Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

আইএমইডির মূল্যায়ন

কাঠামোগত ১৮ দুর্বলতায় আটকা উন্নয়ন প্রকল্প

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ১৮টি কাঠামোগত দুর্বলতাকে দায়ী করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এর মতে, প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা ও অর্থায়নের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি অনেকাংশে ঠেকানো সম্ভব। এজন্য ডিপিপি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা আনার সুপারিশ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশ’ শীর্ষক উপস্থাপনায় এসব তথ্য তুলে ধরে আইএমইডি। সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শকিল আখতার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রকল্প পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অনুমোদন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ, ক্রয় ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়ন-পরবর্তী মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করছে। মাঠপর্যায়ের পরিবীক্ষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। 

আইএমইডির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বড় বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিকল্পনা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয় না। আবার অনেক সমীক্ষা স্বাধীন ও অভিজ্ঞ পরামর্শকের মাধ্যমে পরিচালিত না হওয়ায় এর মান নিয়েও প্রশ্ন থাকে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি, কাজের গতি কমে যাওয়া এবং একাধিকবার প্রকল্প সংশোধনের প্রয়োজন হয়। এ অবস্থার পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা, স্বাধীন কারিগরি কমিটির মাধ্যমে তা যাচাই এবং সমীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে পৃথক স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করেছে আইএমইডি। 

প্রতিবেদনে ভূমি অধিগ্রহণকে প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মালিকানা বিরোধ, ক্ষতিপূরণ প্রদান, বাজারমূল্য নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে অধিকাংশ প্রকল্পেই ভূমি অধিগ্রহণ দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয় না এবং প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি এড়াতে ভূমি অধিগ্রহণ ও ড্রইং-ডিজাইন সম্পন্ন না করে কোনো প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়া, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সময়াবদ্ধ করা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একাধিক দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে আইএমইডি। এর মতে, অনেক প্রকল্পে অর্থের উৎস নিশ্চিত না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর ব্যয়সীমা বিবেচনা করা হয় না এবং ডিপিপিতে নির্ধারিত ব্যয়ের সঙ্গে এডিপির বরাদ্দের সামঞ্জস্যও থাকে না। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাঝপথে অর্থসংকট তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রকল্প সংশোধন বা অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন পড়ে। তাই প্রকল্প অনুমোদনের আগেই অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করা, ব্যয়সীমা অনুসরণ এবং অর্থবছরভিত্তিক ব্যয় ও এডিপি বরাদ্দের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া প্রকল্প প্রণয়নের সময় যথাযথ ক্রয় কৌশল ও ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন না করা, উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরও সময়মতো ডিপিপি বা টিএপিপি প্রস্তুত না হওয়া, প্রকল্প সমাপ্তির পর অর্থনৈতিক মূল্যায়ন না করা এবং ফলাফলভিত্তিক পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতিকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইএমইডির মতে, প্রকল্প পরিকল্পনার শুরু থেকেই এসব সংস্কার কার্যকর করা গেলে উন্নয়ন প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বাড়বে, প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং উন্নয়ন ব্যয়ের কাঙ্ক্ষিত সুফলও দ্রুত পাওয়া যাবে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম