Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)

বিএনপি-জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আনিছুল

বিএনপির ‘পথের কাঁটা’ দলের সাবেক সংসদ-সদস্য * ২৩ হাজার তরুণ ভোটারই নির্ধারণ করবে জয়-পরাজয়

Advertisement

Icon

মাহবুব রহমান, রংপুর

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী দলটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার ও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডল। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে আছেন।

বুধবার সরেজমিন ঘুরে ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলী সরকার ও এটিএম আজহারুল ইসলামের সঙ্গে তীব্র লড়াই হবে আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের। তবে জামায়াতের কোনো প্রার্থী দেশ স্বাধীনের পরে এই আসনে নির্বাচিত হতে পারেননি। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাঠে আলোচনায় থাকলেও তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হবে। আবার বিএনপি প্রার্থীর ‘পথের কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী।

এই আসনে সর্বাধিকবার নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরীসহ তার দলের প্রার্থীরা। এখানে দলটির ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাই এই ভোট ব্যাংকই এখন সবার লক্ষ্য। জামায়াত এই আসনে তরুণ ও নারী ভোটারদের টার্গেট করে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারী কর্মীরা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের মাঠে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। তারা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। ভোটের ইশতেহারমূলক প্রচারণাপত্র তুলে দিচ্ছেন। তবে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিই প্রচারণায় বেশি সরব। অন্যদিকে নীরবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। এটি দলটির কৌশল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের প্রার্থী থাকলেও তাদের প্রচারণা উল্লেখ করার মতো নয়।

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন না। তাই তাকে বিএনপির প্রার্থীর পথের কাঁটা বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বদরগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তাই দলের নেতাকর্মীদের ওপর যেমন তার প্রভাব রয়েছে, তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও তার প্রভাব রয়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান কোন দিকে যায়, তা-ই দেখার বিষয়।

এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬ জন। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ২৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। ভোটার বেড়েছে ২৩ হাজার ৮৭৫ জন। এরা সবাই তরুণ। তাদের মন জয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা। এই ভোটাররাই হতে পারেন এ আসনে জয়-পরাজয়ের নির্ধারক।

জামায়াতের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম এই আসনে তার জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, নুতন প্রজন্ম দুর্নীতিমুক্ত, ইসলামের আলোকে ন্যায় ও সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখেছে, তার বাস্তবায়ন দেখতে চায়। বিগত দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার ছিল। তারা কেউই দেশের মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। তা পরীক্ষিত। তাই এবারের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ জামায়াতকেই ভোট দেবে।

সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসাবে সবসময় তৃণমূলের মানুষের পাশে ছিলাম। তাদের আস্থা ও ভালোবাসা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দলের নিরপেক্ষ জরিপ এবং তৃণমূলের অভিমত অনুযায়ী আমার চেয়ে যোগ্য প্রার্থী আর কেউ নেই। তাই দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আশাবাদী। তাই তিনি নির্বাচনে ধানের শীষের জয়লাভের প্রত্যাশা করেন।

ভোটের মাঠের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ। দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, তা এখনো বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের মানুষ মনে রেখেছে। জাতীয় পার্টির শাসনামলে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। দুর্নীতি হয়নি। বন্যায় আনাহারে মানুষ মারা যায়নি। মানুষ তাই জাতীয় পার্টির সেই শাসনামল আবার দেখতে চায়। তাই তিনি মনে করেন, ভোটাররা লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেবেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম