সুন্দরগঞ্জে ২৬ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ
দৌলতপুরে দুই মাসে আক্রান্ত ৫৪
Advertisement
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) ও দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরুর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া ২৬ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর গবেষণাগারে পাঠানো সেই মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম। তিনি বলেন, জবাই করা অসুস্থ গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু আছে কিনা- তা পরীক্ষার জন্য মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় রোগ গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে অ্যানথ্রাক্স পজিটিভ এসেছে। এর আগে, ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম একটি অসুস্থ গাভি জবাই করেন। পরে ওই গরুর মাংস কাটায় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নেন। গরু জবাইয়ের চার দিন পর মাংস কাটায় অংশ নেওয়া চারজনের শরীরে জ্বর আসে। পরে তাদের কারো পেট, কারো হাত, কারো পা এবং কারো হাতের আঙুলে ফোসকা দেখা দেয়। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আরও ১৬ জনের শরীরে একই উপসর্গ দেখা দেয়। পরে একে একে ২৬ জন আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন, রুমি বেগম ও রশিদা বেগম গুরুতর অসুস্থ বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ফ্রিজে রাখা মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলেন।
এদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তড়কা (অ্যানথ্রাক্স) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন। গত আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় মোট ৫৪ জন তড়কায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৪ জন তড়কায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত আগস্ট মাসে ৩০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত পাঁচজন রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার সাধন, ফিলিপনগর এলাকার রোহান, হোসেনাবাদ এলাকার আফরিন, সাদিপুর এলাকার মিনহাজ, আমদহ এলাকার সুমন, গোয়ালগ্রাম এলাকার রবিউল, রিফায়েতপুর এলাকার আসমান ইব্রাহিম ও পচা মাদিয়া এলাকার সোহেলসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন।
মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা তাসেন আলী (৪০) চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তিনি জানান, হঠাৎ তার হাতে একটি ঘা তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিলেও ঘা ভালো হচ্ছিল না। পরে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তড়কা রোগ শনাক্ত হয়। এরপর এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, তড়কা (অ্যানথ্রাক্স) গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত গরু-ছাগল জবাই করা কিংবা এসব পশুর মাংস ও দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।
