Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

ইংরেজিতে কথা বলে ১৮ মাস বয়সেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

বাবা-মায়ের উৎসাহে দক্ষতা অর্জন করেছে মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল

Icon

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইংরেজিতে কথা বলে ১৮ মাস বয়সেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

মাত্র ১৮ মাস বয়সেই ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে খাগড়াছড়ির শিশু মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাবা-মায়ের নিয়মিত অনুশীলন ও উৎসাহে সে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা অর্জন করেছে। এই অসাধারণ প্রতিভার স্বীকৃতি হিসাবে তাকে সম্মাননা দিয়েছে এশিয়া বুক অব রেকর্ডস। এ স্বীকৃতি পাওয়ার সময় শেহজাদের বয়স ছিল ১৮ মাস। ২০২৩ সালে ৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী শেহজাদের বয়স এখন দুই বছর তিন মাস। শেহজাদের বাবা-মা জানান, শুরু থেকেই শেহজাদের শেখার আগ্রহ ছিল অসাধারণ। খেলাধুলার ফাঁকে ফাঁকেই তারা ইংরেজি শব্দ ও বাক্য শেখাতেন। ধীরে ধীরে সে শব্দগুলো আয়ত্ত করে স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজিতে কথা বলতে শুরু করে। পেশায় ফ্রিল্যান্সার শেহজাদের বাবা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ছয় মাস যখন ওর বয়স, তখন থেকেই আমরা প্ল্যান করি যে, ওকে আমরা ইংরেজিতে দক্ষ করব। তখন ও কিছুই বলতে জানত না, কিন্তু আমরা ওর আশপাশে সব সময় ইংরেজি বলতাম। কারণ আমরা জানতাম, যখন কিছু বলব, তখন সে শুনবে। আর এভাবেই আমরা চলতে থাকি। আমরা বাংলায় কথা না বলে, ইংরেজিতেই বলতাম। এভাবে বলতে বলতে দেখলাম শেহজাদ আসলে ইংলিশটা খুব সুন্দরভাবে ধরে ফেলছে। যখন ওর ১৫ মাস বয়স, দেখলাম আমাদের ঘরের টোটাল অ্যাক্টিভিটিসগুলো, সবকিছু ও বলতে পারে। আমরা দেখতে পেলাম যে, ইংরেজিতে শব্দ বললে সে মোটামুটি আইডেন্টিফাই করতে পারছে। অনেকগুলো অ্যানিমেলস, তারপর ট্রিজ, টয়েজ। ওর ১৫ মাস বয়সে বিভিন্ন ভিডিও আমরা রেকর্ড করে এশিয়া বুকস অব রেকর্ডে পাঠাই, তারা যাচাই-বাছাই শেষে শেহজাদকে গ্র্যান্ড মাস্টার স্বীকৃতি দেয়। আমার স্ত্রী প্রচণ্ড পরিশ্রম করছে ওর পেছনে। আরও একটা ব্যাপার হচ্ছে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা এবং আরবিতে সুরা ইয়াসিন পুরোটাই পারে। সব মিলিয়ে এটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার। আমরা চাই সে আরও বড় বড় এ রকম কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের ইচ্ছা আছে যে, বাইরের যত বড় বড় কম্পিটিশন হোক এবং সেটা যত দূরে হোক, একদম চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-যেখানেই যাওয়া দরকার, আমাদের প্রয়োজনে টাকা না থাকলে ঋণ করে হলেও আমরা যাব।

শেহজাদের মা তানিয়া খলিল বলেন, ‘ওর ১০-১১ মাস বয়সে আমরা দেখলাম যে, প্রথম ওয়ার্ডগুলো ইংরেজিতে বলতে শুরু করেছে। তো এটা আমাদের আরও মোটিভেট করে, আমরা আরও ইন্সপায়ার হই যে, এটা কন্টিনিউ করা যায়। এরপর যখন ওর ১৪, ১৫ মাস বয়স হয়, মোটামুটি ও বাসার যত অ্যাক্সেসরিজ আছে, তারপর বিভিন্ন প্রাণীর নাম, ফলের নাম, ভেজিটেবলস, ঘরের সব অ্যাক্সেসরিজ সবকিছুই ও ইংরেজিতে আইডেন্টিফাই করতে পারত। আমরা কোনো সেন্টেন্স বললে সহজেই ওটা বুঝতে পারত। তখন আমাদের কাছে এ বিষয়টা একটু ইউনিক মনে হয়েছে। এশিয়া বুকস অব রেকর্ডসের তখন খোঁজ পাই এবং সঙ্গে সঙ্গে আমরা ওখানে আবেদন করি। ওর যখন ১৮ মাস বয়স তখন আমাদের কাছে মেইল আসে যে, ও গ্র্যান্ডমাস্টার স্বীকৃতি পেয়েছে। অ্যাজ এ প্যারেন্টস, এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের ছিল। এত ছোট বয়সে এই স্বীকৃতি আমাদের গর্বিত করেছে। ও ভালো মানুষ হোক-এটাই আমাদের বড় চাওয়া। পাশাপাশি ওর ইংরেজির চর্চাটা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .