ফরিদপুর-৪ আসন
বিএনপির পাশে আ.লীগ, জামায়াত জোটে বিভক্তি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের চারটি আসনে নির্বাচনি প্রচার বেশ জমে উঠেছে। তবে ভোটের হিসাব-নিকাশে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসনটি উন্মুক্ত রাখায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভোটের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে টানছেন বিএনপির প্রার্থী। এদিকে সামাজিক বিভিন্ন কাজ করে আলোচনায় থাকা ব্যক্তি রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে। এলাকাবাসীর মতে, এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন ভোটাররা জানান, ভাঙ্গা উপজেলা এবং চরবেষ্টিত দুটি উপজেলা সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪। বিগত দিনে এ আসনটি মূলত আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী মতাদর্শের স্বতন্ত্র প্রার্থীর দখলে ছিল। শুধু ২০০২ সালের উপনির্বাচনে একবার বিএনপির প্রার্থী জিতেছিল। তবে অভ্যুত্থানের পর আসনটির নির্বাচনি হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে।
এ আসন থেকে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্যা (রিকশা), জামায়াতে ইসলামীর মো. সরোয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এ এম মুজাহিদ বেগ (ফুটবল), জাতীয় পার্টির প্রার্থী রায়হান জামিল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইসহাক চোকদার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আতাউর রহমান ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মজিবুর হুসাইন (ঘোড়া)।
এ আসনে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন নেতা তাদের কর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুলের হাতকে শক্তিশালী করেছেন। তাছাড়া ১১ দলীয় জোটের দুজন প্রার্থী মাঠে থাকায় বেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, শেষমেষ ১০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের কিংবা খেলাফতে মজলিসের যে কোনো একজন সরে যেতে পারেন। তাহলে হিসাব-নিকাশ আবার পালটাতে পারে। জামায়াত ছেড়ে দিলে বিএনপির শহিদুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান মোল্যা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
শহিদুল ইসলাম বাবুল পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা উপজেলা থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। পরে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন। বর্তমানে তিনি সদরপুর, ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন উপজেলায় নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকায় কৌশল পরিবর্তন করে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীদের। এ কারণে তিনি ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফর উল্যাহর আস্থাভাজনরা বিএনপির শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। মূলত মামলা ও গ্রেফতার এড়াতে তারা প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচারে নেমে পড়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে যে পরিমাণ নিপীড়নের শিকার হয়েছি, অন্য কেউ কিঞ্চিৎ পরিমাণও হয়নি। ১২৮ বার জেলে গিয়েছি, জুলুমের শিকার হয়েছি নিজের জন্য না-দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী রায়হান জামিল বলেন, আমি বিজয়ী না হতে পারলেও জনগণের জন্য কাজ করে যাব।
এ আসনে বেশ আলোচনায় আছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এ এম মুজাহিদ বেগ। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার বেগ পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ ক্রীড়া জগতে পরিচিতি রয়েছে পরিবারটির। মুজাহিদ বেগ জানান, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে তিনি জয়ী হবেন বলে আশাবাদী।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্যাও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। এই নেতাও ভোটের মাঠে পিছিয়ে নেই। তবে মূল বাধা হয়েছে জামায়াত জোটের অমীমাংসিত প্রার্থী নিয়ে। এসব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা এ সমস্যাকে চূড়ান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আশা করি, তারা জোটের যে কোনো একজনকে রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

