Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

আলোর পথে আনোয়ারার চীনা ইকোনমিক জোন

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাল * সৃষ্টি হবে দুই লাখের বেশি কর্মসংস্থান * লোকসানে কর্ণফুলী টানেল

Advertisement

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের এক দশক পর আগামীকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এদিকে চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চলের দুই কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী টানেল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম যানবাহন চলাচল করায় কর্তৃপক্ষকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে এ শিল্পাঞ্চল চালু হলে লোকসান ঘুচবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এখানে তৈরি পোশাক, ওষুধ, স্বাস্থ্য সরঞ্জাম, গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, প্লাস্টিক পণ্য তৈরি হবে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফার্নেস ও সিমেন্টসহ ৩৭১টি শিল্প-কারখানা তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক বলেন, আনোয়ারা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কৌশলগত শিল্প হাব হওয়ার পথে। এ অঞ্চলের আশপাশে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কর্ণফুলী টানেল। চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল নির্মাণের ফলে কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহার যেমন বাড়বে তেমনি আনোয়ারা তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে ৭৮৩ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থাপনায় চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘন মিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৪ দশমিক ২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, দৈনিক ৬০ টন সক্ষমতার সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, ১২ কিলোমিটার বাউন্ডারি ওয়াল এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সফরকালে চীনা ইকোনমিক জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ সময় ঠিক করা হয়-জোনের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে চায়না হারবারের চুক্তি না হওয়ায় জোনের উন্নয়ন কাজ তেমন হয়নি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানি বাজার চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে নতুন করে আগ্রহ দেখায়। এরপর বর্তমান নির্বাচিত সরকার চীনের সঙ্গে ব্যবসাবান্ধব সম্পর্ক গভীর করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : আগামীকাল সোমবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। অনুষ্ঠানে একটি সাব-লিজ চুক্তি সই হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সিইআইজেড প্রকল্পের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হবে। এরপর সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ানস্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হবে।

কর্ণফুলী টানেল : কর্ণফুলী টানেল চালুর তিন বছরেও একদিনের জন্যও পূর্বাভাস অনুযায়ী গাড়ি চলাচল করেনি। সমীক্ষায় বলা হয়-২০২০ সালে টানেল চালু হলে দিনে ২০ হাজার ৭১৯টি যানবাহন চলবে। পরে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার ৪৮৫টি গাড়ি চলার পূর্বাভাস দেয়। ২০২৫ সালে পুরো বছরে ১৯ হাজার ৬৬৯টি যানবাহন চলেছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল তৈরির কাজ শেষ হলে ব্যস্ত সড়কে পরিণত হবে টানেল। এজন্য আরও ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম