Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

পরিবহণ সংকটে ডিএমপির অধিকাংশ থানা

ফিটনেসবিহীন গাড়িতে দায়িত্ব পালনে ভোগান্তি

Advertisement

রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফিটনেসবিহীন গাড়িতে দায়িত্ব পালনে ভোগান্তি

Advertisement

পরিবহণ সংকটে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির অধিকাংশ থানা। ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো পরিবহণে চলছে অপরাধ দমন, রাত্রিকালীন ডিউটি পালন, আসামি গ্রেফতার, মামলার তদন্ত, আদালতে হাজিরাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা। বাধ্য হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলায় নিজস্ব অর্থায়নে লেগুনা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে ক্ষুব্ধ থানার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

তাদের দাবি-২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঢাকার অপরাধ। হত্যা, খুন, ছিনতাই বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। এমন অবস্থায় থানা-ফাঁড়িতে নেই প্রয়োজনের তুলনায় পরিবহণ। যেগুলো রয়েছে-তার বেশির ভাগ পুরোনো। অধিকাংশের নেই ফিটনেস। নষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে-পুলিশের সেবা আরও তলানিতে ঠেকবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী যুগান্তরকে বলেন, ‘থানাগুলোতে পরিবহণ সংকট সমাধানে ইতোমধ্যে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বরাবর একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। হেডকোয়ার্টার্স চিঠিগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো রেসপন্স পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু পরিবহণ দেওয়ার কথা রয়েছে। দিলে এ সংকট কেটে যাবে।’

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন মোট থানার সংখ্যা ৫০। এসব থানায় অপরাধ দমন ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ১ হাজার ৩৭০ গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে পুরাতন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৮০০টি। অথচ ডিএমপির বিভিন্ন থানায় প্রয়োজন ২৬০০ গাড়ি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অর্ধেক পরিবহণ নিয়ে থানাগুলোর মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর সব থানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। থানাগুলোতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। করা হয় অগ্নিসংযোগ। ওই সময় অন্তত ১৬০টি গাড়ি ও চার শতাধিক মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির পরিবর্তে নতুন গাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। সে সময় কয়েক ধাপে ৭১টি নতুন গাড়ি দেওয়া হয়। তবে ৮৯টি গাড়ি ও ৪ শতাধিক মোটরসাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি।

বিভিন্ন থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জানান, ঢাকায় অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সরব হয়েছে। তাদের আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ড। এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বেড়ে গেছে। বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অল্প জনবল ও পরিবহণ সংকট মাথায় নিয়ে কাজ করছেন তারা।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যুগান্তরকে বলেন, ‘পরিবহণ সংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়। বহু বছর ধরে এ সমস্যা বিদ্যমান। তাই অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা, অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আশা ও মামলার তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাত্রিকালীন ডিউটির সময় মাঝপথে গাড়ি নষ্ট হলে বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শুনেছি এই সংকট নিরসনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কয়েক ধাপে প্রায় ১ হাজার ডাবল কেবিন পিকআপের চাহিদা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমার থানায় ৪টা ডিউটি গাড়ি আছে। এর মধ্যে পুরোনো গাড়ি রয়েছে। পুরোনোগুলোতে মাঝে মধ্যেই সমস্যা দেখা দেয়। তবে ঠিকঠাক করে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক বলেন, ‘ডিউটি পালনে আমাদের থানায় ৫টা গাড়ি আছে। এসব গাড়ি ২৪ ঘণ্টা ডিউটি কাজে ব্যবহার হয়। তাই মাঝেমধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। এতে দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছে। এই থানায় গাড়ি বৃদ্ধি করলে দায়িত্ব পালনে সুবিধা হবে।’

এদিকে রাজধানীর প্রতিটি থানায় সরকারি গাড়ি ব্যবহারে বৈষম্যের স্বীকার ইন্সপেক্টর তদন্ত ও ইন্সপেক্টর অপারেশনস পদে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর তদন্ত ও ইন্সপেক্টর অপারেশনস থানার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। দায়িত্ব পালনে তাদের সরকারি পরিবহণ পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে-সংকটের কারণে শুধুমাত্র থানার অফিসার ইনচার্জ এসব সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমপির এক থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) যুগান্তরকে বলেন, থানায় যে পুরোনো সিঙ্গেল কেবিন গাড়ি রয়েছে-তা সবগুলো ডিএমপির নয়। দানের গাড়িও রয়েছে। অথচ এসব সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম