Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

সংরক্ষিত নারী আসন

আ.লীগ নেত্রী ও সুবিধাভোগী পেল বিএনপির মনোনয়ন

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগ নেত্রী এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার প্রকাশিত ৩৬ জনের তালিকায় গোপালগঞ্জ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)। অন্যদিকে বান্দরবানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ আমলের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এবং বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমাকে। বিএনপির রাজনীতিতে অতীতে তার কখনোই কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের ত্যাগী নেত্রীরা। তারা বলছেন, বছরের পর বছর হামলা-মামলা ও জুলুম-নির্যাতন সহ্য করলেও দলের সুসময়ে আমাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হয়েছে। হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা হাইব্রিড ও ভিন্নমতাদর্শের ব্যক্তিদের এমন মূল্যায়নে ভবিষ্যতে ত্যাগী নেত্রী খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- বান্দরবান : অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে এপিপি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। বান্দরবান জেলা বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা যায়, মাধবী মারমা কখনো বিএনপির কোনো পদে ছিলেন না। মনোনয়নবঞ্চিত জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম লীনা যুগান্তরকে বলেন, দলের সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ত্যাগী নেত্রী খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। রাজপথে খেয়ে-না-খেয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দলের সুসময়ে মূল্যায়ন পাব, এটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দল যেটি ভালো মনে করেছে, সেটি করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির এক সদস্য বলেন, যাকে মনোনীত করা হয়েছে, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর কোথায় ছিলেন। বিএনপিতে তার অবদান কী। দলের জন্য তার কোনো ত্যাগ নেই; বরং তিনি আওয়ামী লীগের মতাদর্শের। জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মুজিবুর রশীদ বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নারী আসনে মনোনয়নের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছিল। দলের নীতিনির্ধারকরা যেটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বান্দরবানের স্থানীয় সংসদ-সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) : সুবর্ণা শিকদারের মনোনয়নকে ঘিরে জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। তারা বলছেন, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা-হামলা সহ্য করেছেন; তাদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে আসা একজন পদধারী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, দলে নতুন কেউ আসতেই পারেন; কিন্তু দীর্ঘদিন অন্য দলের সক্রিয় রাজনীতিতে থেকে হঠাৎ এসে মনোনয়ন পাওয়া দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি অবিচার। যারা বছরের পর বছর নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন, দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে সংগ্রাম করেছেন। তাদের অবদান উপেক্ষা করা হলে দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে। তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সুবর্ণা শিকদার বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের কমিটিতে নিজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন। তবে পাপন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি আরও আগেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমার মেয়ে ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতি করত। অন্যদিকে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নাই। মা সৈয়দা নাখলু আক্তার আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, আর তার মেয়ে আজ বিএনপির সংসদ-সদস্য মনোনীত হলেন।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম