Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

বিএনপির জয়ী ৬ নারীর ৩ জন মন্ত্রিসভায়

শীর্ষ নেতা কিংবা মন্ত্রী-এমপির মেয়ে দেখে প্রার্থী নির্বাচন করলে দলের ত্যাগী নেত্রীরা হারিয়ে যায় -ড. দিলারা চৌধুরী

Advertisement

Icon

শিপন হাবীব

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৩ নারী মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিয়েছেন। বিএনপি এবার মোট ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এর ৬ জন সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এখন ছয় থেকে তিনজন মন্ত্রিসভায়। পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে আফরোজা খানম রিতা (বেসাময়িক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন) এবং প্রতিমন্ত্রী হিসাবে ফারজানা শারমিন পুতুল (নারী ও শিশু বিষয়ক/সমাজকল্যাণ) ও শামা ওবায়েদ (পররাষ্ট্র) দায়িত্ব পেয়েছেন। সবাই প্রথমবারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৮৫ জন নারী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। জয়ী হয়েছেন ৭ জন। বিএনপি থেকে জয়ী হন আফরোজা খানম, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, তাহসিনা রুশদীর, ফারজানা শারমিন, শামা ওবায়েদ ইসলাম ও নায়াব ইউসুফ আহমেদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়েছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবার নির্বাচনে নারীর তুলনায় পুরুষরা মনোনয়ন পেয়েছেন ২২ গুণ বেশি।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে সবাই পুরুষ, নারী নেই। এদিকে দীর্ঘ ২৫ বছর পর এবার কম নারী (৭ জন) নির্বাচিত হলেন। এর আগে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই একই সংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নারীদের ৫ শতাংশ মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। তবে দলগুলো সেই অঙ্গীকারও পূরণ করেনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদে ৯৬ জন নারী প্রার্থী সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেন। জয়ী হন ১৯ জন নারী, যাদের মধ্যে ৮ জন ছিলেন মন্ত্রিসভায়।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বুধবার যুগান্তরকে বলেন, নারীদের এখনো দাবিয়ে রাখা হচ্ছে। ৮৫ জন নারীর মধ্যে কেন মাত্র ৭ জন জয়ী হলো, এ নিয়ে তথ্য-উপাত্তসহ গবেষণা হওয়া জরুরি। মন্ত্রিসভায় নারীর সংখ্যাও বাড়ানো যেতে পারে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা করা হয়েছে ১০ জনকে। কিন্তু ওই ১০ জনের মধ্যে একজনও নারী নেই। উপদেষ্টা হিসাবে নারীদেরও রাখা উচিত ছিল।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জয়ী হন আফরোজা খানম রিতা। যিনি বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তার বাবা প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে চারবারের সংসদ-সদস্য, মন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

ফরিদপুর-২ আসনের এমপি শামা ওবায়েদ পেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। এ আসন থেকে তার বাবা একাধিকবার নির্বাচন করে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন।

নাটোর-১ আসনের এমপি ফারজানা শারমিন পুতুলকে নারী ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুতুল সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। এদিকে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, জয়ী নারীরা স্ব-স্ব যোগ্যতায় বিজয়ী হয়ে এসেছেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায়-ওরাও (বিজয়ীরা) সর্বদা মাঠে ছিলেন।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৭৩-১৯৭৫ সংসদে ১৫টি সংরক্ষিত আসনে নারী প্রতিনিধিত্ব ছিল। ১৯৭৯-১৯৮২ সংসদে ২ জন নির্বাচিতসহ ৩০টি নারী আসন মিলিয়ে মোট ৩২ জন নারী সংসদ-সদস্য ছিলেন। ১৯৮৮-৯০ সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না। ৪ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৯১-১৯৯৫ সংসদে ৫ জন নির্বাচিতসহ ৩৫ জন নারী সংসদ-সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে ৩ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন। ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল।

৭ম সংসদ নির্বাচনে সরাসরি জয়ী হন ৮ জন নারী-মোট নারী প্রতিনিধি ছিলেন ৩৮ জন। অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে ৭টি আসনে সরাসরি ও ৪৫টি সংরক্ষিত আসনসহ মোট ৫২ জন নারী সংসদ-সদস্য হন। নবম জাতীয় সংসদে ২১ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন এবং সংরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়। মোট নারী সংসদ-সদস্য হন ৭০ জন। আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল একতরফা, বিতর্কিত। এ তিনটি নির্বাচনে যথাক্রমে ১৮, ২৩ ও ১৯ জন নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম