সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ
আবার একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে
জাতীয় সংসদ অধিবেশন
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, দেশে আবার একটা ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা নির্ভয়ে ফেসবুকে লিখতে চাই। আমরা ‘ব্যাক পেজ’ ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু আবার একটা ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, এই সংসদ এত রক্ত, এত লড়াই, এত ত্যাগের পর গঠিত হয়েছে। কিন্তু আশাহত হই যখন দেখি সংসদ আবার আগের সেই ‘ভিসিয়াস সাইকেলে’ ফিরে যাচ্ছে। বিরোধী মত দমনের নামে মামলার যে সাইকেল, আমরা সেখানে আবার চলে গেছি। ক্যাম্পাসগুলো আবার অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিরোধী দল ও মত দমনের জন্য মামলা করা হচ্ছে। এমনকি ফেসবুকে লেখার কারণে প্রতিমন্ত্রীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে, সমালোচনা করলে তুলে নেওয়া হচ্ছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন শেয়ার করে বিভিন্ন স্যাটায়ার বা মকারিকে (উপহাস) প্রমোট করছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল, আওয়ামী লীগের সময় ছিল, তবে সেটা ছিল কেবল ‘সহমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা এই পার্লামেন্টের কাছে কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং ‘দ্বিমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। ক্যাম্পাসগুলোয় আবার অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমি ২০২২ সালে যখন ইউনিভার্সিটি থেকে এসেছি, তখন সেখানে ‘গেস্টরুম’ ও ‘গণরুম’ কালচার ছিল। ক্ষমতাসীন দল শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে তাদের ক্ষমতাকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি করার জন্য বাধ্যতামূলক রাজনীতি করাত। আজ সেখানে আবার সেই কালচার চালু করার প্রয়াস শুরু হয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশে আবার বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছে। তবে সেখানে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সুবিধা পাবে না-পরাজিত শক্তি সুবিধাভোগী হবে।
এটা আমি-ডামির সরকার না-টুকু : বিরোধীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ-সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকার কিন্তু আমি-ডামির সরকার নয়; জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার। কাজেই হিসাব করে পথচলা উচিত। কথায় কথায় বলে ফেলেন নিঃশেষ করে দেবেন, কাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবেন? তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে মোনাফেক বলছি না এই সংসদে। জুলাই সনদ নিয়ে কথা হচ্ছে। আইন পাশ করার জন্যই জনগণ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে। আইনের পক্ষে কথা বলতে আসুন, আইন নিয়ে কথা বলুন।’
আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়, সে কারণেই আমি আজ সংসদে-হুম্মাম কাদের চৌধুরী : রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপিদলীয় সংসদ-সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আমার এখানে থাকার কথা ছিল না। আমার মরহুম বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়েছে। সেই কারণেই আল্লাহর অশেষ দয়ায় আজ আমি এই সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। নিজের নিখোঁজ থাকার সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আয়নাঘর থেকে এই সংসদ পর্যন্ত আসাটা এক লম্বা জার্নি। যে ব্যক্তি টানা ৭ মাস আয়নাঘরে (গোপন বন্দিশালা) বন্দি ছিল, সে নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছে না। আমার এই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, গুম প্রতিরোধে যে নতুন আইনটি হতে যাচ্ছে, সেটি আরও শক্তিশালী হবে।
