমলনগরে যুবদল ছাত্রলীগ নেতার বলয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট
Advertisement
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কমলনগরে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চরে ‘পিডাইন্না জাল’ ফেলা ও নদীর নির্দিষ্ট পয়েন্ট দখল কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জেলে সিন্ডিকেটের আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ ও জেলেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাতাব্বর হাটসংলগ্ন মেঘনার নতুন চরে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ ধরার ফাঁদ হিসাবে পরিচিত ‘পিডাইন্না জাল’ ফেলা নিয়ে একটি সমঝোতা হয়। শর্তানুযায়ী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. জিহাদ, যুবদল নেতা হেলাল মেম্বার, মো. কবির ও হাসানাতের নেতৃত্বে ১০টি নৌকার মাছ শিকারের কথা ছিল। এর মধ্যে হেলাল মেম্বারের তিনটি, জিহাদের তিনটি, কবিরের তিনটি এবং হাসানাতের একটি নৌকা নির্ধারণ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে জিহাদ, কবির ও হাসানাত জোটবদ্ধ হয়ে হেলাল মেম্বারের গ্রুপকে বিতাড়িত করে জাল ফেলতে বাধা দেয়। এ বিরোধের জেরে গত বুধবার রাতে হেলাল মেম্বারের একটি নৌকা চরে জাল ফেললে জিহাদ গ্রুপের জামাল মাঝির লোকজন তা কেটে ফেলে। এতে দুপক্ষের জেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে জামাল মাঝিসহ চার জেলে হামলা চালাতে হেলাল মেম্বারের নৌকায় উঠলে তাদের আটক করে ঘাটে নিয়ে আসা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে খবর দিলে কমলনগর থানা পুলিশ চার জেলেকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্ধার ব্যক্তিরা হলেন-জামাল মাঝি, তার ছেলে সুমন, কামাল মাঝি ও শামীম। হেলাল মেম্বারের নৌকার মাঝি মো. রিপন বলেন, ‘সমঝোতা অনুযায়ী আমরা জাল ফেলেছিলাম। কিন্তু জিহাদের নির্দেশে জামাল মাঝির জেলেরা অহেতুক আমাদের জাল কেটে দেন। এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলে জামাল মাঝি ও জিহাদের নেতৃত্বে তাদের জেলেরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাদের চার জেলেকে ধরে কৌশলে ঘাটে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি পুলিশকে অবগত করলে তারা এসে ওই চারজনকে থানায় নিয়ে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেন।’ সাহেবেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল মেম্বার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নদীতে জাল ফেলার বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ, কবির ও হাসানাতসহ আমাদের একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কে কোন পয়েন্টে জাল ফেলবে তা-ও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জিহাদসহ অন্যরা গোপনে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে আমার নৌকার জেলেরা নদীতে জাল ফেললে তা কেটে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে নৌকায় উঠে মারধর করার সময় জামাল মাঝির চারজন জেলেকে আমার জেলেরা ধরে নিয়ে এলে আমি থানার ওসিকে জানানোর পর তিনি পুলিশ পাঠান।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এখন প্রতিপক্ষ বিষয়টিকে অপহরণ দাবি করে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। ঘটনার পর আমরা ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করলেও আমাদেরটা গ্রহণ করেনি। আ.লীগের সময়ে জিহাদ নদীর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এখনো বিএনপির কিছু নেতার সহযোগিতায় তার নিয়ন্ত্রণে চলছে নদীর সব কর্মকাণ্ড।’ অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের জামাল মাঝি দাবি করেন, ‘হেলাল মেম্বার জোরপূর্বক নদী দখলের চেষ্টা করছেন। সাধারণ জেলেরা প্রতিবাদ জানালে তাদের চার জেলেকে অপহরণ করা হয়, যা পরবর্তীতে পুলিশ এসে উদ্ধার করে।’ থানার ওসি মো. ফরিদুল আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
