অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতের নির্দেশ
ধানমন্ডিতে আর যত্রতত্র বাণিজ্যিক অনুমতি নয়
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর অন্যতম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা ধানমন্ডিতে আর ‘যত্রতত্র’ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না। অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের লাগাম টানতে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ব্যবহার নীতিমালা সংশোধন, হালনাগাদ ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, এলাকার ট্রাফিক জট নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। এ লক্ষ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের এক সভায় অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা চিহ্নিতকরণ, পার্কিং ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং যুগোপযোগী নতুন নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, ধানমন্ডির বিভিন্ন আবাসিক ভবন অনুমোদনের সীমা অতিক্রম করে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে এলাকার পরিকল্পিত আবাসিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যানজট, পার্কিং সংকট, শব্দদূষণ ও জনভোগান্তি বেড়েছে। ফলে বিদ্যমান নীতিমালাকে একটি সুসংহত, নিয়ন্ত্রিত ও সময়োপযোগী কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের ওই সভায় ধানমণ্ডির বাণিজ্যিক ব্যবহার নীতিমালার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৫ সালের নীতিমালা পরিপন্থি কোনো বাণিজ্যিক ব্যবহার বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্লটকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নিতে হবে।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই সভার কার্যবিবরণী অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যবহারে অনিয়ম ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ (বিবিআরএ), রাজউকের মাস্টার প্ল্যান ও প্রাসঙ্গিক আইন-বিধির আলোকে হালনাগাদ বাণিজ্যিক নীতিমালা প্রণয়নের জন্য দ্রুত একটি কমিটি গঠন করতে হবে এবং নীতিমালা প্রণয়নের আগে অংশীজনের মতামত নিতে হবে। এই কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।
এ প্রসঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজউকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যমান নীতিমালার কিছু ধারা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য নয়। একই সঙ্গে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা, পরিবেশগত প্রভাব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত নগরায়নের বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে পুরোনো নীতিমালাটি হালনাগাদ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ, রাজউকের মাস্টার প্ল্যান এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন, বিধি ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। এর ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে এবং আবাসিক এলাকার পরিবেশ, নাগরিক সুবিধা এবং জীবযাত্রার মানও সংরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ধানমণ্ডি এলাকায় অনুমোদিত বাণিজ্যিক প্লট ছাড়া কিছু আবাসিক ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘসময় যানজট লেগে থাকে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নতুন কোনো বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পার্কিং, প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সুবিধা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত বাধ্যতামূলকভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

