Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

সংসদ-সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী

বার কাউন্সিল নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই

জাতীয় সংসদ অধিবেশন

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সুপ্রিমকোর্ট বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে কি না জানতে চেয়েছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন স্থগিত আসলে কি জ্বালানি সংকটের ইস্যু, নাকি একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ?

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আখতার হোসেন এ প্রশ্ন করেন। তার প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধ এবং আসন্ন ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন পেছানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সূত্রপাত্র করেন। তিনি জানতে চান, গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তরণের জন্য একটি নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল ১৯ মে। নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার মধ্যরাতে হঠাৎ করে সেই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হলো। প্রশ্ন হলো-আমরা যখন সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা বলছি, তখন সরকারি দলের তরফ থেকে জ্বালানি সংকট নিয়ে এক কথা বলা হয়। আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচন স্থগিত করার কারণ হিসাবে বলা হয়েছে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট। এ কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হলো। এখানে দুই ধরনের বিষয় রয়েছে। এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সংযোগ আছে। আবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আপনি (স্পিকার) জেনে থাকবেন, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডারের বিধান অনুযায়ী তিন বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অ্যাডহক কমিটি করেছিল। সেই কমিটি এখনো চলমান রয়েছে। কমিটি থেকে গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তরণের জন্য একটি নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল।

এ সময় অধিবেশনের সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ-সদস্য, আপনার মূল বক্তব্যটি বুঝতে পেরেছি। এটি কার্যবিবরণীতে আনলে ভালো হবে, রেকর্ড থাকবে। আপনি দয়া করে একটি নোটিশ দেন। জবাবে আখতার হোসেন বলেন, আমরা নোটিশ নিয়ে আসব। যেহেতু আজ জ্বালানিমন্ত্রী উপস্থিত আছেন, আইনমন্ত্রী উপস্থিত আছেন, আপনি চাইলে তাদের থেকে এ বিষয়ে সুরাহার জন্য একটি বিবৃতি দেওয়ার জন্য আপনি তাদের আহ্বান করতে পারেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে নিজস্ব স্বাধীনতায় সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ বেশ কয়েকটি সমিতির পক্ষ থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ এসেছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতি এশিয়ার বৃহত্তম অ্যাসোসিয়েশন। যেখানে ২২ হাজারের বেশি আইনজীবী আছেন। তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া সামনে রেখে এই নির্বাচন পেছানোর অনুরোধ করেছিলেন। বার কাউন্সিল তাদের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছে মাত্র। জ্বালানি সংকট বা রাজনৈতিক কারণে নির্বাচন পেছানো হয়েছে-এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই বার কাউন্সিল নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হোক। বার কাউন্সিল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। আইনজীবীদের দাবি এবং নির্বাচনের পরিবেশ নির্ঝঞ্ঝাট রাখতেই বার কাউন্সিল তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা খাটিয়ে এই সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

আ.লীগ আমলে স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করলে শাস্তিমূলক বদলি করা হতো : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করতেন, সুপ্রিমকোর্টের সহায়তায় তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির মাধ্যমে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ-সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর টেবিলে উপস্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শাহজাহান চৌধুরী তার প্রশ্নে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে কী কী আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ছিল এবং সেই সময়ে নিু আদালতের বিচারকদের বদলি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ ছিল, সে ব্যাপারে বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন কী জানতে চাই।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে ফ্যাসিস্ট সরকার বিচারকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যকে মুখ্য মানদণ্ড হিসাবে ব্যবহার করে সুপ্রিমকোর্টের মাধ্যমে দলের প্রতি অনুগত বিচারকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করত। যারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করতেন, সুপ্রিমকোর্টের সহায়তায় তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির মাধ্যমে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম