সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম
খুলনায় ফাঁসছেন পিডিসহ পাঁচ কর্মকর্তা
আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, অযৌক্তিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আরমান হোসেনসহ অন্তত ৫ কর্মকর্তা ফেঁসে যাচ্ছেন। তদন্ত কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। ইতোমধ্যে এ সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পরিকল্পনা বিভাগের পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৯ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) বাস্তবায়নাধীন ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয় উঠে আসে।
তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব এবং অযৌক্তিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত কেডিএ-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের জন্য সরকারি (জিওবি) বরাদ্দ থেকে কেডিএ-এর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তর করা ১ হাজার ৩১৫ লাখ টাকা সুদসহ দ্রুত সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। এছাড়া জিওবি বরাদ্দের আরও ১ হাজার ৩৫১ লাখ টাকা প্রায় দুই বছর কেডিএ-এর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তর করে রাখাকে আর্থিক শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ হিসাবে উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটি আরও বলেছে, প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ২৫৩ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরকারি অনুদানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেক অনুমোদন দিলেও জিওবি অর্থায়নের ধরন ঋণ নাকি অনুদান, এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নেওয়া হয়নি। ফলে তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের আগে অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রকল্পটিকে জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে উল্লেখ করে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কঠোর তদারকির মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্য পরিকল্পনা বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। কেডিএ-এর সূত্র জানিয়েছে, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় ২৫৯ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। সবশষে ৯ জুন প্রকল্পের তৃতীয় দফা সংশোধন ২০১৫ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। এ বিষয়ে কেডিএ-এর চেয়ারম্যান ও নগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেখানে কেডিএ-এর এক কর্মকর্তা ছিল। তারা একটি সুপারিশ জমা দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে ৫ জনকে দোষী করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। চিঠি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চেষ্টা করছি জনভোগান্তি রোধে দ্রুত শিপইয়ার্ড সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করতে।
