Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

লক্ষ্য অপচয় ঠেকানো

শেখ মুজিবের নামে নেওয়া অযৌক্তিক প্রকল্প বাতিল

চার বছরে অগ্রগতি মাত্র ৩ দশমিক ১ শতাংশ * জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে -আইএমইডি পরিচালক

Advertisement

Icon

হামিদ-উজ-জামান

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোক কেন্দ্র’ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখেই শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নেওয়া ২১৩ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হতো না। ফলে প্রকল্পের পুরো অর্থই অপচয় হতো। সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি শেষ করার সুপারিশ করা হয়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামে কোনো যৌক্তিকতা ছাড়াই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি নেওয়ার আগে যথাযথ সমীক্ষাও করা হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নেও ছিল স্থবিরতা। চার বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়ায় মাত্র ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে কাজ বাকি রেখে প্রকল্পটি শেষ করার সুপারিশ করে পরিকল্পনা কমিশন। সুপারিশে বলা হয়, অনুমোদিত কাজ বাকি রেখে প্রকল্পটি সমাপ্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় (যা ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে) ধরে প্রকল্পটি সংশোধন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুর রউফ যুগান্তরকে জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছিল। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সরাসরি বন্ধ করা বলা চলে না। কাজ বাকি রেখে প্রকল্প সমাপ্ত করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে আমরা এটি অনুমোদন না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠেকানো যায়নি। তবে জমি অধিগ্রহণ ছাড়া কোনো কাজও হয়নি।

২০ জুলাই পিইসি সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হলেও দেশে এ ধরনের প্রকল্প প্রথম এবং বাস্তবায়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অনুধাবনগত জ্ঞানের অভাব রয়েছে। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া ২০২০ সালের ২১ জুনের অবস্থান থেকে কর্কট ক্রান্তি রেখা ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদ বিন্দু প্রতিবছর ১৫ মিটার সরে যায়। এটি চার বছরে ৬০ মিটার দক্ষিণে সরে গেছে। ফলে প্রকল্পটি এর মধ্যে গুরুত্ব হারিয়েছে। মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ ডোম ভূমি থেকে প্রায় ১৭২ ফুট উচ্চতায় স্থাপন করার কথা ছিল। টাওয়ার নিশ্চল করার উপায় হিসাবে ভিত্তিমূল দৃঢ় করা হলে প্রকল্প ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেত। কারিগরি ও আর্থিক দিক থেকেও কখনো উপযোগী হতো না। কৃত্রিম আলোর উপস্থিতি ও ভৌগোলিক কারণে বাতাসের আর্দ্রতায় আধিক্য থাকলে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্ত মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপযোগী হতো না।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, গত বছরের ১৭ নভেম্বর প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়-প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কারিগরি দিক থেকে উপযোগী হবে না। ফলে বর্তমান অবস্থায় প্রকল্প সংশোধন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রকল্প ব্যয় অত্যধিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পিইসি সভায় বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও জরুরি জনস্বার্থমূলক নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ জাতীয় অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় এবং অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণের সঙ্গে জড়িত সব পর্যায়ের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পিইসি সভায় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিনিধি জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) ২১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন যথাযথভাবে ফরম্যাট অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। এটি অনভিপ্রেত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম