মনপুরা নবীনগর নাঙ্গলকোটে সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত
কালিয়ায় আহত যুবকের মৃত্যু
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে জাল পাতা নিয়ে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আসন্ন ইউপি নির্বাচনের পোস্টার লাগানো ও ছেঁড়া নিয়ে এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নারীকে কটূক্তি করা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এদিকে নড়াইলের কালিয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তি মারা গেছেন। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : নড়াইলের কালিয়ার নড়াগাতী থানার চরকান্দিপাড়া গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হাসান শেখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার রাত ১২টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হাসান চরকান্দিপাড়া গ্রামের তারা মিয়া শেখের ছেলে। পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে বুধবার সকাল ৯টার দিকে কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ সোহেল রানা এবং আবেদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হাসান শেখসহ অন্তত ১১ জন আহত হন। ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে জাল পাতা নিয়ে চার জেলে ট্রলারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জেলে আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর তিন জেলেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অপর দুই জেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উপজেলার জংলারখালসংলগ্ন মেঘনায় মাছ শিকারের জন্য জাল ফেলছিল জংলারখাল মৎস্য ঘাটের ওবায়দুলের আড়তের রসিদ মোল্লার মাছ ধরার ট্রলার। এ সময় ফারুক কোম্পানির মাছের আড়তের দুই ট্রলার ও হারুন সাঝির মাছের আড়তের একটি ট্রলারের জেলেরা জাল ফেলতে বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টার লাগানো ও ছেঁড়াকে ঘিরে দুই সদস্য (মেম্বার) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে দুই মাসের এক অন্তঃসত্ত্বার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। হামলায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। জানা যায়, নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর আলগা হাটি (৫নং ওয়ার্ড) এলাকায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে বুধবার বিকালে এলাকায় পোস্টার লাগান আওয়াল মিয়া। এর কিছুক্ষণ পর একই গ্রামের মিন্টু মিয়াও নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রার্থিতা ঘোষণার পরপরই মিন্টু মিয়ার লোকজন আওয়াল মিয়ার পোস্টারগুলো ছিঁড়ে নষ্ট করে ফেলেন। এতে আওয়াল মিয়ার সমর্থকরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মিন্টু মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা আওয়াল মিয়ার সমর্থকদের বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও দোকানপাটে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর করে মূল্যবান স্বর্ণালংকারসহ নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুঁজকরা ও পাশের মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের লোকজনের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দিনভর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নাঙ্গলকোট-মনোহরগঞ্জ সীমান্তবর্তী জামাইর দোকান এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
