সংসদে শিক্ষামন্ত্রী
স্থায়ী পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন বিবেচনায় আছে
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সারা দেশে স্থায়ী পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে নওগাঁ-৪ আসনের ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা প্রস্তাব অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। সমীক্ষা সম্পন্ন হলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগলিক অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামোর প্রাপ্যতা, জমির প্রাপ্যতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় উপজেলা, জেলা বা আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বতন্ত্র পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রোববার সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
কুমিল্লা-৪ আসনের মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আবাসিক হল নির্মাণ, আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আসন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট বরাদ্দ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ারাধীন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের স্বার্থে ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসনের কারণে আগামী এক বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করার সুযোগ নেই।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের আব্দুস সামাদ আজাদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ও বদ্ধপরিকর। যশোর-৪ আসনের গোলাম রসুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিষ্পন্ন প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এককালীন অতিরিক্ত তিন হাজার ১৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন। সিলেট-৫ আসনের মোহাম্মদ আবুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট এবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা আট হাজার ৪৮৪টি। এক হাজার ৩২৭টি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী সব মানদণ্ড সঠিক পাওয়া গেলে ক্রমান্নয়ে ভবিষ্যতে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে আট হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। রংপুর-৫ আসনের গোলাম রব্বানীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, বর্তমানে দেশে দুই হাজার ৪০৫টি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৭৩টি স্কুল, ১৭৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৪৫৬টি কলেজ রয়েছে।
