Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রাজশাহী বিভাগ

ছয় মাসে আক্রান্ত ৪৯৮ * শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু * প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারের দাবি

Advertisement

আনু মোস্তফা

আনু মোস্তফা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রাজশাহী বিভাগ

Advertisement

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই রাজশাহীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন। ফলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে লোকজন। তীব্র জ্বর ও শরীরে ব্যথা নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন হাসপাতালে। জ্বরের পর রক্ত পরীক্ষায় অনেকের শনাক্ত ডেঙ্গু হচ্ছে। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী-রাজশাহী মহানগরী এলাকার অনেক বাসা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বারবার সতর্ক করার পরও সংশ্লিষ্টরা সচেতন না হওয়ায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে লোকজন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেঙ্গু বিস্তারে উচ্চ ঝুঁকির নির্ধারিত সীমার অনেক বেশি ঝুঁকিতে অবস্থান করছে মহানগরী। চলতি বর্ষায় রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজশাহী মহানগরী এলাকার ৭৫টি বাসাবাড়ির ১৫টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। একই সময়ে ৫২টি পানির পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেঙ্গু ঝুঁকি নির্ধারণী সীমা ২০-এর অধিক হলে সেটিকে উচ্চ ঝুঁকি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সেই বিবেচনায় মহানগরী ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। এতে এডিস লার্ভার প্রজনন ক্ষেত্র বাড়ার আশঙ্কাও বেশি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যানুযায়ী-গত জানুয়ারিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ মহানগর ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি জেলায় শুরু হয়েছিল। ওই সময় প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতো।

জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বগুড়ায় ১৪৭ জন, সিরাজগঞ্জে ৮৯ জন, রাজশাহীতে ৮২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ জনসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার ১১টি হাসপাতালে ৪৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে এ সংখ্যা পাঁচ শতাধিক বলে জানা গেছে। ৯ জুলাইয়ের হালনাগাদ হিসাবে চলতি মৌসুমে বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার শূন্য দেখানো হলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্যে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। ৫ জুন রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ডেঙ্গুতে দেড় বছরের শিশু তাইবা মারা যায়। এর আগে শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর হামের ধকল কাটিয়ে উঠলেও হাসপাতাল ছাড়ার আগেই সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। আইসিইউতে তিনদিন চিকিৎসার পর সে মারা যায়। বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তরা চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে এখনো বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন। তবে বিভাগের কোথাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কারও মৃত্যুর খবর নেই। রামেক হাসপাতালে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যুর খবরটি তাদের হিসাবভুক্ত নয়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, নিজেদের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও জঙ্গল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে ওষধু ছিটাতে হবে। মশার উপদ্রুব থাকলে মশারি ব্যবহার করা উচিত। রামেক হাসপাতালে বর্তমানে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রেজাউল করিম জানান, বর্ষাকালে অনেকের জ্বর হচ্ছে। তবে যেহেতু ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ জ্বর ও তীব্র মাথা ব্যথা। তাই কারো জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করা উচিত। জ্বরের তীব্রতা বাড়লে হাসপাতালে ভর্তিরও পরামর্শ দেন তিনি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম