Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

ভিসি অপসারণের টানা আন্দোলনে স্থবির পবিপ্রবি

Advertisement

Icon

জলিল রহমান, পটুয়াখালী

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভিসি অপসারণের টানা আন্দোলনে স্থবির পবিপ্রবি

Advertisement

উপাচার্য অপসারণের একদফা দাবিতে টানা আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)। উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে অনড় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সোমবার ৮ দিনে গড়িয়েছে।

একদফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে প্রতিদিনই পালিত হচ্ছে উপাচার্যবিরোধী কর্মসূচি, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সোমবার বেলা ১১টার দিকেও ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনেও তারা সমাবেশ করেছেন। এ সময় উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল। জরুরি সেবা, নথিপত্র ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন শুরুর পর থেকেই উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য ক্যাম্পাসের বাইরে রয়েছেন। এ অবস্থায় আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যপন্থিদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং বর্তমানে তা প্রকাশ্য বিভাজন ও সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে স্বচ্ছতা নেই এবং মতবিরোধ হলেই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শোকজ ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, টেন্ডার, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। সম্প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, হামলার পেছনে উপাচার্যপন্থি একটি গ্রুপ জড়িত ছিল। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে হামলার ঘটনার পর থেকেই আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপিপন্থি হিসাবে পরিচিত অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়নি। বরং নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উন্নয়নকাজের কার্যাদেশ প্রদান এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও অনিয়ম হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অনিয়ম আড়াল করতে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠেছে। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সেনাংশু সরকার কুট্টি যুগান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যারা হামলা করেছে, তারা আমাদের দলের হতে পারে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম