নোবিপ্রবিতে ‘বাংলা দর্পণ’
ক্যামেরার ফ্রেমে চেনা জগতের অচেনা গল্প
মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্যামেরার লেন্স আর শাটারের ক্লিকে জীবনের কোনো এক মুহূর্তকে চিরকালের জন্য থমকে দেওয়ার যে শিল্প, সেটাই ফটোগ্রাফি। আর যারা এ চেনা জগতের অচেনা আলো-ছায়ায় লুকিয়ে থাকা গল্প ও অনুভূতিগুলোকে ফ্রেমে বন্দি করেন, তারা নিজেরা কিন্তু থেকে যান আড়ালেই। ক্যামেরার ক্যানভাসেই ফুটে ওঠে তাদের শৈল্পিক ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি। আলোকচিত্রীদের এই শৈল্পিক ভাবনারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল ২ ও ৩ আগস্ট নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)। দুই দিন ধরে যেন এক টুকরো ক্যানভাসে রূপ নিয়েছিল নোবিপ্রবির বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়াম। মনোমুগ্ধকর ছবির পেছনের কারিগর আর ফ্রেমের ভেতরের আলো-ছায়ার খেলায় অডিটোরিয়াম জুড়ে শুধুই ছিল শৈল্পিক চিত্রের সমারোহ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় বন্দি হওয়া জীবনের নানা গল্প, বাংলার রূপবৈচিত্র্য থেকে শুরু করে সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ফ্রেমে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রদর্শনীস্থল। সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১১০০টি ছবি জমা পড়েছিল এ আসরে। শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, অনেক শিক্ষকের তোলা ছবিও স্থান পায় প্রদর্শনীতে। সেখান থেকে নিখুঁত বিচারে নির্বাচিত সেরা ৬৪টি আলোকচিত্র স্থান পায় ‘বাংলা দর্পণ : সিজন-৭’ গ্যালারিতে। গ্যালারিতে যেমন ছিল প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান যেমন : গাছপালা, নদ-নদী, ফুল-পাখি, তেমনই ছিল মানুষের জীবনের নানা পর্যায় ও জীবন্ত মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি। ফ্রেমে বন্দি ছবিগুলোর দিকে তাকালে মনে হচ্ছিল, প্রতিটি ছবিই যেন তার পেছনের গল্পটি দর্শকদের কাছে বর্ণনা করছে। এছাড়া প্রদর্শনীতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে ‘জুলাই কর্নার’, যেখানে সাম্প্রতিক ইতিহাসের ‘২৪-এর ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাপ ও আবেগময় ছবিগুলো দর্শকদের আপ্লুত করে। পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতিগুলোকে চিরস্থায়ী করে রাখতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় ‘ফটোবুথ’-এ।
সম্প্রতি (৩ আগস্ট, সোমবার) প্রদর্শনীর সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। ফটোগ্রাফারদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ফটোগ্রাফির মাধ্যমে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সমাজের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা সম্ভব। এটি কেবল স্মৃতি সংরক্ষণ করে না, সমাজে ইতিবাচক বার্তাও পৌঁছে দেয়। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারলে আলোকচিত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়।’ প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রশিল্পী আশরাফুল ইসলাম শিমুল।
ক্লিক আর শাটারের সঙ্গে ফ্রেমিংয়ের দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হলেও আলোকচিত্রীদের ফ্রেমে বন্দি থাকা মুহূর্তগুলো নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে রেখে গেছে সৃজনশীলতার এক নতুন ছাপ। চেনা জগতের অচেনা রূপ আর জীবনের সত্যগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে ‘বাংলা দর্পণ : সিজন-৭’ আরও একবার মনে করিয়ে দিল, একটি ভালো আলোকচিত্র শত শব্দের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
