Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

সাদা পাথর লুট

কুশীলবদের খোঁজে সরকারি ৬ দপ্তর

মন্ত্রিপরিষদের পর এবার সাদা পাথর সংক্রান্ত নথি দুদকে তলব

Advertisement

Icon

সংগ্রাম সিংহ, সিলেট

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কুশীলবদের খোঁজে সরকারি ৬ দপ্তর

Advertisement

সাদা পাথর লুটের পেছনের কুশীলবদের খোঁজে সিলেটের ৬টি সরকারি দপ্তর। মন্ত্রিপরিষদের পর এবার দুদকের প্রধান কার্যালয় দপ্তরগুলোর কাছে সাদা পাথর সংক্রান্ত নথি চেয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে দপ্তরগুলোয়। তারা তৎপর হয়ে উঠেছে পাথর লুটের কুশীলবদের খোঁজে। দপ্তরগুলো হচ্ছে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, জেলা প্রশাসন অফিস, পুলিশ সুপার কার্যালয়, কোম্পানীগঞ্জ থানা, খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) এবং খনিজসম্পদ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিকেও (বেলা) নথি সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পদ্মাসন সিংহ জানান, ইতঃপূর্বে সাদা পাথর লুটের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। দুদকে প্রতিবেদন পাঠানোর ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দেবেন।

সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সাদা পাথর লুটের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে আগেই। এখন অভিযুক্তদের নামসহ দুদকের জন্য প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি রতন শেখ জানান, দুদকের একটি টিম থানায় এসে অনেক তথ্য নিয়ে গেছে। আরও তথ্য সংগ্রহে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, ‘নথি তলবের কোনো চিঠি সিলেট অফিসে আসেনি। ঢাকা অফিসে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ সংক্রান্ত যথেষ্ট নথি বেলার রয়েছে। প্রয়োজনে সরবরাহ করা হবে।’ এ ব্যাপারে জানতে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীকে একাধিকবার ফোনে কল করা হয়েছে। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি।

দুদকের চাওয়া নথির মধ্যে রয়েছে-ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তদন্তের ফটোকপি, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর; ভোলাগঞ্জ থেকে কী পরিমাণ পাথর উত্তোলন বা আত্মসাৎ হয়েছে তার হিসাব ও রেকর্ডপত্র; রাষ্ট্রের ক্ষতির পরিমাণ; মামলার এজাহার ও গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা; খনি ও খনিজসম্পদ আইন ১৯৯২ ও বিধিমালা ২০১২-এর কপি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিবরণ। দুদকের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুদক জানায়, সাদা পাথর লুটপাটের সঙ্গে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক রাশেদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, অভিযানে প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। অপরাধের মাত্রা ও সংশ্লিষ্টতার ধরন বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ১৩ আগস্ট দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফি নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি দল ভোলাগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করে। তারা দেখতে পান পর্যটন সেবা ও বিজিবি ক্যাম্প টহলে থাকা সত্ত্বেও কয়েক শ কোটি টাকার পাথর তুলে নেওয়া হয়েছে।

এনফোর্সমেন্ট টিমের অনুসন্ধানে উঠে আসে-ভোলাগঞ্জ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে প্রায় ১৫ একর এলাকায় সাদা পাথর নামে পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিন মাসেই নির্বিচারে পাথর লুট করে নেওয়া হয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায়।

পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তদন্ত প্রতিবেদন চাইলে দুদক প্রভাবশালী রাজনীতিকসহ ৫২ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি আলাদা তদন্ত প্রতিবেদনে সাদা পাথর লুটে শতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় খনিজসম্পদ ব্যুরো জ্ঞাতনামা ২ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র ১৭ জন।

এদিকে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় বহুল আলোচিত সাহাব উদ্দিনের এক দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। রিমন্ড শেষে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে বালু চুরির দুটি মামলায় তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

দুদক

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম