Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি

কৃষিজমি রক্ষায় হচ্ছে ভূমি কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব জমিতে বসতবাড়ি ছাড়া যে কোনো স্থাপনা করতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে

Advertisement

Icon

হামিদ-উজ-জামান

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

প্রতিবছর আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে জমির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসাবে গঠন করা হবে ‘বাংলাদেশ ভূমি জোনিং ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ’। এটি কৃষিজমি সুরক্ষা ও জোনভিত্তিক ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় এ বিষয়টি যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খসড়াটির ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার মন্ডল রোববার যুগান্তরকে বলেন, উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ভালো। তবে প্রশ্ন হলো এর কার্যকারিতা নিয়ে। কেননা ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশে এরকম কর্তৃপক্ষ দিয়ে কৃষিজমি রক্ষা করা কঠিন। এছাড়া বর্তমানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। সেখানে কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে? তবে যে লক্ষ্য নিয়ে এটি করা হচ্ছে, সেটি ভালো।

অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বাংলাদেশ ভূমি জোনিং ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ নামে সরকার একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করবে। এ ভূমি কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। এর স্থায়ী ধারাবাহিক ও সাধারণ সিলমোহর থাকবে। এটি নিজ নামে সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও বিলি-বন্দোবস্ত করতে পারবে। এটি নিজ নামে মামলা করতে পারবে এবং এর বিরুদ্ধেও মামলা করা যাবে। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে। তবে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে সরকারের অনুমতি নিয়ে দেশের যে কোনো স্থানে এর কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশ ভূমি জোনিং ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কার্যপদ্ধতি বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের চাকরি বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এরকম বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য বিধি-বিধান প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া এ কর্তৃপক্ষ গঠন না হওয়া পর্যন্ত ভূমি সংস্কার বোর্ড সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবে।

নতুন এই কর্তৃপক্ষ গঠন বিষয়ে বলা হয়েছে, একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য নিয়ে কর্তৃপক্ষ গঠন হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হবেন। সরকার অন্যূন অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান এবং অন্যূন যুগ্মসচিব পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে দুই সদস্য নিয়োগ করবে।

কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার‌্যাবলি সম্পর্কে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ কৃষিজমি সুরক্ষা ও জোনভিত্তিক ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এজন্য সারা দেশে একই সঙ্গে বা পর্যায়ক্রমে একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার বা মৌজার ভূমির বিদ্যমান ব্যবহার, বৈশিষ্ট্য ও ভূমিরূপ যথাযথভাবে পরীক্ষা করবে। এরপর মৌজা, দাগ বা অন্য কোনো চিহ্ন বা সীমারেখা দিয়ে সারা দেশের জন্য ‘ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ’ ও স্থানিক পরিকল্পনা তৈরি করবে। ডেটাবেজ সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে। এছাড়া মানুষের কার্যক্রমের কারণে ভূমির উপরিভাগের ক্ষতিকর পরিবর্তন যথাসম্ভব রোধের ব্যবস্থা নেবে। ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য ভূমির উপরিভাগ, পাহাড় ও টিলা কাটা রোধের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবে। আরও বলা হয়েছে, এ আইনের বিধান লঙ্ঘন করে কোনো ব্যক্তি ভূমি জোনিং ম্যাপে কৃষিভূমি হিসাবে চিহ্নিত কোনো ভূমিতে নিজস্ব বসতবাড়ি তৈরি করতে পারবে না। তবে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভূমি ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ শতাংশ করে কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে কোনো কৃষিজমি থাকবে না। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার একর বা ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম