Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

রক্তাক্ত জুলাই

মঠবাড়িয়ায় অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে আবু জাফরের পরিবার

Icon

আব্দুস সালাম আজাদী, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মঠবাড়িয়ায় অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে আবু জাফরের পরিবার

‘আমার ছোট ভাই বাসের চালক ছিল। কর্মস্থলে হেঁটে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হলো। তার তো কোনো অপরাধ ছিল না,’ জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রাজধানীর গোলাপবাগ এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত বাসচালক আবু জাফর ওরফে বাদশার বিষয়ে এভাবে বলছিলেন তার ভাই বেলায়েত হাওলাদার। পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন জাফরকে হারিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে তাদের। জানা গেছে, জাফরের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট মাছুয়া গ্রামে। পরিবারের ছোট ছেলে জাফর বাড়িতে স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। রাজধানীতে শ্যামলী পরিবহণ কোম্পানির বাসের চালক ছিলেন তিনি। ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর গোলাপবাগে আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হন। ১৯ জুলাই রাতে গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করা হয়।

বুধবার তার বাড়িতে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়। দুপুরে জাফরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে বৃদ্ধা মা সেতারা বেগমকে ছেলে হারানোর কথা জিজ্ঞেস করতেই হাউমাউ করে কান্নাকাটি শুরু করেন। স্বামী জাফরের মৃত্যুর কথা স্মরণ করতেই শোকে পাথর হয়ে আছেন হাসিনা বেগম। স্বজনরা জানান, জাফরের আয়েই সংসার চলত। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বসতবাড়িটি ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদও নেই।

জাফরের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় শ্যামলী পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ে মঠবাড়িয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। পরদিন বিকালে ফোন করে জাফরকে বাস কাউন্টারে যেতে বলেন পরিবহণটির কর্মকর্তারা। ফোন পেয়ে ওইদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকার বাসা থেকে বের হয়ে হেঁটে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পরে রাজধানীর গোলাপবাগ এলাকায় পৌঁছানোর পর পুলিশের ছোড়া গুলি এসে তার গলা ও বুকে বিদ্ধ হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলে সড়কের ওপর লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের পথচারীরা উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

পথচারী এক নারীর কাছ থেকে মোবাইলে জাফরের মৃত্যুর খবর পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্বজনরা জাফরের লাশ শনাক্ত করে বাড়িতে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .