বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
লুটপাট ও খেলাপির ঋণে সিএসআর ব্যয় নিম্নমুখী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আর্থিক খাতে নজিরবিহীন লুটপাটের নেতিবাচক প্রভাবের ক্ষত আরও প্রকট হতে শুরু করেছে। লুটপাটের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এ কারণে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর নিট আয় কমে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিট আয় করতেই পারছে না। ফলে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে অর্থ ব্যয় কমে গেছে। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান এ খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করতে পারেনি।
২০২৪ সালে ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ১৭টি ব্যাংক কোনো নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। এ কারণে ১১টি ব্যাংক ২০২৫ সালে সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। ২০২৪ সালে নিট মুনাফা না করেও অন্য উৎস থেকে ৬টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে। ৩৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০২৪ সালে ২২টি কোনো নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠান সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। নিট মুনাফা না করেও অন্য উৎস থেকে মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে। রোববার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিবিড়ভাবে তদারকি করে। ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর আর্থিক সামর্থ্যরে ওপর এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে। এ কারণে এখন খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে লাগামহীন গতিতে। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর আয় কমে গেছে। এ কারণে তাদের সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় যেমন কমেছে, তেমনি এ খাতে অর্থ ব্যয় করতে না পারার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, লুটপাট ও খেলাপি ঋণের কারণে ২০২৪ সালে ১৭টি ব্যাংক কোনো নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে-সরকারি খাতের জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে-এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।
এর মধ্যে ১১টি ব্যাংক ২০২৫ সালে সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে-সরকারি খাতের জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। ২০২৪ সালে নিট মুনাফা অর্জন করেও অন্য উৎস থেকে সিএসআর খাতে এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে।
ব্যাংকগুলোর গত বছরে সিএসআর খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যয় করেছে ৩৪৫ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ খাতে ব্যয় কম করেছে।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর ২০২৫ সালে সিএসআর খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় করেছে ৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। ৩৫টি ফাইন্যান্স কোম্পানির মধ্যে ২০২৪ সালে ২২টি কোম্পানির কোনো নিট মুনাফা অর্জিত হয়নি। এগুলো হচ্ছে-আভিভা ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল, বে লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এসএএফ ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, হজ ফাইন্যান্স, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স, মাইডাস ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, স্ট্যাটেজিক ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ও উত্তরা ফাইন্যান্স। এর মধ্যে ২১টি ফাইন্যান্স কোম্পানি সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এগুলো হচ্ছে- অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, সিভিসি ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফাস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স, মাইডাস ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ও উত্তরা ফাইন্যান্স।
২০২৪ সালে কোনো মুনাফা না করেও ৩টি কোম্পানি সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, হজ ফাইন্যান্স ও স্ট্যাটেজিক ফাইন্যান্স।
